ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে টেনিস বলতে আমি শুধু চারটা গ্র্যান্ড স্লাম (অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন) দেখি। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে অপছন্দের টুর্ণামেন্ট হচ্ছে ফ্রেঞ্চ ওপেন। হবেই বা না কেন? আমার মতো যাদের টানা দুই সপ্তাহ টেনিস দেখার সময় নেই তারা তো কোয়ার্টার ফাইনাল, বিশেষ করে সেমিফাইনাল থেকে খেলা দেখা শুরু করে। আর ফ্রেঞ্চ ওপেনের বিশেষত্ব হল তৃতীয় রাউন্ডের মধ্যেই বেশির ভাগ তারকা খেলোয়ার ঝরে পড়ে। মানে অঘটনের আখড়া আর কি! সেলিব্রেটি খেলোয়াড়েরা না থাকলে তো টুর্নামেন্টের আকর্ষণই তো কমে যায়। তারপরও আমি ফ্রেঞ্চ ওপেন নিয়ে লিখছি, কারণ রোলাঁ গারোর লাল দুর্গের রহস্য টেনিসপ্রেমীদের মতো আমাকেও টানে। তবে অঘটনের আখড়া  হলেও টেনিস বিধাতা বিগত বছরগুলো ধরে রাফায়েল নাদালের (ছয়বার চ্যাম্পিয়ান) উপর যেন একটু বেশিই প্রসন্ন।

২২মে শুরু হওয়া বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লামটির পর্দা নামল গত ৫ জুন। বলাই বাহুল্য, ট্রফিতে কামড় দিয়ে পুরুষ এককের বিজয়ী নাদালের পোজ দেওয়ার সেই চিরচেনা দৃশ্য দিয়ে। ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি শিরোপা (মাঝে ২০১০ সালের চতুর্থ রাউন্ডে ইনজুরির জন্য স্বেচ্ছায় অবসর) জেতা নাদালই তো বর্তমানে স্টেড রোলাঁ গারোর (ইংরেজিতে Stade Rolland Garros) অবিসংবাদিত রাজা। নাদালের কথা বাদ দিলে ফ্রেঞ্চ ওপেনের বাকি অংশটা জুড়ে থাকে অঘটন আর বিস্ময়।

তবে এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন অন্যান্য বারের তুলনায় একটু বেশিই বিস্ময় জাগানিয়া ছিল। এর প্রথম কারণ, চিনের লি না-র মহিলা এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা, মারিয়া শারাপোভার  তো ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের সরাসরি সেটে হারিয়ে ফাইনালে আসা লি রোলাঁ গারোর লাল মাটিতে এশিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম দুঃস্বপ্নকে কবর দিলেন। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালিয় ফ্রান্সেসকো শিয়াভোনেকে ৬-৪, ৭-৬ গেমে হারিয়ে নতুন রানীর আসন নিলেন। আর এককে প্রথমবারের মতো এশিয়ার দেশ হিসেবে চিনের জাতীয় সংগীত বাজল স্টেড রোলাঁ গারোয়।

ক্রিস এভার্ট, স্টেফি গ্রাফ, মনিকা সেলেস, জাস্টিন হেনিনদের পর মহিলা এককে ক্লে কোর্টে একচ্ছত্রভাবে কেউ অধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। বিশেষত টানা তিন বারের চ্যাম্পিয়ন (সর্বমোট চারবার) হেনিনের অবসরের  পর ফ্রেঞ্চ ওপেনের মহিলা এককের রাজত্বটা যেন উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে উঠে এসেছিল হালের আনা ইভানোভিচ, সভেতলোনা কুজনেতসোভা, ফ্রান্সেসকো শিয়াভোনের মতো খেলোয়াড়রা। এবার টানা দ্বিতীয় বারের মত ফাইনালে উঠে ক্লে কোর্টের সিংহাসনে থিতু হওয়ার একটা সুযোগ এসেছিল শিয়াভোনের সামনে। কিন্তু ২৯ বছর বয়সী লি তা আর করতে দিল কই?

এবারের আয়োজনে পাদপ্রদীপের সব আলো ছিল পুরুষ এককের উপর। কারণ মহিলা এককে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ খেলোয়াড়েরা কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ছিটকে পড়েছিল, বিশেষ করে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ক্যারোলাইন ওজনিয়াকি, কিম ক্লাইসটার্সদের মতো খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে পুরুষ এককের সেমিতে র‌্যাঙ্কিংয়ের চার শীর্ষ খেলোয়াড়ই পৌঁছেছিল। তাই প্রকৃত অর্থে পুরুষ এককের সেমিফাইনাল থেকে ফ্রেঞ্চ ওপেন উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। প্রথম সেমিতে অ্যান্ডি মারেকে ৬-৪, ৭-৫, ৬-৪ সরাসরি সেটে হারিয়ে নিজের ২৫তম জন্মদিন উদযাপন করে রাফা। আর দ্বিতীয় সেমিনাইলে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে চলা সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচের জয়রথ থামে (৭-৬, ৬-৩, ৩-৬, ৭-৫) সুইস লিজেন্ড রজার ফেদেরারের সামনে। ফলাফল নাদাল-ফেদেরার মহারণ। টেনিসমোদীদের সবচেয়ে পরম প্রার্থিত ম্যাচ। এমন একটা ক্লাসিক ম্যাচের জন্য টেনিস বিশ্ব তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করে।

ক্লাসিক ম্যাচ হলেও বরাবরই ক্লে কোর্টে নাদালের কাছে হেরে যায় ফেদেরার। সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ফেদেরারের শোকেসে ফ্রেঞ্চ ওপেনের যে একটি মাত্র ট্রফি আছে, তা ২০১০ সালের। তাও ইনজুরির কারণে নাদাল বিদায় নেওয়ার পর। তাই এবার ফেদেরারের সামনে সুবর্ণ সুযোগ ছিল নাদালকে হারিয়ে নিজের সর্বশেষ অপূর্ণতা দূর করার। ফেদেরারের ফর্মও এবার ক্লে কোর্টে বেশ ছন্দময় ছিল। তাই ফাইনালে এবার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন ফেড এক্সপ্রেস। কিন্তু শেষ সেটে এসে রাফা আবার স্বরূপে দেখা দিলেন। ফলে (৭-৫, ৭-৬, ৫-৭, ৬-১) সেটে জিতে  কিংবদন্তী বিয়ন বোর্গের পাশে নাম লেখালেন এই তরুণ স্প্যানিসয়ার্ড। সাথে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর আসনটাও পোক্ত হল।

ফেদেরারের আক্ষেপ ঘোচানোর ব্যর্থতার সাথে এবার অপ্রাপ্তির ঝুলিটাও বড়। যেমন এ মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় ফর্মের তুঙ্গে থাকা জোকোভিচ সেমিফাইনালে ফেদেরারকে হারাতে পারলে জন ম্যাকেনরোর বছরে টানা ৪২ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারতেন। আবার সেমিতে নাদালকে হারাতে পারলে ১৯৩৭ সালে বানি অস্টিনের পর প্রথম ব্রিটিশ হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠতে পারতেন অ্যান্ডি মারে। ব্রিটিশদের শত বছরের গ্র্যান্ড স্লাম বন্ধ্যাত্বের কথা না হয় বাদই গেল! ইনজুরি থেকে ফিরে আসা মারিয়া শারাপোভার সামনে সুযোগ ছিল গ্র্যান্ড স্লাম চক্র পুরণ করার। অপরদিকে তৃতীয়বারের মতো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে ওঠা ভারতের সানিয়া মির্জার (আগের দুই বার মিশ্রে, এবার দ্বৈতে) সামনে সুযোগ ছিল পরম আরাধ্য ট্রফিটিতে কামড় দিয়ে পোজ দেওয়ার। কিন্তু রাশিয়ার এলেনা, ভেসনিনাকে নিয়া সরাসরি সেটে আন্দ্রিয়া লাভাচকোভা ও লুসি রাদেসকার এর কাছে হেরে সে আশার গুড়ে বালি।

যত অপ্রাপ্তিই থাকুক না কেন, এশীয় হিসেবে আমাদের কাছে প্রাপ্তির পাল্লাটাই বেশি। কারণ এশীয় কিশোর-কিশোরীদের প্রিয় স্পোর্টসম্যানের তালিকায় রজার ফেদেরার, উইলিয়ামস বোনদের মতো খেলোয়াড়দের সাথে যে লি নাও যোগ হলেন। প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের সামনে এবার এশীয় রানী হেসেবে ট্রফি হাতে পোজ দিলেন লি না। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির রেকর্ডের ভিড়ে ২০১১ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন আমাদের কাছে অসাধারণ এক স্মৃতি হয়ে থাকবে। কারণ লি নার মাধ্যমে ওপেন যুগের দরজাটা যে এশীয়দের জন্য ওপেন হয়ে গেল।

 

 লেখিকা ২০১১ সালে অগ্রণী স্কুল ও কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেছে



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





মুস্কান তাবাস্সুম : আপনার পরিচয়।

মোঃ ওয়াদুদ খান রিয়েল : আমি মোঃ ওয়াদুদ খান রিয়েল, এডভোকেট, জজকোট, ঢাকা।

শিশুকাল কেমন কাটিয়েছেন?

লেখাপড়া, খেলাধূলা আর দুষ্টুমি তো কিছু ছিলই--সবমিলিয়ে ভালো।

ছাত্রজীবনে কি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? হতে পেরেছেন কি?

ছাত্রজীবনেই আইনজীবী হওয়ারই স্বপ্ন দেখতাম। হতে পেরেছি ইনশাল্লাহ্।

একটা কথা জানতে চাইব, আপনাদের পোশাকের রং কালো কেন?

প্রথমে ব্রিটিশ আদালতে আইনজীবীরা সাদা রঙের কোট ব্যবহার করতেন। কথিত আছে, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা যাওয়ার পর শোকের চিহ্ন হিসেবে কালো রঙের কোট ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীকালে এটাই প্রচলিত হয়ে যায়। সেই সময়ে যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল, সেহেতু ভারতবর্ষসহ অন্যান্য দেশেও ব্রিটিশদের প্রচলিত পোশাকই ব্যবহার হতে থাকে।

কিন্তু ব্রিটিশ শাসন তো এখন আর নেই? তাহলে পোশাকের রং পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?

আইনজীবীদের পোশাক পরিবর্তন করে ঋতুবান্ধব পোশাকের কথা বারবার আসছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কালো পোশাক এখনো আছে আর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এসব কারণেই হয়ত পোশাকের রং পরিবর্তন করা হয়নি। তবে যতই দিন যাচ্ছে পোশাকের রংসহ পোশাক পরিবর্তনের কথা উঠছে বারবার। আশা করি এটা পরিবর্তন হবে।

ছোটবেলায় কি কি খেলা পছন্দ করতেন?

কাবাডি, দাবা, ব্যাডমিন্টন বেশি পছন্দ করতাম।

পশুপাখিদের মধ্যে কি পছন্দ করতেন?

পশুর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণ আর পাখির মধ্যে কবুতর ও ময়ূর আমার পছন্দ।

এখনকার শিশু-কিশোর ও আপনাদের যুগের মধ্যে কি কি পরিবর্তন ঘটেছে বলবেন কি?

এখনকার যুগের শিশুরা অনেক স্বাধীনচেতা ও মুক্তমনের অধিকারী। আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সুবিধা বৃদ্ধি তো তাদের পৃথিবীটাই বদলে দিয়েছে। যা আমাদের সময়ে ছিল না।

বাংলাদেশের শিশু প্রজন্মের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের যে পদপে রয়েছে সেগুলো কি যথার্থ বলে মনে করেন? এসবের কি আদৌ প্রতিফলন ঘটেছে বা ফলপ্রসূ হয়েছে?

বাংলাদেশের শিশু প্রজন্মের সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিক্ষা- স্বাস্থ্যসহ সার্বিকভাবে নানা পদপে গ্রহণ করেছে। দরিদ্র শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যাসহ নিরর শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা আছে। পাঠের জন্য গণগ্রন্থাগার, খেলাধূলা ও বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক আছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

এ দেশের শিশুদের মৌলিক সমস্যা যেমন--শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, খেলাধূলার ক্ষেত্রে পৌরসভা, স্থানীয় সরকার কি ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?

শিশুদের মৌলিক সমস্যার সমাধানে মারাত্মক ছয়টি রোগের টিকা প্রদানসহ ভিটামিন এ জনিত রোগ থেকে রার জন্য টিকা খাওয়ানো হয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্য রায় কমিউনিটি কিনিকের ব্যবস্থা আছে। শিক্ষা,খেলাধূলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে  পৌরসভা ও স্থানীয় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। এসবের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়েছে। শিশুরা চিন্তার বাইরে নয়। উদ্যোগহীনতা ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকাই মূল কারণ।

ছাত্রদের কি রাজনীতি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন? করলে কি ধরনের রাজনীতি করা উচিত?

ছাত্রদের অবশ্যই ছাত্ররাজনীতি করা প্রয়োজন। কারণ ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে তা হওয়া উচিত সুস্থ ধারার রাজনীতি।

আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের গড়ে তোলার জন্য কিছু ভাবছেন?

আমি ব্যক্তিগতভাবে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করতে চাই। যাতে শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। মানবেতর জীবন যাপন করতে না হয়।

সময় দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ। কিশোরচিত্রের সকল পাঠকদেরও ধন্যবাদ।




Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.


১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকায় পর্দা ওঠে পৃথিবীর অন্যতম এক মিলনমেলার। যেখানে মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মেতে উঠে জনপ্রিয়তম খেলা ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের জ্বর বছরের শুরু থেকেই পৃথিবীকে কাবু করে রেখেছিল। এর উত্তাপ এসে পড়েছিল এই শ্যামল বাংলার মাটিতেও। এই বিশ্বকাপ ছিল অনেক দিক থেকে অভিনব। এটি ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ। এটি ছিল বিশ্বকাপের ১৯তম আসর। ১২ জুন জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবং এর পর স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে এ আসর শুরু হয়।

এবার ৩২টি দেশ অংশ নেয়। হট ফেবারিট হয়ে আসে ব্রাজিল, স্পেন, এবং ফেবারিটদের মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনা, ইটালি, জার্মানি, ফ্রান্স, হল্যান্ড। কিন্তু আমাদের দেশে জাদুকরী ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা এবং সাম্বা ফুটবলের পূজারী ব্রাজিলই জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এদেশের অনেক ভক্ত সমর্থক তাদের পছন্দের দেশের পতাকা ও জার্সি কিনতে শুরু করে মাসের শুরু থেকেই। দেশের গ্রাম গঞ্জ, শহর পতাকায় ছেয়ে যায়। শুরু হয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে বাদ পড়ে গতবারের দুই ফাইনালিস্ট ফ্রান্স ও ইটালি। সার্বিয়াও চমকে দেয় অদম্য জার্মানদের। ইংল্যান্ডও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পার করে প্রথম রাউন্ড। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা অনায়াসেই পার হয় প্রথম রাউন্ড ও দ্বিতীয় রাউন্ড। তবে দুদলই গতবারের মতো এবারও হাজারো সমর্থককে হতাশ করে ব্রাজিল হল্যান্ড এর  কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফাইনালে উঠে নেদারল্যান্ড ও স্পেন।

স্পেন যোগ্যদল হিসেবেই ২০১০ বিশ্বকাপের মুকুট পরে। তবে আমাদের দেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিদায়ের পরই বিশ্বকাপের আকর্ষণ শেষ হয়ে যায় অনেকটাই। তাছাড়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে নানা কুইজ, টকশো, নাটকও প্রদর্শিত হয়। জেগে উঠে ফুটবল উন্মাদনায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে আমাদের কাছে এখনও ফুটবলই প্রিয়। যদিও আমাদের দেশের ফুটবলের অবস্থান আশাব্যঞ্জক নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দরকার সমগ্র কাঠামো পুনর্গঠন। বাফুফের কার্যকরীকরণ খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা, ১ম, ২য়, ৩য় বিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা রীতিমতো আয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, স্কুল ফুটবল পুনরায় চালু এবং ব্যাপক সচেতনতা। এসব পদক্ষেপ শুরু করলে আমরাও ফুটবলের বিশ্ব অঙ্গনে একদিন খেলতে পারবো।

 

লেখক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস কলেজের দ্বাদশ  শ্রেণী, বিজ্ঞান খ শাখার ছাত্র।


Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.





এই পর্যন্ত যতগুলো বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে ২০১০ বিশ্বকাপ। কারণ এই বিশ্বকাপকে ঘিরে রয়েছে প্রচুর তর্ক বিতর্ক ও কোন কোন স্থানে বেঁধে যাচ্ছে মারামারি। তাছাড়া এই সমস্যায় অনেক দিন ধরেই ভুগছে ফুটবল বিশ্ব। আর ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর এবার প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে তারা একটি Theme Song তৈরি করেছেন। সেটি হল:

Give me freedom, give me fire

Give me reasons, take me higher

See the champions

In the seesaw, take a lift and

Every nation, all around us. 

অর্থাৎ তারা এই গানের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছে যে, বিশ্বকাপকে বা ফুটবলকে তারা কত ভালোবাসে। এবারের বিশ্বকাপটা কার ঘরে যাচ্ছে এ নিয়ে তর্ক না করে আমরা বরং দেখে নিই এই বিশ্বকাপে কার কেমন প্রস্তুতি।

ব্রাজিল

ফুটবলের কথা বলতে গেলেই যেন ব্রাজিলের নামটা এমনিতেই চলে আসে। কারণ তারাই তো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে রেকর্ড গড়েছে। কিন্তু তখনকার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের চেয়ে এখনকার ব্রাজিলের অনেক তফাৎ। কারণ তখন ছিল ব্রাজিলে তারকার ছড়াছড়ি। আর এখন তার ছিটেফোঁটাটাও নেই, কিন্তু সাফল্য আছে। ব্রাজিলে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য তারকা বলতে কেবল এক কাকাই রয়েছেন। যিনি হলেন ২০০৭ সালের ব্যালন ডি অর, প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার ও গোল্ডেন বুট বিজয়ী ফুটবলার। আর কাকার সাথেই রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্যাবিয়ানো, রবিনহো, এলানো ও লুসিও। এরা কি পাবেন ব্রাজিলকে হেক্সা এন দিতে?

স্পেন

হট ফেবারিট বলতে যা বোঝান, স্পেন ঠিক তাই। এবারের বিশ্বকাপে তাই স্পেনকে ঘিরে রয়েছে কোটি কোটি স্প্যানিয়ার্ডদের প্রত্যাশা। কারণ এবারের স্পেন দল পুরোপুরি তারকা ভর্তি। তারকা ভর্তি অর্থাৎ স্পেনের ৯০ ভাগ প্লেয়ারই বিভিন্ন ক্লাবে খেলে সাফল্যে ভাসিয়েছেন তাদের ক্লাবগুলোকে। তারা হলেন, টোরেস, ডেভিড ভিলা, ফ্যাব্রিগাস, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস, ইনিয়েস্তা, কার্লোস নুয়োল, জেরার্ড পিকে, সার্জিও র‌্যামোস ও এক নম্বর গোল রক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস। স্পেন কি পারবে তারকাপুঞ্জ নিয়ে স্প্যানিয়ার্ডদের দুঃখ ভোলাতে।

পর্তুগাল

পর্তুগাল মানেই হল যখন তখন যে কোন কিছু ঘটানো। অর্থাৎ গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালই তার প্রমাণ। কিন্তু এবারের পর্তুগালের যে নাজেহাল অবস্থা, কারণ তারা মূল পর্বে উতরেছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অর্থাৎ তাদের দলের শক্তি যে অনেক কম তা কিন্তু নয়।কারণ পর্তুগালে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাছাড়া রয়েছে ডেকো, ন্যানি, সিমাও ও পেপে। যারা রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হলেন ২০০৮ সালের ব্যালন ডি অর প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার ও গোল্ডেন বুট বিজয়ী ফুটবলার। অর্থাৎ তিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন। তার প্রমাণ তিনি গত বিশ্বকাপে দিলেও এবার কি রোনালদোরা শিরোপা খরা কাটাতে পারবেন। নাকি আবারও ব্যর্থ হবেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার কথা বলতে গেলেই চলে আসে যার নাম তিনি হলেন লিওনেল মেসি। তিনি ২০০৯ সালের ব্যালন ডি’ অর প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার ও গোল্ডেন বুট বিজয়ী ফুটবলার। তিনি বার্সেলোনাকে ট্রেবল জিতিয়েছেন ২০০৯ সালে আর ২০১০ সালে জিতিয়েছেন কিংস কাপ ও লা লীগা শিরোপা। কিন্তু বার্সার হয়ে সফল হলেও মেসি জাতীয় দলে দারূণভাবে ব্যর্থ। মেসি কি পারবেন তার সতীর্থ হিগুয়াইন, ডিয়েগো মিলিতো, আগুয়েরো ও তেভেজকে নিয়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন পুরণ করতে নাকি বরাবরের মত তিনি আবারো বিশ্বকাপে ব্যর্থ হবেন।

উপরোক্ত ৪টি দলেরই বিশ্বকাপ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রচুর। এছাড়া আরও রয়েছে ইনজুরির মিছিলে যোগ দেয়া ইংল্যান্ড ও হল্যান্ড। তাছাড়া জার্মানি, ফ্যান্স ও ইতালি রয়েছে পরের সারিতে।

 

কাজী অরুনিম সাম্য মাগুরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের  ১০ম শ্রেণী ও মাগুরা জেলা ক্রিকেট একাডেমির ছাত্র।

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com