তোফাজ্জল হোসেন শাহিন : কেমন আছ দাদা?

সুকুমার বড়ুয়া : মন ভালো তবে শরীর ভালো না।

জানতে চাইব কবে থেকে ছড়া লেখা শুরু করেছিলেন?

সেই ১৯৫৮ সালের ১৩ জুলাই থেকে।

ছড়া কি?

উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতার মতো বাংলা সাহিত্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে ছড়া।

বড়রা তো কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লিখেন। ছড়া তেমন একটা লিখেন না। আপনি কেন ছড়াকার হলেন?

আসলে ছড়াটা আমার কাছে স্বাভাবিকভাবে ধরা দেয় বলে ছড়াকার হয়ে গেলাম।

এ পর্যন্ত কতটি ছড়া লিখেছেন?

৫৩ বছর ধরে লিখেছি। তা প্রায় দেড় হাজারের মতো হবে।

কতটি ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছে?

১৯৭০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৮টি বই।

আপনার প্রথম কোন্ ছড়াটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

১৯৫৮ সালের ১৩ জুলাই সংবাদের খেলাঘরের পাতায় প্রথম বৃষ্টি নেমে আয় ছড়াটি প্রকাশিত হয়। প্রতিযোগিতায় আমি হই তৃতীয়।

স্কুল ও কলেজের পাঠ্য বইয়ে আপনার কতটি ছড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?

প্রায় ৩-৪ টি।

এত সুন্দর ছড়া কিভাবে লেখেন বলুন তো?

তিনটি কথার একটি হল--ঠিক আছে এই কথাটি তিন বছর ধরে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। দ্বিতীয়টি, পুরান ঢাকায় টিনের চাল ফুটো বাসা ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়ায় ভাড়াটিয়াকে বাড়িওয়ালার মন্তব্য দশ টাকা ভাড়ায় পানি পড়বে নাতো শরবত পড়বে! তৃতীয়ত, এক লোক দীর্ঘদিন জেলে ছিল। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর একদিন এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল--কিরে কি অপরাধে এতদিন জেলে ছিলি? লোকটি বলল, দড়ি চুরি করেছিলাম। দড়ি চুরির অপরাধে এতদিন জেল হবে কেন? তখন ওই লোকটি বলল, দড়ির মাথায় যে একটা গরু বাধা ছিল তাই। এই তিনটি ঘটনার পর থেকেই মাথা থেকে সুন্দর সুন্দর ছড়া বেরিয়ে আসে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো পুরস্কার পেয়েছেন কি?

১৯৭২ সালে চিচিং ফাঁক ছড়াটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়। সরকারি বেসরকারিভাবে পুরস্কার পেয়েছি দশেরও অধিক। সম্মাননা-সংবর্ধনা পেয়েছি শতাধিকবার। এছাড়া বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, ঢালী মনোয়ার স্মৃতি পুরস্কার, দৈনিক জনকণ্ঠ প্রতিভা সম্মাননা পুরস্কার, চোখ সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছি।

আপনার ছড়া যত পড়ি ততই ভালো লাগে। আপনার মতো লিখতে চাই। কিভাবে সম্ভব?

বেশি করে পড়তে হবে। পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

ভালো লেখকের কি কি গুণ থাকা দরকার?

কষ্ট করতে হবে। প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে কোন্ বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার?

ওদের ভালো কাজে ব্যস্ত রাখার মতো কিছু উদ্ভাবন করতে হবে।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে আর কোন্ কোন্ বিষয়ের ওপর সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া দরকার?

ওদের সব সময় সুস্থ বিনোদন এবং আনন্দের মধ্যে রাখতে হবে।

ছোটবেলায় কি ভাবতেন যে বড় হয়ে ছড়াকার হবেন?

না। তবে ভালো কিছু করব এ রকম একটা জেদ ছিল মনের ভেতর। এমন কিছু করব যাতে মানুষ সারা জীবন মনে রাখে।

ছড়াকার হবার চিন্তাটা মাথায় এলো কিভাবে?

এটা একটা নেশা হয়ে গিয়েছিল।

আপনি একজন বিখ্যাত ছড়াকার। এতে কার উৎসাহ, অনুপ্রেরণা এবং অবদান সবচেয়ে বেশি?

রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।

ছড়াকার না হলে কি হতেন?

অনেক টাকা পয়সা উপার্জন করব এ চিন্তা কখনোই মাথায় ছিল না। ধর্ম সাধনায় মশগুল থেকে কিভাবে অনেক উপরে উঠা যায় সে চিন্তা ছিল বেশি।

শিশুদের বেশি বেশি বই, পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিলে সবচেয়ে ভালো হয়?

পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি গড়ে তুলতে হবে। আমার পরিত্যক্ত বাড়িটা শিশুদের জন্য লাইব্রেরি বানাতে চাই। এজন্য সহযোগিতা পেলে তা সম্ভব হবে।

জাপানে শিশুদের এক বছরেই স্কুলে পাঠিয়ে দেয়। আমাদের দেশে ছয় বছরে। আপনার কাছে এক না ছয় কোনটা ভালো।

আমার কাছে এক বছরেই ভালো। তাহলে ছোটবেলা থেকে স্কুলে যাবার প্রতি মনোযোগ আসবে। 

আপনার শিশুকাল কিভাবে কেটেছে?

শিশুকাল বহু কষ্টে কেটেছে। আমি একজন শিশুশ্রমিক ছিলাম। থাকা খাওয়া ও অর্থের বিনিময়ে বাসায় কখনো শিশু দেখাশুনার কাজ, কখনো মেসের কাজ, কখনো মেসের রান্না-বান্নার কাজ, কখনো চা দোকানের বয়, মাটি কাটার কাজ, নুনের গোলায় জোগালির কাজ, কখনো হকারির কাজ, কখনো আইসক্রিম বিক্রির কাজ করেছি।

শিশুদের উজ্জল ভবিষ্যত গড়তে হলে কোন্ কোন্ বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার?

ওদের নির্ভেজাল রুচিশীল আনন্দের মধ্যে রাখতে হবে।

ছেলেবেলায় আপনার শখ কি ছিল?

অজপাড়া বলতে যে ছাগলপাড়া এটা জানতাম না। আমি অজপাড়ার যত খেলা ছিল সব খেলাই খেলতাম। যেমন--হাডুডু, দাড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, দরখেলা ইত্যাদি খেলতাম। এগুলোই ছিল আমার শখ।

আপনার প্রিয় লেখক কে?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, সুনির্মল বসু, সুকুমার রায়সহ আরো অনেকে।

আপনার আদর্শ কে?

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই। দাদা আমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। আমিও খুব ভালোবাসতাম দাদাকে।

আপনি কি মনে করেন এক সুকুমার বড়য়া থেকে অসংখ্য সুকুমার বড়য়া তৈরি হচ্ছে বা হবে?

হতেও পারে।

শৈশব, কৈশোর, বৃদ্ধ কোন্ কালকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।

কৈশোরের। কেননা কৈশোর কালটা সম্মানের না হলেও অনেক আনন্দের।

বড়রা অনেক সময় ছোটদের প্রশ্ন করেন বড় হয়ে কি হতে চাও? কেউ বলে ডাক্তার কেউ বলে ইঞ্জিনিয়ার বা কেউ বলে পাইলট। কিন্তু কেউ বলে না লেখক হব, কবি হব। কেন?

আসলে যাদের মা-বাবা কবি সাহিত্যিক তাদের সন্তানরাই বলে। আসলে না বলার কারণ হল, ওরা মনে করে এখন টাকাই সব।

আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কি?

আমার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল তিন পুরুষ আমার ছড়া পড়ছে। অর্থাৎ ছেলে-মেয়েরা পড়েছে, তাদর বাবা দাদারাও পড়েছে।

কিশোরচিত্র আপনাকে পেয়ে ধন্য। তাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

কিশোরচিত্রর কথা আমার সবসময় মনে থাকবে। ধন্যবাদ।

 

১০ শ্রেণী, রোল নং-১৮, বিভাগ : বাণিজ্য, সেগুনবাগিচা হাই স্কুল, তোপখানা রোড, ঢাকা

সদস্য : কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.




আয়েশা আক্তার উর্মি : ভাইয়া আপনি কেমন আছেন?

মোঃ সিকন্দর আলী : আমি ভাল আছি।

আপনার পরিচয়টা বলুন।

আমি মো: সিকন্দর আলী। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আপনার ওয়ার্ডে কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ওদের যেন কোনো প্রকার সমস্যায় না হয়, সেজন্য ছোটদের জন্য একটি শিশুপার্ক করার ইচ্ছে আছে।

আপনার ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য কোনো পাঠাগার আছে কি?

আমার অনেক দিনের স্বপ্ন শিশুদের জন্য একটি পাঠাগার করার। জায়গার অভাবে করতে পারছি না। জায়গা পেলে শীঘ্রই করে ফেলব।

অবহেলিত শিশুদের নিয়ে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

আমি অবহেলিত শিশুদের জন্য একটি স্কুল তৈরি করেছি। সেখানে শিশুরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করছে।

ছোটবেলায় কি কমিশনার হবার স্বপ্ন দেখতেন?

ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হব। দেশ ও মানুষের সেবা করব। আমার ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

আপনি যখন শিশু ছিলেন, তখন কি সুযোগ-সুবিধা বেশি ছিল? না, এখনকার শিশুদের সুযোগ-সুবিধা বেশি?

আমাদের সময় এত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ওরা এখন ঘরে বসেই কম্পিউটারের সাহায্যে পৃথিবীটা হাতের মুঠোতে এনে দেখছে।

শিশুদের কোন্ জিনিসটার সবচেয়ে বেশি অভাব বলে আপনার মনে হয়?

শিশুদের ভালো লাগা, মন্দ লাগার কথা বলার জায়গা নেই। বড়দের পত্রিকা আছে, পাঠাগার আছে, বিভিন্ন ধরনের টিভি চ্যানেল আছে। কিন্তু ছোটদের জন্য তেমন কিছু নেই। এছাড়া খেলার মাঠ ও পুকুরে বাড়ি-ঘর বানিয়ে শিশুদের খেলার জায়গাগুলো দখল করে ফেলছে। এ কারণেই প্রত্যেকের শৈশবের স্মৃতিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার বিকল্প কিছু ভাবা জরুরি।

পথশিশু বা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

আমার ওয়ার্ডে এ রকম দুটি স্কুল আছে। একটি বাকপ্রতিবন্ধী, অপরটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ওরা এখানে নিয়মিত লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।

আপনার ওয়ার্ডে শিশু-কিশোররা নির্বিঘ্নেস্কুলে যেতে পারে?

আমার ওয়ার্ডে কোনো প্রকার যানজট নেই। রাস্তাঘাট সব ভালো। ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রত্যেকেই যথাসময়ে যে যার গন্তব্যে পৌঁছতে পারে।

আপনার ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নে বা সৌন্দর্য বর্ধনে কি ধরনের পদপে নিয়েছেন?

আমার ওয়ার্ডে দুজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মী আছেন। তারা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ করে থাকেন।

শিশুদের উদ্দেশে কিছু বলুন?

শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। ওদের যেন কেউ কোনো প্রকার অবহেলা না করে। দেশ ও জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ওদেরকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তবে মুখে নয় কাজে ।

আপনার ওয়ার্ডে শিশুরা স্বাচ্ছন্দ্যে পত্রিকা পড়তে পারবে এমন কোনো ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়?

পাঠাগার যেখানে করব, পাশাপাশি সেখানেই একই ধরনের ব্যবস্থা করার ইচ্ছে আমার।

কিশোরচিত্রে সময় দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

তোমাকেও ধন্যবাদ। কিশোরচিত্র’র সব পাঠককেও জানাই ধন্যবাদ।

 

নবম শ্রেণী, পাঠানটুলা দ্বি-পাকি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট



「キショロチットロ」は誇れるものです

 ミティラ記者の物事の把握力、直感性、それらの基となる両親の教えに、日本人が忘れていた人間の成長に合わせた学び方がありました。昔アジアは西洋人が来た頃は未開で野蛮と見られていました。しかしそのなかでも永い歴史を刻んでいられたことは、アジアなりに大切にしていた心の豊かさがありました。それは小さくても、少なくても人々は幸せを分かち合う心でした。いまは、まだキショロチェットは部数も少ないですが、内容は世界のどの新聞より誇れるものだと思っています。

 そして、大きな目的と広い心で社会を観察する子供たちを育てる使命感があるからです。それは宗教を超えて、子供たちだけでなく社会を構成する大人社会にも大きな影響を及ぼすでしょう。また、その試みはアジアや世界にも広がります。

 国を豊かにするのは数字で表れる経済だけではありません。働くことをいとわず、正直に、人と仲良くして、辛抱つよく頑張る、そのような人たちが大勢いることが本当の国の力だと考えます。そうゆうことが難しい勉強だけではなく、習慣となれば社会の不正は少なくなり、安心して生活できる社会が子供たちの力でできるでしょう。そのために新聞は正しい情報と問題意識を育てる道具になるはずです。

 それは、日本の子供たちも学ぶべき姿であることは言うまでもありません

 

ミティラ:寶田先生、いままで多くのバングラデシュ人と関係を持ってきたと思うんですけど、彼らのことをどう思いますか? 

 バングラデッシュの人だけではありませんが、何かをやりたいという欲望と人の情(こころ)はかわりません。ただ、それをコントロールすることが日本人も含めて難しいようです。良い人とか悪い人とか言いますが、それぞれ理由のあることです。その意味では、なるべくながい関係を持ちながら有効なところを見るように努力します。あまりお金に功利的になると正しい観察もできなくなります。

 特徴ですが、バングラデッシュの人は話し好きです。そして頑固です。困ることはありませんが、同じ国の人でも連帯と調和が取れないときがあります。なぜか日本人の私が調整することがあります。それは以前、多くの若者が来日していた頃から同じです。その頃の若者は帰国して様々な仕事についています。
 これは一つの見方ですが、貧しい国だからとか、日本と古い縁があるから、そのような気持ちだけで交流していません。またそれを前提として新聞発行を考えてはいません。何よりも目の前の人の熱意と方向に同感したのです。子供を交えた深く広い関係、それが理解できる友人の多くが、なぜかバングラデッシュの人だった、妙な縁を感じます。これからは新聞をつうじて多くの子供たちと知り合えることを期待しています。

ミティラ:これから日本とバングラデシュの関係をもっと築いていきたいですか?

 好きな国、嫌いな国、そのような見方でなく、清々しく、爽やかな人たちが棲む社会と交流したいと願っています。
 
その意味では大きな期待があります。昔、ボクシングのモハメド・アリさんがザイールで試合をしたときのこと、応援に来た現地の人たちにメッセージを語っています。  その内容は「西洋に住む黒人は、そこの教育で何かを失くしてしまった。その失くしたものはここに来て大切なものだということが分かりました。皆さんは貧しい、しかし人間として尊い威厳がある。どうかそれを大切にして守って下さい」

 経済発展のみが豊かさを招くという社会の進みかたは、多くの欲望に働きかけ人と人の関係が薄くなります。それ以上にお金が支える豊かさを競うようになり、時には不正が生まれ、国の基盤をいつの間にか崩してしまいます。それがアジアの歴史にはありました。

 この豊かさへの欲望と、もともとバングラデッシュの人々が幸せとしていたことが離れると、いちばん影響を受けやすいのは子供たちです。子供たちは、そのような大人を真似して、ゆがんだ欲望を大きくさせます。

 誇れるバングラデッシュにするには、それを社会の問題として立ち向かう勇気のある人を育てなくてはなりません。

 それは世界の共通した「人」の問題です。それに気がついて努力する人たちがいる社会、そんな人たちが住んでいる国に期待と努力を添えることは当然なことです。

 

寶田時雄
ベンガルこども新聞顧問及び東京支局支局長







Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





আয়েশা আক্তার উর্মি : ভাইয়া আপনি কেমন আছেন?

মোঃ সিকন্দর আলী : আমি ভাল আছি।

আপনার পরিচয়টা বলুন।

আমি মো: সিকন্দর আলী। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আপনার ওয়ার্ডে কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ওদের যেন কোনো প্রকার সমস্যায় না হয়, সেজন্য ছোটদের জন্য একটি শিশুপার্ক করার ইচ্ছে আছে।

আপনার ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য কোনো পাঠাগার আছে কি?

আমার অনেক দিনের স্বপ্ন শিশুদের জন্য একটি পাঠাগার করার। জায়গার অভাবে করতে পারছি না। জায়গা পেলে শীঘ্রই করে ফেলব।

অবহেলিত শিশুদের নিয়ে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

আমি অবহেলিত শিশুদের জন্য একটি স্কুল তৈরি করেছি। সেখানে শিশুরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করছে।

ছোটবেলায় কি কমিশনার হবার স্বপ্ন দেখতেন?

ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হব। দেশ ও মানুষের সেবা করব। আমার ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

আপনি যখন শিশু ছিলেন, তখন কি সুযোগ-সুবিধা বেশি ছিল? না, এখনকার শিশুদের সুযোগ-সুবিধা বেশি?

আমাদের সময় এত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ওরা এখন ঘরে বসেই কম্পিউটারের সাহায্যে পৃথিবীটা হাতের মুঠোতে এনে দেখছে।

শিশুদের কোন্ জিনিসটার সবচেয়ে বেশি অভাব বলে আপনার মনে হয়?

শিশুদের ভালো লাগা, মন্দ লাগার কথা বলার জায়গা নেই। বড়দের পত্রিকা আছে, পাঠাগার আছে, বিভিন্ন ধরনের টিভি চ্যানেল আছে। কিন্তু ছোটদের জন্য তেমন কিছু নেই। এছাড়া খেলার মাঠ ও পুকুরে বাড়ি-ঘর বানিয়ে শিশুদের খেলার জায়গাগুলো দখল করে ফেলছে। এ কারণেই প্রত্যেকের শৈশবের স্মৃতিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার বিকল্প কিছু ভাবা জরুরি।

পথশিশু বা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

আমার ওয়ার্ডে এ রকম দুটি স্কুল আছে। একটি বাকপ্রতিবন্ধী, অপরটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ওরা এখানে নিয়মিত লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।

আপনার ওয়ার্ডে শিশু-কিশোররা নির্বিঘ্নেস্কুলে যেতে পারে?

আমার ওয়ার্ডে কোনো প্রকার যানজট নেই। রাস্তাঘাট সব ভালো। ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রত্যেকেই যথাসময়ে যে যার গন্তব্যে পৌঁছতে পারে।

আপনার ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নে বা সৌন্দর্য বর্ধনে কি ধরনের পদপে নিয়েছেন?

আমার ওয়ার্ডে দুজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মী আছেন। তারা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ করে থাকেন।

শিশুদের উদ্দেশে কিছু বলুন?

শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। ওদের যেন কেউ কোনো প্রকার অবহেলা না করে। দেশ ও জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ওদেরকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তবে মুখে নয় কাজে ।

আপনার ওয়ার্ডে শিশুরা স্বাচ্ছন্দ্যে পত্রিকা পড়তে পারবে এমন কোনো ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়?

পাঠাগার যেখানে করব, পাশাপাশি সেখানেই একই ধরনের ব্যবস্থা করার ইচ্ছে আমার।

কিশোরচিত্রে সময় দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

তোমাকেও ধন্যবাদ। কিশোরচিত্র’র সব পাঠককেও জানাই ধন্যবাদ।

 

নবম শ্রেণী, পাঠানটুলা দ্বি-পাকি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট





Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.




মুস্কান তাবাস্সুম : আপনার পরিচয়।

মোঃ ওয়াদুদ খান রিয়েল : আমি মোঃ ওয়াদুদ খান রিয়েল, এডভোকেট, জজকোট, ঢাকা।

শিশুকাল কেমন কাটিয়েছেন?

লেখাপড়া, খেলাধূলা আর দুষ্টুমি তো কিছু ছিলই--সবমিলিয়ে ভালো।

ছাত্রজীবনে কি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? হতে পেরেছেন কি?

ছাত্রজীবনেই আইনজীবী হওয়ারই স্বপ্ন দেখতাম। হতে পেরেছি ইনশাল্লাহ্।

একটা কথা জানতে চাইব, আপনাদের পোশাকের রং কালো কেন?

প্রথমে ব্রিটিশ আদালতে আইনজীবীরা সাদা রঙের কোট ব্যবহার করতেন। কথিত আছে, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা যাওয়ার পর শোকের চিহ্ন হিসেবে কালো রঙের কোট ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীকালে এটাই প্রচলিত হয়ে যায়। সেই সময়ে যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল, সেহেতু ভারতবর্ষসহ অন্যান্য দেশেও ব্রিটিশদের প্রচলিত পোশাকই ব্যবহার হতে থাকে।

কিন্তু ব্রিটিশ শাসন তো এখন আর নেই? তাহলে পোশাকের রং পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?

আইনজীবীদের পোশাক পরিবর্তন করে ঋতুবান্ধব পোশাকের কথা বারবার আসছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কালো পোশাক এখনো আছে আর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এসব কারণেই হয়ত পোশাকের রং পরিবর্তন করা হয়নি। তবে যতই দিন যাচ্ছে পোশাকের রংসহ পোশাক পরিবর্তনের কথা উঠছে বারবার। আশা করি এটা পরিবর্তন হবে।

ছোটবেলায় কি কি খেলা পছন্দ করতেন?

কাবাডি, দাবা, ব্যাডমিন্টন বেশি পছন্দ করতাম।

পশুপাখিদের মধ্যে কি পছন্দ করতেন?

পশুর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণ আর পাখির মধ্যে কবুতর ও ময়ূর আমার পছন্দ।

এখনকার শিশু-কিশোর ও আপনাদের যুগের মধ্যে কি কি পরিবর্তন ঘটেছে বলবেন কি?

এখনকার যুগের শিশুরা অনেক স্বাধীনচেতা ও মুক্তমনের অধিকারী। আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সুবিধা বৃদ্ধি তো তাদের পৃথিবীটাই বদলে দিয়েছে। যা আমাদের সময়ে ছিল না।

বাংলাদেশের শিশু প্রজন্মের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের যে পদপে রয়েছে সেগুলো কি যথার্থ বলে মনে করেন? এসবের কি আদৌ প্রতিফলন ঘটেছে বা ফলপ্রসূ হয়েছে?

বাংলাদেশের শিশু প্রজন্মের সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিক্ষা- স্বাস্থ্যসহ সার্বিকভাবে নানা পদপে গ্রহণ করেছে। দরিদ্র শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যাসহ নিরর শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা আছে। পাঠের জন্য গণগ্রন্থাগার, খেলাধূলা ও বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক আছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

এ দেশের শিশুদের মৌলিক সমস্যা যেমন--শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, খেলাধূলার ক্ষেত্রে পৌরসভা, স্থানীয় সরকার কি ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?

শিশুদের মৌলিক সমস্যার সমাধানে মারাত্মক ছয়টি রোগের টিকা প্রদানসহ ভিটামিন এ জনিত রোগ থেকে রার জন্য টিকা খাওয়ানো হয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্য রায় কমিউনিটি কিনিকের ব্যবস্থা আছে। শিক্ষা,খেলাধূলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে  পৌরসভা ও স্থানীয় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। এসবের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়েছে। শিশুরা চিন্তার বাইরে নয়। উদ্যোগহীনতা ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকাই মূল কারণ।

ছাত্রদের কি রাজনীতি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন? করলে কি ধরনের রাজনীতি করা উচিত?

ছাত্রদের অবশ্যই ছাত্ররাজনীতি করা প্রয়োজন। কারণ ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে তা হওয়া উচিত সুস্থ ধারার রাজনীতি।

আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের গড়ে তোলার জন্য কিছু ভাবছেন?

আমি ব্যক্তিগতভাবে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করতে চাই। যাতে শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। মানবেতর জীবন যাপন করতে না হয়।

সময় দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ। কিশোরচিত্রের সকল পাঠকদেরও ধন্যবাদ।



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.



দেশের বরেণ্য কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান। ফিলিপস্ পুরস্কার ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত এ সাহিত্যিকের সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করে কিশোরচিত্র পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ব্রতী দাসদত্ত

 

ব্রতী দাসদত্ত: আপনার কিশোরী বয়সটা কেমন ছিল? সেসময় আপনি কি ধরনের কাজ করতে পছন্দ করতেন?

নাসরীন জাহান : আমার কিশোরী বয়সটা ছিল আসলে অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা। ময়মনসিংহে আমার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই আমার বাবার ইচ্ছে ছিল যে তার মেয়ে বড় হয়ে সাহিত্যিক হবে। ক্লাসটু থ্রি থেকেই এই কথাটা আমার কানে বাজত। পড়াশোনার চাইতে লেখালেখির ব্যাপারে বাবা বেশি উৎসাহ দিতেন আমাকে। আমি  ক্লাস ফোরে প্রথম ছড়া লিখি এবং  ক্লাস সিক্সে থাকা অবস্থায় আমার লেখা প্রথম পত্রিকায় ছাপা হয়। কিশোর বয়সে আমি আর আমার এক বান্ধবী অনেক লাইব্রেরি ঘুরে বেড়াতাম। তবে বাসায় আমি খুব  লক্ষ্মীমেয়ে ছিলাম। আমার মা-বাবা তাই আমাকে আমার সব বোনদের চাইতে  লক্ষ্মী বলতেন। অনেক সময় আমি ঘরের কাজগুলো গুছিয়ে হয়ত মাকে একটা মিথ্যা কথা বলে বাইরে ঘুরতে চলে যেতাম।

তবে কিশোরী বয়সে আমি একাকিত্বটা খুব অনুভব করতাম। কৈশোর হচ্ছে এমন একটা বয়স যখন ছেলেমেয়েরা না বড় না ছোট ঐ সময়টা ভালো বন্ধু বেছে নেয়াটা অনেক কঠিন। অনেক কিশোরী মেয়েদের  মায়েরা হয়তো দাবি করতে পারেন যে তারা  তাদের ছেলেমেয়েদের  সম্বন্ধেসব কিছু জানে। কিন্তু অনেক  ক্ষেত্রে আমি দেখেছি মায়েরা ছেলেমেয়েদের ঠিক বন্ধু হয়ে উঠতে পারে না। তাই কিশোর বয়সে অনেক মেয়েরাই একা হয়ে পড়ে। আমার কিশোর বয়সটাও আমি এরকম একাকিত্বের মধ্য দিয়ে পার করেছি।

আমাদের বাড়ির কাছে একটা পূজামন্ডপ ছিল সেকানে প্রায়ই পুজো হতো। আমি এই পুজো খুব উপভোগ করতাম। আমার মা প্রায়ই আমাদের ভাইবোনদের নিয়ে পুজো দেখতে যেতেন। ঈদের চাইতে আমরা  বেশি আনন্দ করতাম পুজোয়। পুজোর ঢাক-ঢোল, বাদ্য-বাজনা এসব কিছুই কৈশোরে আমার খুব আকর্ষণীয় হয়ে উঠতো।

ব্রতী দাসদত্ত: কিশোর বয়সে আপনি কোন ধরনের বই বেশি পড়তেন?

নাসরীন জাহান : কিশোর বয়সে বই পড়ার পেছনে আমার বাবার খুব প্রভাব ছিল। ঐ বয়সে আমি অনেক জীবনীমূলক বই পড়তাম। তবে তখন আমার আর পারভীন সুলতানা নামে আমার এক বান্ধবীর মনে সিরিয়াস বই পড়ার একটা ইচ্ছে হলো। তখন আমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ,  মানিক বন্দোপাধ্যায়ের বই পড়তে শুরু  করলাম। বইয়ের   কনসেপ্ট বুঝতাম আর  না-ই বুঝতাম বই পড়তাম। আমার মনে হত যে কোন বই পড়ে যদি পাঠকের কাছে জটিল লাগে তবেই সেটা ভালো বই। তাই ডিকশোনারি ঘেঁটে ঘেঁটে আমি সিরিয়াস শব্দ নিয়ে আমার লেখার মধ্যে পাঞ্চ করতাম। আবার সিরিয়াস মুভির প্রতিও আমার আকর্ষণ ছিল। টলস্টয়ের কিছু বইও আমি ঐ বয়সে পড়েছি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর  ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ ‘লালসালু’ এসব বই আমি  পড়েছি। তবে বইয়ের মধ্যে প্রথম পছন্দ ছিল আমার ‘চাঁদের অমাবস্যা’ আর ‘উভচর মানুষ’।

ব্রতী দাসদত্ত: কিশোরদের জন্য আপনার লেখা কি কি বই আছে? আগামীতে আমরা আপনার কাছ থেকে কি কি কিশোর উপন্যাস পাব?

নাসরীন জাহান : কিশোরদের জন্য আমাদের একটা গল্পসমগ্র আছে। আবার সামান্তা নামে একটা বই আছে যেটা ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলেমেয়েদের জীবন নিয়ে লেখা। কিশোরদের জন্য লিখতে হলে তাদের  চিন্তাভাবনা অনুভব করতে হয়। তাদেরকে বুঝতে হয়। আজকালকার কিশোররা অনেক ম্যাচিয়রড। কিন্তু কিশোর উপন্যাসের মধ্যে প্রেমের ব্যাপারটা আনতে গেলে সেটা আর কিশোর উপন্যাস থাকে না। আমার ইচ্ছে আগামীতে একটা কিশোর উপন্যাস লেখা যেখানে আমি কিশোরদের সব চিন্তাভাবনাকে তুলে ধরব।

ব্রতী দাসদত্ত: আজকাল অনেকে মনে করে যে ইন্টারনেট, টেলিভিশন এসব মিডিয়া ছেলেমেয়েদেরকে নষ্ট করে ফেলে। আপনারও কি মনে হয় মিডিয়া ছেলেমেয়েদেরকে পড়াশোনাবিমুখ করে ফেলে এবং তাদেরকে বিপথে নিয়ে যায়?

নাসরীন জাহান : আমার তা একদমই মনে হয় না। প্রতিটি জিনিসেরই ভালোদিক মন্দদিক আছে। যেমন, ফেসবুক যদি কেউ নেগেটিভলি ব্যবহার করে তবে তো তারই  ক্ষতি। এটা পুরোই নিজের ওপর নির্ভর করে। আমার মনে হয় এ ব্যাপারে মা-বাবার একটু নজর দেয়া উচিত। আবার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ওপর অতিরিক্ত খবরদারি করাটাও আমার পছন্দ নয়। আমি আমার মেয়ের পড়াশোনার ওপর কখনও নজরদারি করিনি। আর আমার মনে হয় যে সারা পৃথিবীতে পড়াশোনার যে পরিমাণ লোড সেটা অর্ধেক করে দেয়া উচিত। মানুষের আয়ু আর কত দিন? আগে তো বাঁচা। তারপরে পড়াশোনা। ব্রেইনের উপর ছেলেমেয়েদের আর  কত চাপ দেয়া হবে। কিশোর বয়সটাই তো আনন্দ করার সময়। শৈশব তো বুঝতে না বুঝতেই কেটে যায় আর যৌবন আছে কাজের চাপ, দায়িত্ব তাই কৈশোরে ছেলেমেয়েদের একটু  স্বাধীনতা  দিলে খুব বেশি  ক্ষতি  হবে না।

ব্রতী দাসদত্ত : কিশোরচিত্রর জন্য সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

নাসরীন জাহান: তোমাকেও ধন্যবাদ।

 



Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com