(এটা একটি গল্প। এর সঙ্গে কারো চরিত্র মিলে গেলে লেখক বা সম্পাদক দায়ী নয়)

অসচেতন স্যারদের জন্য এটি। এটি পড়ে যদি খারাপ লাগে তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার লেখার উদ্দেশ্য হল, কিছু কিছু স্কুলে
শিক্ষকরা ক্লাশ করতে গিয়ে অনবরত কথা বলতে থাকেন। গ্রামের স্কুলের ছেলে মেয়েরা এমনিতে কিছু লেখাপড়া কম করে। তার ওপর
শিক্ষকদের সময়ের এ অপব্যবহার। তাই সব অসচেতন শিক্ষদের প্রতি আমার অনুরোধ যে, কেউ ক্লাশে মোবাইল নিয়ে আসবেন না। আমার
এ লেখা পড়ে যাদের খারাপ লাগবে তারা আশির্বাদ করবেন না জানি। কিন্তু অন্তত পক্ষে আমাকে কুআশির্বাদ করবেন না।

বর্তমান অবস্থা

শিক্ষক : কেমন আছ ছাত্র-ছাত্রীরা?

ছাত্র-ছাত্রী: আমরা সবাই ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

ভালো আছি। আজকে তোমাদের সুন্দর ব্যবহার, শিষ্টাচার সম্পর্কে কিছু কথা বলব। যেমন সুন্দর ব্যবহার বলতে বড়দের সম্মান করা, তাদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করা। কারো কাজে ব্যাঘাত না ঘটানো, কারো সাথে মিথ্যা না বলা। তোমরা কিন্তু কেউ ক্লাশে মোবাইল আনবে না।

স্যার, আপনার মোবাইলে কল এসেছে।

হ্যালো, বন্ধু তুমি কেমন আছ? কেন কল করেছ?

আমি ভালো আছি। তোমার সাথে একটি কাজ আছে। ঐ বলেছিলাম না....

বন্ধু, মনে আছে। কিন্তু এখন আমি তোমাকে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি অফিস রুমে। সব স্যার-ম্যাডামের সামনে। আসতেও পারব না। আমার শরীরটা ভালো নয়। ঠিক আছে, এখন রাখি।

ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে বলতে লাগল। আমাদের মিথ্যা বলতে না করেছেন। কিন্তু স্যার এখন নিজেই মিথ্যা কথা বলেছেন। মোবাইল আনতে নিষেধ করেছেন। অথচ তিনি নিজেই ক্লাশে মোবাইল ব্যবহার করে আমাদের সময় নষ্ট করছেন তার কোনো খবর নেই!

স্যার ক্লাশ ত্যাগের পর ছাত্র-ছাত্রীরা: আমরা তো মোবাইল আনি না। স্যারদের ক্লাশে প্রবেশ করার সময় মোবাইল অফ করে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু তা নয়, তারা অন করে রাখে। তাই আমরাও আনব।

 

পরের দিন...

শিক্ষক : কেমন আছ ছাত্র-ছাত্রীরা?

ছাত্র-ছাত্রী : ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

ভালো। এই তোমার কাছে মোবাইল! তাও, আমি ক্লাশে! তুমি মোবাইলে কথা বলছ!

স্যার, আমি কথা বললে কারো কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু আপনি কথা বললে সবার ক্ষতি হয়। তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

আপনাকে বিষয়টি বোঝানোর জন্য ক্লাশে আমার মোবাইল আনা। আমায় ক্ষমা করবেন।

 

কিশোরচিত্র সম্পাদকের প্রতি অনুরোধ, আমার লেখাটা যেন ছাপা হয়। কারণ এটা আমার জীবনের প্রথম লেখা। আর এ লেখাগুলো আমি
নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন লিখেছিলাম। কিন্তু প্রকাশের কোনো সুযোগ পাইনি। আজ পেয়েছি। তাই আপনার কাছে পাঠালাম। এখন আমার
ইচ্ছা পূরণ হওয়া আপনার হাতে। আমার লেখায় যদি কোনো প্রকার ভুল থাকে, তাহলে ক্ষমা করে দেবেন।

আমি একজন অতি সাধারণ মেয়ে।

 

দশম শ্রেণী, বাকাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সুহিলপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright c All Rights Reserved.


সুপ্রিয় কিশোর বন্ধুরা, তোমরা কেমন আছো? নিশ্চয় ভাল আছো। এখন আষাঢ় মাস। বর্ষাকাল। চারদিকে কেয়া-কদম ফুলের মুখরিত প্রকৃতি। সাথে সাথে আম-কাঠালের মৌ মৌ হাতছানী বাঙালির ঘরে ঘরে। কখনো মেঘ, কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি- এটাই সাম্প্রটিক স্বদেশ এর প্রকৃতির অবস্থা।

দুই.

কিশোর বন্ধুরা, বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় প্রিয় স্বদেশ।বাঙালির চিন্তা, চেতনা, বাঙালির মূল্যবোধ, ত্যাগ, সংগ্রাম,সাহস এবং স্বপ্ন সবই প্রতিফলিত হয় এই অর্জনে।

তিন.

বাংলাদেশের  মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস সুদীর্ঘ। স্বাধীনতার পর এদেশে এসেছে শত প্রতিকূলতা। এক সময় ছিল বাংলাদেশ মানেই ক্ষুধা, দুঃখ, দারিদ্র্য। বাংলাদেশ মানেই জ্বালাও- পোড়াও- ভাঙ্চুর। প্রিয় কিশোর বন্ধুরা, এসব প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। আর সেই অগ্রগতি কোন না কোন ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য রকমের সম্ভাবনাময়। প্রচলিত হতাশার মাঝে বিশাল আশার ভান্ডার।

চার.

বিভিন্ন দিক দিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তরুণ মুসা ইব্রাহীম জয় করেছে এভারেস্ট। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্য হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নারী রোশনারা আলী।বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান সরকার।

পাঁচ.

যাদের শ্রমে ঘামে টিকে আছে দেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশ তাদের জীবন যেন থেমে আছে এখনো এক মুঠো ভাতের আশায়।দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতিতে দিশেহারা এসব মানুষ। রোদে পুড়ে বুষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়েও অনেক সময় পাননা তারা ন্যায্যমূল্য। এখনো দেশের বহু অঞ্চলের অভাবী আর পরিশ্রমী মানুষের দিন কাটে কীভাবে পরের বেলায় খাবার জোগাড় করবেন-এই আশায়। শুকনো ভাতের সঙ্গে এক ফোঁটা নুন হলেও কারও কারও চোখ ভিজে ওঠে আনন্দে এমন মানুষের সংখ্যা ও দেশে কম নয়।

ছয়.

পনের--বিশ বছর আগে ঔষুধ ছিল মানুষের নাগালের বাইরে। সে তুলনায় এখন ঔষুধের দাম মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে এসেছে। বাংলাদেশের তৈরি ঔষুধ ৭২টিরও বেশি দেশে এখন রপ্তানি হয়। চিকিৎসা সেবায়ও এসেছে আধুনিকতা। অনেক জটিল অস্ত্রোপাচারও হয় বাংলাদেশে।

সাত.

সিআইএ এর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক তথ্য অনুযায়ী খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ২০০৩ সালে ৪.৪% , ২০০৪ সালে ৫.৩ % , ২০০৫ সালে ৪.৯% , ২০০৬ সালে ৬.৪% , ২০০৭ সালে ৬.৬% ,২০০৮ সালে ৬.৩% , ২০০৯ সালে ৪.৯% , ২০১০ সালে ৫.৭% । পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্য অনুযায়ী খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ১৯৭১-৭২ সালে ৮,৭৪৪ মেট্রিক টন , ১৯৮০-৮১ সালে১৩,২৪১ মেট্রিক টন, ১৯৯০-৯১ সালে ১৬,৬১৫ মেট্রিক টন , ২০০০-২০০১ সালে ২৩,০৫৮ মেট্রিক টন , ২০০৫-০৬ সালে ২৪,৫৬৯ মেট্রিক টন, ২০১০ সালে ২৭,৫৮৭ মেট্রিক টন। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তভাবে ধরে রেখেছে কৃষক। এ থেকে পরিবর্তনের একটা চিত্র আমরা দেখতে পারি।

শেষ কথা

সুপ্রিয় কিশোর বন্ধুরা, শুধু উপরের উল্লেখিত বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশ আরো বিভিন্ন সেক্টরে এগিয়ে গেছে অনেক। পরবর্তীতে তা নিয়ে বিশদ লেখার ইচ্ছে আছে। পরিশেষে তোমাদেরকে বলব, বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখো। স্বপ্নের বাস্তবায়ন কর। জেগে ওঠো। কারণ, কবির ভাষায়-

আমরা আলোর আকাশ গড়ার স্বপ্ন দেখি

আমরা নতুন মুক্ত ভোরের কাব্য লেখি।

 

লেখক : কবি, গবেষক ও শিশু সাহিত্যিক।


Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright c All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com