বিশ্বকবির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৭মে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে শিশুদের মহামিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বিকেল ৪টায় অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অর্ধশত প্রশিক্ষণার্থী শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, নৃত্য, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা 'বীরপুরুষ' অবলম্বনে নাটক মঞ্চস্থ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব তারিক-উল-ইসলাম। আকর্ষণীয় এই অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান ও দেশবরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব ফালগুনী হামিদ। জমকালো এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩২৫ জন অভিভাবক ও ৫৩০ জন শিশু প্রাণভরে উপভোগ করেন এবং মুগ্ধ হন।

 

ইউ আই টি এফ, বিবিএ ৪র্থ সেমিস্টার, বারিধারা-ঢাকা


Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





সকল প্রাইভেট গাড়ী যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করে দিতে হবে। ছোট গাড়ীগুলো যেমন এর আরোহীর তুলনায় বেশি জায়গা দখল করে যানজটের সৃষ্টি করছে,তেমনি ঘটাচ্ছে পরিবেশ দূষণএমন মন্তব্য কনফারেন্সের অনেককেই চমকে দিয়েছিল। ইউরোপের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর এ সচেতনতা আমার মধ্যে একটি বিশেষ বোধের সঞ্চার ঘটায়। বারবার মনে হয় এমন ভাবনা তো দিনব্যাপী যানজটের এবং অমানবিক পরিবেশ দূষণের এই শহরে আমাদের মাথাতে আগে আসা  উচিত ছিল। এমন একটি ভাবনার সঞ্চারক কাজটির নাম Agenda21Now কনফারেন্স। ২৪ ঘন্টার এ কনফারেন্স প্রধানত ১৪+বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের জন্য। কনফারেন্সের এবারের বিষয় ছিল: বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ।

উষ্ণায়ণএই মুহূর্তে সমগ্র পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী চলছে প্রস্তুতি। বিষয়টিকে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভাবনায় আনতে গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী অনলাইনে এ আয়োজন। কনফারেন্সটি মূলত পরিচালিত হয় জার্মানির হামবোল্ড জিমনেশিয়াম ট্রায়ার স্কুলসহ ইউরোপের আরও ৫টি স্কুলের যৌথ উদ্যোগে। ইউনেস্কোর অ্যাসোসিয়েটেড স্কুল প্রোজেক্ট নেটওয়ার্ক (ASPnet) নিয়ন্ত্রিত এ কনফারেন্সে প্রতি বছর কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনলাইনে মত বিনিময় করে থাকেন। প্রাপ্ত অভিমতগুলোকে ইউনেস্কোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয় বিবেচনার জন্য।

বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে ইন্টারনেটের ব্যাপ্তি যখন সারা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে তুলছিল তখন শিক্ষার্থীদের জন্য  নব্য আবিষ্কৃত এ প্রযুক্তিকে ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জার্মানির স্কুল শিক্ষক মার্টিন জারাথ তাঁর কয়েকজন সহকর্মী শিক্ষকসহ এ বিষয়ে প্রথম ভাবনা  শুরু করেন।  ১৯৯৮ সালে শুরু সে সকল ভাবনার ফসল হল Agenda21Now কনফারেন্স।  প্রথম কনফারেন্স হয়েছিল ২০০০ সালে। গত বছর কনফারেন্সের ১০ম বর্ষপূর্তি হয়েছে। এবার হলো ১১তম কনফারেন্স।

কনফারেন্সের নাম Agenda21Now হওয়ার সাথে জড়িয়ে আছে ১৯৯২ সালে রিওডি-জেনিরোতে সংঘটিত ধরিত্রী সম্মেলনের ঐ এজেন্ডাটি।  সে সম্মেলনের ২১ নম্বর এজেন্ডাটি ছিল পৃথিবীর জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। বলা হয়েছিল সকলকে সাবধান হতে। আর তাই Agenda21Now কনফারেন্সে জোর দেওয়া হয় তা দ্রুত বাস্তবায়নের উপর। বলা হয় আর দেরী করা নয়, এখনই। দশম কনফারেন্সের বিষয় ছিল Education is Future: What is the Future of Education. এর আগের বছরগুলোতে বিষয় হয়েছে: Floods and Desert, Borders and Diversity, Transport and Communicatio  ইত্যাদি।

আমার সাথে এজেন্ডার কনফারেন্সের যোগাযোগ ২০০৭ সাল থেকে। যেহেতু আমি নিজে ২০০২ সাল থেকে ইউনেস্কোর ASPnet কার্যক্রমের সাথে যুক্ত, তাই কনফারেন্সের সন্ধান পেতেই আর দেরী করিনি নিজেকে যুক্ত করতে। সাথে সাথে সম্পৃক্ত করেছি আমার ছাত্রছাত্রীদেরকেও। প্রথমবার ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কম থাকলেও ক্রমে তা বেড়েছে। তবে খেয়াল করেছি ছেলেমেয়েরা খুব উৎসাহ নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করে। অনলাইনে নিজের ভাবনাকে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রকাশের ব্যাপারটি তাদের কাছে ছিল মজাদার এবং একই সাথে চ্যালেঞ্জিং। ২০০৯ সালের কনফারেন্সটি বাংলাদেশের জন্য বেশ তাৎপর্যময় ছিল। সেবার কনফারেন্সের মূল দল হেডেনবার্গ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দাবী ছিল তারা আমার কর্মস্থলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করবে। ব্যাপারটি জার্মান এ্যাম্বাসিকে জানালে এ্যাম্বাসির কালচারাল এ্যাটাসি সেলিন রিড কনফারেন্স চলাকালে কলেজে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন যা ছিল রীতিমতো উদ্দীপক একটি ব্যাপার।

২০০৭ সাল থেকেই কনফারেন্সে ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠিত করে অনলাইন এ কনফারেন্সে সম্পৃক্ত করাতে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কারণ নিজের অভিজ্ঞতাতে আমার খুব মনে হয়েছে এতে যে কয়জন অংশ নেবে তারা খানিকটা হলেও অগ্রসর নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। আমার বিবেচনায় কনফারেন্সের ইতিবাচক যে দিকগুলো রয়েছে সেগুলো হলো এটি অনলাইনে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ব্যবহার করতে শিখবে। এছাড়া অনলাইন বিষয়কে স্কুল পড়ুয়াদের উপযুক্ত করে এতে উপস্থাপন করা হয়। এতে ইন্টারনেটের টেকনিক্যাল বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে বরং কনফারেন্সের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করায় তারা অন্য সংস্কৃতির মানুষের সাথে সহনশীল আলাপনে অভ্যস্ত হয়। ঘটনাক্রমে ২০০৭ সাল থেকেই আমি একই সাথে এ কনফারেন্সের এক্সপার্ট হিসেবেও কাজ করে চলেছি। আমার প্রোফাইল ও ইউনেস্কো কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই কনফারেন্স কমিটি আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। প্রত্যেক বছরই জনা তিনেক এক্সপার্টকে সে কমিটি সম্পৃক্ত করে থাকে। এবার আমার সাথে ছিলেন জার্মানির সিতাহ্ ও নিউজিল্যান্ডের জন। এক্সপার্টদের কাজ হলো অনলাইনে ২৪ ঘন্টায় সারা পৃথিবীর স্কুলপড়ুয়ারা বিষয়ভিত্তিক যে মতবিনিময় করে থাকে তাতে যথাপোযুক্ত নির্দেশনা দেওয়া, প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ করা। কখনও মতদ্বৈততা সৃষ্টি হলে সমাধান করা। সন্দেহ নেই এক্সপার্টের  কাজটিও বেশ প্রীতিকর এবং একই সাথে উত্তেজনাকরও বটে।      

প্রতি বছর এপ্রিল/মে মাসের দিকে সুবিধামতো একটি দিনে কনফারেন্স পরিচালিত হয়। বিষয় আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয় যাতে অংশগ্রহণকারীরা সে বিষয় খানিকটা ধারণা পূবের্ই নিয়ে রাখতে পারে এবং সে সম্পর্কে নিজের বিশেষ ভাবনাকে গুছিয়ে রাখতে পারে প্রকাশের জন্য। প্রথম বছরে মোট মাত্র ৩৫০জন অংশগ্রহণ করে থাকলেও দ্বিতীয় বছরে তা উন্নীত হয়ে দাঁড়ায় ১,২০০ যারা ছিল পৃথিবীর ৪০টি দেশের। আর এখন তো অংশগ্রহণ করে কয়েক হাজার।

এবার কনফারেন্স শুরু হয়েছিল ২৮ এপ্রিল ইউটিসি সময় ১৬:০০ বা অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়। চলেছে ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত। গত বছর পর্যন্ত ইউটিসি সময় ০০:০০ বা বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা থেকে কনফারেন্স শুরু হতো। অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সময়ের এই পরিবর্তন। সারা পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে তাই ২৪ ঘন্টার এক সৌরদিবস ধরে কনফারেন্সটি চলতে থাকে। তবে আগ্রহীদের অবশ্যই আগেভাগেই রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়। ১৪ বছরের বেশি যেকোন শিক্ষার্থীই রেজিষ্ট্রেশনের অধিকার রাখে। এতে শিক্ষকরাও থাকতে পারেন। তবে আবশ্যিক হলো অংশগ্রহণকারীর ইন্টারনেটযুক্ত একটি কম্পিউটার আর কনফারেন্স যেহেতু আন্তর্জাতিক তাই যোগাযোগের ভাষা ইংরেজি সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান ।

মূল কনফারেন্সে দুটি ছিল প্রধান বিষয়: অতীত ও বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ এবং টেকসইভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ মোকাবেলা করা। ওয়ার্কশপ রুমের বিষয় ছিল: আমাদের করণীয়। মোট ১১২ টি থ্রেডে ১১০৭ মন্তব্য পড়েছে। প্রাসঙ্গিক হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর থিম্পু প্রস্তাব নিয়েও।

রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে না ভেবেও বলা যায় সারা পৃথিবী যেখানে ডিজিটাইজেশনের পথে, আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো আর সে পথে অগ্রসরণে এজেন্ডা২১কনফারেন্স ছোট হলেও ছিল অসাধারণ এক পদক্ষেপ। আগামী নভেম্বরে মেক্সিকোতে অনুষিঠতব্য COP 16 (Conference of the Parties) সম্পর্কে ছোটরা কিন্তু বলেছে এত টাকা খরচ করে, সময় নষ্ট করে সবার মেক্সিকোতে কনফারেন্স করতে যাওয়ার দরকার কী! Agenda21Now কনফারেন্সের মতো অনলাইনে সবাই বসলেই হয়! ডিজিটাইজেশনের পৃথিবীতে ছোটদের এমন কথা ফেলে দেওয়ার দুঃসাহস কি বড় বড় রাষ্ট্রনেতাদের আছে!



লেখক: এজেন্ডা ২১নাউ কনফারেন্সের ২০০৭-২০১০ এর এক্সপার্ট। ইমেইল: subratakdas@yahoo.com

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com