[কিশোরচিত্র প্রতিবেদক] নদ-নদী রয়েছে পৃথিবীর সব দেশেই। সমুদ্র না থাকতে পারে। কিন্তু নদীমাতৃক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো ভূখন্ড বা দ্বীপ কিনা জানা নেই। এর কারণ হল, বাংলাদেশ নদী বহুল অঞ্চল বলে। এদেশে কমপক্ষে ৮০০ নদী প্রবাহিত। আরও কত নদ-নদী মজে গেছে, হারিয়ে গেছে মানচিত্র থেকে তার হিসেব নেই। বেশি নদ-নদীর কারণে বাংলাদেশের নদীপথ ২৪, ১২৪ কিলো মিটার দীর্ঘ। বড় নদী হিসেবে ৫০টি তো রয়েছেই, এর মধ্যে প্রধান নদী হিসেবে ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকেই ধরা হয়। এদের নামই আমরা বেশি শুনে থাকি। ব্রহ্মপুত্র বিশ্বের দীর্ঘতম নদীর একটি তার জলখালাসের দিক থেকে। তাছাড়া এই চারটি নদী বিশ্বের দীর্ঘতম নদীগুলোর অর্ন্তগত। সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশ নামক বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম ব-দ্বীপটিতে নদীবাহিত জলই তার জীবনের একমাত্র আয়ুরেখা (লাইফ লাইন)। হাজার বছর ধরে আমাদের কৃষিনির্ভর পূর্বপুরুষরা নদীবিধৌত এই বাংলাদেশে বসবাস করতে পেরেছে শুধুমাত্র নদ-নদীর জলদ্বারা পুষ্ট পলিমাটি এবং সুস্বাদু মৎস্যসম্পদের কারণে। মাটি ঊর্বরা ছিল মূলত মৌসুমি জলবায়ুর কারণে। এখন তার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে ভূউষ্ণায়নের ফলে। এই ভূউষ্ণায়ন ও পরিবেশ বিপর্যয় সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত। এই মহাসমস্যার কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাহত হয়ে চলেছে নদ-নদীর জীবনপ্রবাহ, সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা। পাল্টে যাচ্ছে নদীর মতিগতি! দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে জলসম্পদ। বিলুপ্ত হচ্ছে পরিবেশ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী মাছ, সাপ, পোকা-মাকড়, শামুক, গুগলি এবং নানা রকম শ্যাওলা, উদ্ভিদ, ঘাস ইত্যাদি। নদীভিত্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে মহাবন্যা তো লেগেই আছে বিগত কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশ জুড়ে। প্রতি বছর বন্যার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ হচ্ছে গৃহহারা। পিতৃভূমি ছেড়ে স্থান বদল করছে বেঁচে থাকার নিমিত্তে। তবুও কমবেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে শত বছর আগেও মানুষ লড়াই করে বেঁচে থেকেছে। কিন্তু এখন যে মহাসমস্যা নদ-নদীর তা হল মানুষ-সৃষ্ট এবং ক্রমেই তা ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করেছে।

ভূউষ্ণায়ন ও পরিবেশদূষণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে দ্বিতীয়বারের মতো শিল্পবিপ্লব ঘটে তখন থেকেই সৃষ্টি হতে থাকে। এখন দেশে-দেশে শিল্পকলকারখানা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে, বাড়ছে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা। সেগুলোতে প্রতিক্ষণই পুড়ছে বিপুল বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও কয়লা তৎ- নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসদ্বারা ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়, বারিবন, জঙ্গল সেইসঙ্গে নদ-নদী-খাল-বিলে নিঃসারণ করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা এবং রাসায়নিক বর্জ্য। যে কারণে জল ও পরিবেশ দূষিত হয়ে মারাত্মক রোগ-ব্যাধি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সব শহরগুলোই। মানুষও প্রতিদিন যে যার ইচ্ছেমাফিক পরিত্যক্ত দাহ্য-অদাহ্য জিনিসপত্র, কাঁচা ময়লা ফেলে দূষণের মাত্রাকে তীব্রতর করে তুলছে। নাভিশ্বাস উঠেছে নদ-নদী-খাল-বিলগুলোর। এই সচেতনতাটা কারো মধ্যেই নেই যে, পানি ও পরিবেশ দূষিত হলে পরে যে মানুষেরই ক্ষতি হবে। সরকার এই সমস্যা সমাধানে তৎপর হলেও দুর্বল কার্যকর ভূমিকার কারণে বহু বছর ধরেই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। বিগত ১০০ বছর ধরে নদীগুলোর নাব্যতা নেই, গৃহীত খননকার্য চলছে ঢিমে তালে। সুতরাং ফলাফল বিচার করলে সরকার কোনো কাজ করছে না এই অর্থই দাঁড়ায়। অর্থাৎ সরকার যে ব্যর্থ তা আর না বললেও চলে। তাহলে কী করা? একমাত্র উপায় জনগণের মাঠে নামা। সামাজিক জাগরণ ও আন্দোলন সৃষ্টি করা। এর বিকল্প নেই।  

আর এই সমস্যাটিকে সাধারণ মানুষের সচেতনতার আওতায় আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে একটি সংগঠন রিভারাইন পিপল, বাংলাদেশ বেশ অনেক দিন ধরেই। এদেশে নদীকে ভালোবেসে তার জীবনপ্রবাহ ও সংস্কৃতিকে রক্ষার আন্দোলন করছে এরকম সংগঠন বিরলই বলা চলে। রিভারাইন এর ওয়েবসাইট, ফেইসবুকও বিদ্যমান। এই সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা রংপুরের ছেলে সাংবাদিক শেখ রোকন। গেল মার্চ মাসে তার সম্পাদিত একটি চমৎকার তথ্যবহুল বার্ষিক সংকলন নদী ২০১১ নামে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে জাপানের নদনদী সংরক্ষণে শিশুদের ভূমিকা নিয়ে একটি শিক্ষনীয় প্রবন্ধ রয়েছে। আমাদের দেশেও শিশু-কিশোর-তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে নদ-নদী-খাল-বিল-পুকুর-দীঘি অর্থাৎ সকল প্রকার জলাশয় সংরক্ষণ ও তৎসংলগ্ন পরিবেশ রক্ষার্থে। কেননা দেশটা তাদেরও। সরকারের দিকে, জাতিসংঘ, বিদেশী সংস্থার সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করতে না পারলে পরমুখাপেক্ষিতা জাতীয় লজ্জার কারণ হবে। রিভারাইন পিপল এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা রইল। এই জাগরণকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন!



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.




আমরা সবাই জানি নোবেল পুরস্কার প্রদান করে থাকে সুইডিস একাডেমীর নোবেল কমিটি। রাজধানী স্টকহোমে নির্দিষ্ট দিনে অর্থাৎ নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার প্রতি বছর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সে বছর তারিখটি পরেছির ১৩। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ঘোষিত লেখক পুরস্কারটি গ্রহণ করেন এবং একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো রবীন্দ্রনাথ নিজে উপস্থিত থেকে নোবেল পুরস্কার কমিটির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন নি। এমনকি বক্তৃতাটি দিতে দিতে সাত বছর পেরিয়ে গিয়েছিল।

একথা এখনও সকলের জানা যে বিভিন্ন দেশের সাহিত্য সংস্থাগুলো বা পূর্বে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকগণ কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠান। ইংল্যান্ডে এ দায়িত্ব রয়্যাল সোসাইটি অব লিটারেচারের সদস্যদের। প্রস্তাব হয়েছিল টমাস হার্ডির (১৮৪০-১৯২৪) নাম। কিন্তু সোসাইটির সদস্য স্টার্জ মূর রবীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন।

রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য বিবেচনার পক্ষে মূরের চিঠিটি ছিল একমাত্র অবলম্বন আর বিবেচিতব্য লেখকের গ্রন্থ ছিল Gitanjali. বলে রাখা প্রয়োজন মূরের রয়্যাল সোসাইটি অব লিটারেচারের সাতানব্বই জন সদস্য হার্ডির নাম প্রস্তাব করেছিল। মোট যে আটাশ জনের নাম প্রস্তাবিত হয়েছিল তাঁদের মধ্যে বাংলাভাষীদের পরিচিত লেখক গ্লাসিয়া দেলেদ্দা (১৮৭৫-১৯৩৬) বা আনাতোল ফ্রাঁস (১৮৪৪-১৯২৪)ও ছিলেন। সুইডিশ একাডেমীর আঠার জন সদস্যের একজন বাংলা জানা প্রাচ্যবিদ ইসারিয়াস টেগনা (১৮৪৩-১৯২৮) কমিটির বাকিদের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে নি জানা যায়। পেরেছিলেন যিনি তিনি হলেন সুইডেনের সমকালীন খ্যাতিমান কবি কার্ল গুস্তাফ হেইডেন স্টাম (১৮৫৯-১৯৪০) যিনি নিজেও পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। গীতাঞ্জলির ইংরেজি ও সুইডিস অনুবাদ পাঠ করে তিনি ভীষণ মুগ্ধ হন। এবং রবীন্দ্রনাথ ও গীতাঞ্জলি বিষয়ে লেখালেখির মধ্য দিয়ে কমিটির বাকিদের মুগ্ধতায় আবিষ্ট করেন। অবশেষে ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ঘোষিত হয় রবীন্দ্রনাথের নাম।

রবীন্দ্রনাথের ঠিকানা জানা না থাকায় ম্যাকমিলান পাবলিশার্সের নিকট থেকে সেটি যোগাড় করে লন্ডন থেকে সংবাদটি সরকারীভাবে রবীন্দ্রনাথকে পাঠানো হয় ১৪ নভেম্বর। লেখা ছিল SWEDISH ACADEMY AWARDED YOU NOBEL PRIZE LITERATURE PLEASE WIRE ACCEPTATION SWEDISH MINISTER. ১৫ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথের নিকট সংবাদটি পৌঁছে, যদিও সেটি পৌঁছানোর দিন ও সময় নিয়ে মতভিন্নতা আছে, সেটি থাকাও হয়তো স্বাভাবিক।

WIRE ACCEPTATION এর উত্তর ১৭ নভেম্বর পাঠানো হয়। এরপর ২০ নভেম্বর সুইডিস একাডেমীর সেক্রেটারির টেলিগ্রাম আসে ‘Nobel Prize will be solemnly handed over Stockholm 10th of December Invite you heartily though fear time will not allow your coming.’  রবীন্দ্রনাথের পক্ষে যাওয়া সম্ভব না বিবেচনা করেই স্টকহোমের ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানানো হয় পুরস্কারটি কবির পক্ষে গ্রহণ করবার জন্য। রাষ্ট্রদূত কবির ধন্যবাদ বার্তা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করেন বাংলার তৎকালীন গভর্ণর লর্ড কারমাইকেলের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ যে ধন্যবাদ বার্তা পাঠান সেটি ছিল এমন ‘I beg to convey to the Swedish Academy my grateful appreciation of the breadth of understanding which has brought the distant near and has made a stranger a brother.’

 

১০ ডিসেম্বর সোনার মেডেল ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন রাষ্ট্রদূত ক্লাইভ। পড়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের পাঠানো ধন্যবাদ বার্তা। ডিপ্লোমাতে সুইডিস ভাষায় লেখা ছিল ‘Awarded to Rabindranath Tagore, because of his profoundly sensitive, fresh, and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West.’ ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার কলকাতার গভর্নর হাউজে সে মেডেল ও ডিপ্লোমা সুইডিস কনসাল এবং সরকারী বেসরকারী বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথের হাতে তুলে দেন লর্ড কারমাইকেল।

পুরস্কারপ্রাপ্ত কবিকে নোবেল বক্তৃতা দানের ব্যাপারে যে শর্ত ছিল সেটি তাহলে কবে পূর্ণ হলো? ততদিনে সাত বছর পার হয়ে গেছে। আমেরিকা ভ্রমণরত কবির সুইডেন ভ্রমণে সম্ভবনা জেনে সুইডিস একাডেমীর সেক্রেটারী Dr. Erik Axel Karfeldt (১৮৬৪-১৯৩১) ৯ নভেম্বর ১৯২০-এ কবিকে যে টেলিগ্রাম করেন তাতে লেখা ছিল ‘If you intend going Sweden Swedish Academy bids you welcome to Nobel Feast December 10.’ তারিখটি খেয়াল করার মত কেননা ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ১৯১৩ সালে কবির পক্ষে নোবেল গ্রহণ করেন রাষ্ট্রদূত। দুর্ভাগ্য, কবি এবারও যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। শেষ পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছেছিলেন ১৯২১ সালে ২৪ মে তারিখে। স্টকহোম রেলস্টেশনে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এই সফরকালে ২৬ মে বিকেল সাড়ে চারটায় কবি তার নোবেল বক্তৃতাটি প্রদান করেন।

 

লেখক: কিশোরচিত্র পত্রিকার উপদেষ্টা



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.






রক্তে প্রোটিন বিদ্যমান। প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে এই রক্তে। প্রোটিন ছাড়াও রক্তে আছে ধাতব মৌল লোহা। এই লোহা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে লাল রং ধারণ করে আর এজন্যই রক্তের রং লাল। কোন কোন প্রাণীর রক্তে লোহার বদলে থাকে তামা এবং তখন তাদের রক্তের রং হয় নীল। যেমন, গলদা চিংড়ি, কাঁকড়া এবং কিছু কিছু মাকড়সা। কীটপতঙ্গের রক্তে কোনো ধাতব মৌল থাকে না বলে তাদের রক্ত বর্ণহীন।
যদি এমন শোনা যায় যে মানুষ রক্ত খাচ্ছে শুধু রক্তের এই প্রোটিন উপাদানের জন্য, তাহলে? আফ্রিকার মাসাই  সম্প্রদায় গরুর গলার রগ অথবা কোন একটি ধমনী থেকে রক্ত ঝরিয়ে তার সাথে দুধ মিশিয়ে নিয়মিত খাদ্য হিসেবে খাচ্ছে!

মানুষ রক্ত খাচ্ছে শুনেই আমাদের কেমন লাগছে! অথচ এই রক্তই হচ্ছে কিছু কিছু প্রাণীর মূল খাদ্য। যেমন, উকুন, জোঁক এবং ছারপোকা।

জোঁকের ইংরেজি হচ্ছে Leech যার ইংরেজি ভাষায় চিকিৎসকের একটি  অত্যন্ত  প্রাচীন প্রতিশব্দ। অর্থাৎ জোঁক এক সময় ছিল চিকিৎসক। এটি যখন দাঁত দিয়ে কিছু কামড়ে ধরে কাটে তখন কাটাটুকু হয় ইংরেজি Y এর মত। জোঁকের লালা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন এটি কোনো প্রাণীর চামড়া কামড়ে ধরে রক্ত খাবার জন্যে তখন সেই প্রাণীটি ব্যথা পায় না। কারণ জোঁকের লালায় যে রাসায়নিক দ্রব্য আছে তা ব্যথা নিরাময়কারী। প্রায় তিন হাজার বছর আগে থেকে জোঁককে চিকিৎসার জন্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। জোঁককে বর্তমানে ব্যবহার করা হয় অস্ত্রপচারে শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ পুনঃস্থাপন করতে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরে ৫ বছরের একটি বাচ্চার কান কুকুরে কামড়ে আলাদা করে ফেলেছিল। চিকিৎসকরা অস্ত্রপচার করে কানটি পুনঃস্থাপন করতে পারলেও সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। রক্ত সঞ্চালনের জন্য ধমনী শিরা জোড়া লাগানোর যথেষ্ট চেষ্টা করলেও সেগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। ছিন্নভিন্ন শিরা ধমনীগুলো থাকে দুর্বল এবং তার ভিতর দিয়ে রক্ত সঞ্চালিত   হতে চায় না। কাজেই সেখানে রক্তগুলো এসে জমা হয় কিন্তু কোথাও সঞ্চালিত হতে পারে না। তখন হাসপাতালের সার্জনেরা বাচ্চার  কানে কয়েকটা জোঁক লাগিয়ে দিলেন। ক্ষুধার্ত জোঁকগুলো  জমা হয়ে থাকা  রক্ত খেয়ে ক্ষত স্থানটাকে রক্ষা  করে। এটা সম্ভব হয়েছিল কারণ এরা রক্ত টেনে নিচ্ছিল বলে সেখানে রক্ত সঞ্চালিত হচ্ছিল। বর্তমান বাজারে চিকিৎসায় ব্যবহার করার জন্য একটা হৃষ্টপুষ্ট (কিন্তু ক্ষুধার্ত)  জোঁকের দাম সাত থেকে আট ডলার যা বাংলাদেশের টাকায় ৫০০ টাকা। জোঁক একবার ভালো মতোন রক্ত খেয়ে নিয়ে ৩-৪ মাস  পর্যাপ্তকিছু খায় না বলে একটা জোঁককে বারবার ব্যবহার করা যায় না।

এমনকি মানুষের দেহে কোথাও পচন ধরলে এবং সেটা অস্ত্রোপচার করে না পরিষ্কার করা গেলে সেখানে মাছির ডিম ঢুকিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে লাভা বের হয়ে, সর্বগ্রাসী  ক্ষুধা নিয়ে বেছে বেছে পচা মাংস খায় এবং মাছি হয়ে এক সময় উড়ে বের হয়ে যায়।

সুতরাং আমাদের চারপাশের বিচিত্র জীবজন্তু, প্রাণী, পোকামাকড় যে কত মূল্যবান তা ভবিষ্যতে আরো বিপুলভাবে প্রমাণিত হবে।

 

ফাতেমা তুজ জোহরা টুম্পা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস কলেজ, ঢাকার দ্বাদশ, বিজ্ঞান ক শাখার ছাত্রী


Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com