
![]() কবি
ফখরুল হুদা হেলাল যেমন সৃজনশীলতার দিক থেকে তেমনি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের দিক দিয়েও
অপরাজিত একজন যোদ্ধা। তারুণ্যে তিনি ছিলেন যেমন ঈর্ষণীয় কবি, পাশাপাশি তুখোড় প্রতিভাধর
নাট্যকর্মী। আবার সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে সারা বাংলাদেশব্যাপী আলোড়ন তোলার জন্যও
তিনি বিখ্যাত। এখনো তিনি দুর্বার এবং শক্তিশালী। এখনো তিনি প্রতিবাদী, রাগী কেশর ফুলিয়ে
শাসন করেন কুমিল্লার সমগ্র সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাঠ-মঞ্চ। যার জীবনে সূর্যাস্তের আরও
অনেক বাকি। তারুণ্যকে
আপাদমস্তক তিনি উপলদ্ধি করেছিলেন বলেই শিশুদেরকে ভালোবাসেন। তারই অসামান্য একটি কাজ
২০০৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত 'স্বাধীনতা মানেই জাতীয় পতাকা'
শীর্ষক একটি শিশু ছড়া-কবিতা সংকলন। ১৬ জন শিশুর ছড়া ও কবিতা তুলে ধরেছেন এই সংকলনে
তাদের ছবিসহ। এটা অভিনব এই কারণে যে, স্বহস্তে লিখিত লেখাগুলো হুবহু মুদ্রিত হয়েছে
কিন্তু ছাপার অক্ষরে নয়! বড় হয়ে এই শিশুরা যখন একদিন এই সংকলনটি পড়বে তখন কী অনুভূতি
হবে তাদের ভাবলেই চোখে জল এসে যায়! যারা
লিখেছে তারা হল: ইলমা শাহারী, আরহাব হাসানাত সিয়াম, তাওফিকুল হুদা মুগ্ধ, নোশিন তাসলিমা,
আহসান শাহরিয়ার, মোঃ মাজিদুল হক অনি, ফাহিম খান অহি, সাইয়িদ মাহমুদ তাহসীন নিয়ন, মেহনাজ
মায়িশা লগ্ন, সুলতানুর রাহীম, সৈদা নাভান নাহিয়ান, কাজী তাসনোভা, ফাহিম ফজলে রাব্বি,
নুসরাত জাহান তৃণা, শচীন ভট্টাচার্য ও ইসরাত জাহান ওয়াহিদা। যেমন
ইলমা লিখেছে: স্বাধীনতা গৌরব/স্বাধীনতা পাতাকা/সময় থাকবে/কথা থাকবে/তবু/আমার স্বাধীনতা/দেশের
জন্য পবিত্রতা কিংবা নাহিয়ান লিখেছে: যে লোকটা সারা জীবন/করেই গেল যুদ্ধ/আপোষ মোটেই
করেননি তাই/শত্রু ছিলো ক্রুদ্ধ। কী অসাধারণ চেতনাবোধ শিশুদের স্বদেশ সম্পর্কে যা হৃদয়
কাঁপিয়ে তোলে! মূল্যবান
এই সংকলনটি প্রকাশ করেছেন ফখরুল হুদা হেলাল তাঁর 'কবিতাবাংলা' সংগঠনের পক্ষে। Powerd by Manchitro Publishers, 2011Copyright © All Rights Reserved. ![]() সবারই ছেলেবেলা থেকে অনেক শখের অনেক পছন্দের
বই থাকে। আর সে সব বই থেকে যদি আমরা জ্ঞান ও সুশিক্ষা লাভ করতে পারি তাহলে তো কথাই
নেই। আমারও সে রকম একটি পছন্দের বই রয়েছে। শুধু আমার কেন আমার মতো অনেক কিশোর-কিশোরীরাও এই বইটি খুব পছন্দ করে।
বইটি হচ্ছে কলকাতার বিখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বিরচিত ‘কাকাবাবু সমগ্র’। খুব ছোটবেলা থেকে আমি রোমাঞ্চকর জিনিস
একটু বেশিই পছন্দ করতাম। কারো বাসার আম বা বড়ই চুরি করা, বন্ধুদের নিয়ে বনে বাদাড়ে
ঘুরে বেড়ানো, কোনো রহস্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া আর তা সমাধানের জন্য উঠে পড়ে লাগা ছিল
আমার প্রিয় স্বভাবগুলোর অন্যতম। তাই গোয়েন্দা কাহিনী বা রোমাঞ্চকর কাহিনীর বইগুলো আমি
বেশি পড়তাম বা পড়তে পছন্দ করতাম। যেদিন প্রথম আমি কাকাবাবু সমগ্র পড়া শুরু
করেছিলাম সেদিন থেকেই আমি অনুধাবন করতে লাগলাম যে আমি এতদিন ধরে কি অনুসন্ধান করছিলাম!
লেখক এই বইটির প্রত্যেকটি মুহূর্তকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে প্রত্যেকটি অংশতে এক এক রকম
রোমাঞ্চকর অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এই বইয়ের মূল চরিত্র কাকাবাবু ওরফে রাজা
রায়চৌধুরী একজন খোঁড়া মানুষ। ফেলুদার কাহিনিতে যেমন ফেলুদা ও তোপসে তেমনি, এখানে কাকাবাবু
ও সন্তু জুটি। কাকাবাবু আগে চাকরি করতেন এখন রিটায়ার্ড হয়ে ঘরে বসে বিভিন্ন রহস্যের
সন্ধান করেন। একটি পা খোঁড়া হওয়া সত্তে¡ও কি অসাধারণ তাঁর সাহস, কি পরিমাণ দৃঢ় মনোবল তা সত্যিই আমাকে বিস্মিত
করে! তার ইচ্ছেশক্তিতে কি যেন আছে যা আমাকে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে। তাঁর প্রত্যেকটি
অভিযানের মাঝে যেন আমি হারিয়ে যাই। কি অপূর্ব ও মনোমুগ্ধকর সেই অভিযানগুলো! শত্রুদের
ঘায়েল করার কি অভিনব পদ্ধতি। আর সন্তু ওরফে সুনন্দ রায় চৌধুরী তাঁর ভাগ্নে এবং ডান
হাত। সন্তু চরিত্রের বুদ্ধিমত্তা সত্যিই খুবই প্রশংসনীয়। বাজারে নানা রকম বই আছে। কোনটি ইতিহাস
বিষয়ক, কোনটি সাহিত্য নির্ভর আবার কোনটি গোয়েন্দা কাহিনী। কিন্তু কাকাবাবু সমগ্র যেন
সব কটির মিলিত রূপ। কী নেই এতে! এই বই থেকে পৃথিবীর নানা গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস, বিভিন্ন
দেশের ভূ-খণ্ডের বিস্ময়কর পরিচয়, সাহিত্য সম্বন্ধে ধ্যান-ধারণা, রোমাঞ্চকর অভিযান আর
নানা চরিত্রের সমাবেশ লক্ষ করা যায়। আমি মনে করি, ছোট বা কিশোর-কিশোরীদের
‘কাকাবাবু
সমগ্র’ থেকে অনেক কিছুই শিক্ষণীয় রয়েছে।
তাদের বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ বইটি সহায়ক হতে পারে। তাই ‘কাকাবাবু সমগ্র’ই আমার প্রিয় বই। রাকা ফারহাৎ অন্তরা
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস কলেজ, ঢাকায়, দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved. ![]() বিপ্রদাশ
বড়–য়ার ‘এইসব আগামীকাল ঘটেছিল’ (প্রকাশ ২০০৫) দুইটি গল্প উপন্যাসের সংকলন। প্রথম উপন্যাস
‘রোবট মানবীর অভিসার’ নামক কল্পউপন্যাসটিতে লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া অত্যন্ত
চমৎকারভাবে মানবসদৃশ রোবটনারী কিভাবে মানবী হয়ে ওঠে তা বর্ণনা করেছেন। এই উপন্যাসের
পুরো ঘটনাই কাল্পনিক। চারদিকে বিজ্ঞানের যে বিস্ময়কর সাফল্য তাতে বলা যেতে পারে যে,
পৃথিবীতে হয়ত কোন এক সময় এমন ঘটনা ঘটবে। লেখকের
সৃষ্টি ‘মিকো’ নামক রোবটাটিও দেখতে অবিকল একটি মানবনারীর মতো। যার মধ্যে একটি নারীর
চরিত্র ধরা পড়ে। প্রথম প্রেমের প্রস্তাব পাওয়ার পর তার মনের মাঝে নারীত্বের বৈশিষ্ট্য
লক্ষ্য করা যায়। তার মনের মাঝে ভালোবাসার সৃষ্টি
হয় এবং সে প্রেমে পড়ে। তার (রোবট) প্রেমিকের মা-বাবাও জানতো না যে সে রোবট। সেও সাধারণ
মেয়েদের মতো মা হতে চায়। কিন্তু রোবটের পে
তা অসম্ভব। তার প্রেমিকও তাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করে। তাদের বিয়ে হয়। তাকে (রোবট)
কিছু সূত্র মেনে চলতে হয়। এই সূত্র অমান্য করার কারণে সে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। সে জড়
পদার্থের মতো ঠান্ডা হয়ে পড়ে। এই কল্পউপন্যাসে লেখক ট্যাক্সিকপ্টার নামে একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের কথা
বলেছেন। যার মাধ্যমে মানুষ সরাসরি ঘরের ছাদের মধ্যে নামতে পারে এবং একদেশ থেকে অন্য
দেশে যাতায়াত করতে পারে। এই
উপন্যাসের লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়ার দৃষ্টি সুদূরপ্রসারী। পুরো উপন্যাসেই লেখক চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই
উপন্যাসে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, রোবট মানুষের মতোই কথা-বার্তা, ধ্যান-ধারণা ও কাজকর্ম
করতে পারে; কিন্তু সম্পূর্ণরূপে মানবী হয়ে উঠতে পারে না। “এই
সব আগামীকাল ঘটেছিল” শীর্ষক উপন্যাসটি এই সংকলনের
দ্বিতীয় অংশ। এই কল্পউপন্যাসের সুলেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া অত্যন্ত চমৎকারভাবে মানুষের সাথে
রোবটের বিদ্রোহের কথা তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ এই সংকলনের দুইটি কাহিনী পরস্পর বিরোধী ধারণা
থেকে রচিত। আলোচ্য কাহিনীতে লেখক (উত্তম পুরুষে ব্যক্ত) লায়লা ও প্রকসিমা ছিল আকাশযান
১৪ এর অভিযাত্রী। লেখক ও লায়লা মানুষ, আর প্রকসিমা রোবট। লায়লা ও লেখক একে অপরকে ভালোবাসে।
প্রকসিমা তা ঠিক পছন্দ করত না। তাই লায়লা ও তার প্রেমিক তাকে অচল করতে চেয়েছিল। প্রকসিমা অবিশ্বাস্য
ক্ষমতার অধিকারী। যে কাজ প্রকসিমা অনায়াসে করতে পারে, সে কাজ তাদেরকে কতে বেগ পেতে
হত। ওর মধ্যে যে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি আছে তা কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও অনেক
শক্তিশালী। আকাশযানের এক প্রান্তে থাকলেও সে তাদের কথা শুনতে পেত। তাই প্রকসিমাকে নিয়ে
তারা ছিল মুশকিলে। লেখক ও লায়লার মধ্যে যে আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তা সে রাতে ঘুমের মধ্যেও
জানতে পারতো। তারা জানতো প্রকসিমাকে ছাড়া তারা কোন দিন ফিরে আসতে পারবে না। প্রকসিমা
এক সময় পৃথিবীর সংকেত মতো তাদের নির্দিষ্ট কক্ষপথ থেকে এক অজানা পথে মহাকাশযান পরিচালনা
করেন। এতে লায়লা ও লেখক প্রথমে বিচলিত হয়। তারা এক সময় সীমাহীন অন্ধকার রাজ্যে হারিয়ে
যায়। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়ে। জ্ঞান
ফিরে এলে তারা দেখে অত্যন্তএক ঝকমকে নীল বা কালো আকাশ। তারা ব্যাক হোল বা কৃষ্ণ বিবরের
পাশ কেটে একটি নক্ষত্রে কয়েক বছর ঘুরেছিল।
প্রকসির জন্যই তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছিল। তারপর তারা প্রকসিমার মাধ্যমে
তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত গ্রহ পৃথিবীতে পৌঁছেতে সক্ষম হয়। পৃথিবীতে
নেমে তারা দেখে শুধু বরফ আর বরফ। তাদের ধারণা তারা সুমেরু বা
কুমেরুতে নেমেছে। প্রকসিমা জানায় তারা চট্টগ্রামে নেমেছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই
হয়ত বা পুরো অঞ্চল বরফে আচ্ছাদিত। তারা দুইজন বরফের মধ্য দিয়েই হাঁটতে থাকে। এক সময়
প্রকমিসা তাদেরকে পৃথিবীতে রেখেই মহাকাশযান ১৪ নিয়ে অসীম শূন্যের দিকে চলে যায়। তারা
লোকালয়ের উদ্দেশ্যে বিজন বরফের মধ্য দিয়ে হাঁটতে থাকে। এক সময় তুষারপাত শুরু হয়। তারা একটি নলখাগড়ার ঝোঁপের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেই
সময় কতগুলো শেয়াল তাদেরকে অনুসরণ করে। তাদের মনে হচ্ছিল ৫০-৬০ বছর তারা মহাকাশে কাটিয়েছিল।
প্রকসিমার জন্যই তারা বিচিত্র ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছিল। এক সময় তুষারপাত
বন্ধ হয়। শেয়ালগুলো তাদেরকে লোকালয়ের সন্ধান দেয়। তারপর তাদের বন্ধুদের সাথে টেলিফোনে
যোগাযোগ ঘটে। এই
উপন্যাসের পুরো ঘটনাই কাল্পনিক। উপন্যাসের কোন এক পর্যায়ে রোবট প্রকসিমাও লায়লাকে কাছে
পেতে চেয়েছিল। কিন্তু এই উপন্যাসের ত্রিমাত্রিক প্রেমের কাহিনীতে রোবটিক প্রেম এই উপন্যাসেও
বৈচিত্র্য আনয়ন করে ও পরিণামে মানবিক প্রেমের জয় প্রকাশ পায়। লেখক
এখানে দুইটি সত্য উপস্থিত করতে চেয়েছেন। প্রথমত, এই কল্পউপন্যাসে আমরা দেখতে পাই যে একটি নভোযান মহাশূন্যের মাঝে হারিয়ে গিয়েও সে তার
কাক্সিখত ল্য বস্তুতে এসে পৌঁছতে পারে। রোবটের
সাহায্যে মানুষের জয়। দ্বিতীয়
সত্যটি কিন্তু প্রাকৃতিক রোবটের আশ্চর্য ও অসীম ক্ষমতার পরও মানুষই যন্ত্রশক্তির চালক।
সেখানে মানুষের জ্ঞান ও মহিমার কাছে যন্ত্রশক্তির পরাজয়। মানুষের এই মহিমার জন্যই পৃথিবী
চিরদিন যন্ত্রনির্ভর থেকেও সৃজনশীল মানুষের বসবাসকে সার্থক করে রাখবে। এইসব
আগামীকাল ঘটেছিল বিপ্রদাশ
বড়ুয়া প্রকাশক:
সাহিত্য বিলাস, বাংলা বাজার, ঢাকা-১১০০ প্রচ্ছদ:
হাশেম খান মূল্য:
৬৫ টাকা মাত্র। রামিনুর রহমান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস কলেজ, ঢাকার দ্বাদশ, বিজ্ঞান
বিভাগের ছাত্র Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.
|