
![]() ভূতপ্রেতের
অশুভ কর্মকান্ড থেকে রেহাই পাবার জন্য বহু দেশে নানা কালে ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ চালু ছিল--এখনো
আছে। তাবিজ-কবজ, যাগযজ্ঞ ও নানা ওঝার কান্ডকারখানা আমাদের দেশে ছিল এবং আছে। প্রাচীন
তন্ত্রশাস্ত্রে ভূতশান্তির জন্য রণযক্ষিণীর পূজার বিধান রয়েছে। বৌদ্ধদের রত্নকূটসূত্র
নামক তন্ত্রগ্রন্থে আছে হারিতী নামের এক যক্ষিণীর পূজাপদ্ধতি। হারিতী
হল এক যক্ষিণী বা পিশাচী বা পেতনি। সে হচ্ছে ক্ষুধাতুর প্রেতদের রাণী। তার মুখমন্ডল
সাংঘাতিক উতপ্ত। হারিতীর পাঁচশ সন্তান। সবাই খাই খাই করত দিনরাত। এই পেতনি জীবন্ত শিশু
ধরে এনে সন্তানদের খাওয়াতো। তবুও তার সন্তানদের খাই খাই মিটত না। দেশের মানুষজন অতিষ্ঠ
হয়ে উঠল হারিতীর অত্যাচারে। ওই সময়ে বুদ্ধদেব মহামুদ্গলপুত্র মুনি হারিতীর আস্তানায়
গেলেন। খিদেয় কাঁই-কাঁই করছে হারিতীর সন্তানেরা। তাদের মধ্যে ছোটটির নাম পিঙ্গল। বুদ্ধদেব
পিঙ্গলকে ধরে তার কমন্ডলুর (সন্ন্যাসীদের জলপাত্র) মধ্যে লুকিয়ে রাখলেন। হারিতী টের
পেল না। পরে সে প্রিয় পুত্রকে দেখতে না পেয়ে অস্থির হয়ে কাঁদতে লাগল মুনির কাছে। মুনি
বললেন, ‘তোমার অনেক সন্তানের
মধ্যে একটি হারিয়ে গেছে বলে এত অস্থিরভাবে ছটফট করছ। যাদের শিশুসন্তান তুমি প্রতিদিন
হত্যা করছ তাদের কেমন কষ্ট হয় তাহলে?’ হারিতীর বোধোদয় হল। সে প্রতিজ্ঞা
করল যে পিঙ্গলকে ফিরে পেলে সে আর মানবশিশুকে হত্যা করবে না। বুদ্ধদেব পিঙ্গলকে বের
করে দিলেন কমন্ডলু থেকে। সেইসাথে হারিতীকে জানালেন যে ভবিষ্যতে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা খাবার
সময় হাতিরীর উদ্দেশে এক গ্রাস অন্ন রেখে দেবে। সেইসাথে হারিতীর পূজাও চালু হল। নেপাল,
তিব্বত, চীন প্রভৃতি দেশে নানা বৌদ্ধমন্দিরের দ্বারে হারিতীর মূর্তি আছে। এই প্রেতিনীর
পূজা দিলে নাকি আর ভূতপ্রেতের ভয় থাকে না। তারা লোকালয়ে আসে না। বিশ্বের
সব সভ্যদেশেই শিশু অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুবিধ আইনকানুন রয়েছে। জীবনের অধিকার
যে শিশুর জন্মগত অধিকার তা শিশু অধিকার সনদে পরিষ্কার। তা সত্ত্বেও এদেশে অসংখ্য ভূত-প্রেত,
পিশাচ-যক্ষ এবং নরাধম পশুরা প্রতিনিয়ত হত্যা করছে শিশুদেরকে। তাদের আশ্রয়, সম্বল কেড়ে
নিচ্ছে। এতিম হচ্ছে অসংখ্য শিশু প্রতিনিয়ত। বাবা-মা, অভিভাবক কেউ আর স্বস্তির মধ্যে
লালন করতে পারছেন না তাদের বুকের ধনকে। হারিতীররা কেড়ে নিচ্ছে শিশুর প্রাণ। তাদের উতপ্ত
মুখমন্ডলে শিশুর রক্ত! স্কুলগামী শিশু নিরাপদ নয়। মাতৃজঠরে শিশু নিরাপত্তাহীন! মাঠে-ঘাটে
শিশুরা অসুস্থ পরিবেশে থাকে। তাদের সামলাতে অভিভাবকরা শঙ্কার সমুদ্রে। বাড়ির পরিবেশেও
শিশুদের বাকস্বধীনতা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, গোপনীয়তা রক্ষা, আদর পাওয়া, আঘাত না পাওয়া,
বিশ্বাস লালন, চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শখ পোষণ ইত্যাদি অধিকার খর্ব
করা হচ্ছে নিত্যদিন। তাদের একত্রিত হবার অধিকার ধ্বংস হয়েছে। খেলার মাঠ, আনন্দের স্থান
অন্তর্হিত হয়ে যাচ্ছে অতি দ্রুত। নিরানন্দ, নিস্পৃহ, ঘরকুনো শিশুর সংখ্যা বাড়ছে-বাড়ছেই।
কারো ফুসরত নেই তাদের দিকে তাকানোর। এভাবেই গড়ে উঠছে আমাদের বংশধর--বাংলাদেশের উত্তর
প্রজন্ম-সমাজের আগামী নাবিক। হারিতীর
বিচরণক্ষেত্র ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। শিশু ধরে তারা চালান দিচ্ছে বিদেশে। কঙ্কালে
পরিণত হচ্ছে অনেক অবোধ শিশু। সমাজের চোখ এখন এসব দেখে দেখে বুজে আসছে। সমাজের কান বন্ধ।
সমাজের বিবেক এখন অনেক কিছু সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। হারিতীরা এখন আমার আপনার মনে, পরিবারে,
সর্বত্র প্রবলভাবে বিচরণ করছে। ধরে ধরে গিলে খাচ্ছে শিশুর জীবন। পুষ্ট হচ্ছে ভূত-পেতনির
সন্তানেরা যারা বড় হয়ে সন্ত্রাস, রাহাজানি, হত্যা, লুন্ঠন, অরাজকতার দাপট ছড়িয়ে সহজেই
সমাজনিয়ন্তার আসনে আসীন হবে। খাই খাই করা পিশাচপুঙ্গবেরা সমাজের প্রজ্ঞা, বিবেক, মেধা,
সাহস, যুক্তি, বুদ্ধি, দেশপ্রেম, শক্তি আর বিদ্যার বিনাশ ঘটাতে তৎপর হয়ে মাতালনৃত্য
শুরু করেছে বহু আগে থেকেই। সাধারণ শিশুদের মানুষ হবার সুযোগ কই? অল্পবয়স্কদের পাপ কম
বলে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের যে শাস্ত্রীয় নির্দেশ রয়েছে--তা পালিত হচ্ছে কি?
একজন
বুদ্ধদেব চাই যিনি তার বোধি দিয়ে সৃষ্টি করবেন অনেক বুদ্ধ। হারিতী এবং তার সন্তানদের
মুখে অন্য প্রয়োজনীয় আহার তুলে দিয়ে হলেও আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। মন্দিরের
দ্বারপাল হিসেবেও হারিতীরা নিয়োজিত হয়েছে বুদ্ধের বুদ্ধিতে। তাহলে বোঝা যায় যে ভূত-পেতনিদের
অভ্যাস পরিবর্তিত হতে পারে। সন্তানকে হারিতীও ভালোবাসে। আমরাও আমাদের সন্তানকে ভালোবাসি।
শক্তির বদলে বুদ্ধি দিয়ে এখনো হারিতীর শক্তিকে প্রতিহত করে কল্যাণসুন্দর সমাজ গঠন করা
সম্ভব। মারণ, বশীকরণ মন্ত্র এবং তাবিজ-কবজ ছেড়ে বুদ্ধির প্রসার করাই জরুরি। তাবিজ-কবজের
সাহায্যে ক্ষুধার্ত হারিতীর সন্তানদের সাময়িকভাবে বশীভূত করা গেলেও একমাত্র বুদ্ধির
ও প্রজ্ঞার বিস্তারই ঠেকাতে পারে এদের ভবিষ্যৎ ভয়ংকর উত্থান। আমাদের উত্তর প্রজন্মকে
গড়ে তুলতে হলে তা না করে উপায় কী? লেখক: বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন সচিব, প্রাক্তন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, লেখক ও গবেষক ![]() আমাদের বাসার
চারপাশে অনেক গাছপালা। এখানে অনেক ধরনের পাখি রয়েছে। কাক, ময়না, শালিক, চড়ুই। আরো নাম
না জানা অনেক রকমের পাখি। তবে কাক তুলনামূলক বেশি। একদিন আমি বারান্দায়
দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি একটি কাকের পা ভাঙা। সে পা মুড়ে বসে আছে। তার সামনে দিয়ে রিকসা
যাচ্ছে। অথচ সে উড়ছে না। হঠাৎ একটি বিড়াল তার দিকে চুপি চুপি আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে।
বিড়ালটিকে দেখে কাকটি অনেক কষ্টে এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে চেষ্টা করছে আর উচ্চস্বরে
কা-কা করছে। তার কা-কা ডাক শুনে নিমেষেই অনেকগুলো কাক উড়ে এসে সমস্বরে চিৎকার জুড়ে
ছিল। আর বিড়ালটিকে ঠোকর মারতে লাগল। বিড়ালটি বিপদ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে গেল। তারপর কাকগুলো
আহত কাকটির ডানা দুটো ঠোঁটে করে ধরে একটি গাছের ডালে উঠানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে
লাগল। আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলাম দুঘণ্টার একান্ত প্রচেষ্টায় কাকটিকে একটি নিচু
গাছের ডালে তুলতে সক্ষম হল। ওদের কাণ্ড দেখে নিজের অজান্তেই আমার দু'চোখে জল এসে গেল!
এই কাকগুলোর মতো আমরাও যদি বিপদগ্রস্থ মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই, তাহলে
বিপন্ন, অসহায় অনেক অনেক মানুষ বাঁচার পথ খুঁজে পাবে। তাহলে আমাদের এই পৃথিবী একদিন
অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved. ![]() ১৮৭১ সালের কোন এক বসন্তকালে একজন তরুণ
একটি বইয়ের একুশটি বিষয় পড়েছিলেন। বিষয়গুলো তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
মন্ট্রিল জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার
কাম ছাত্র শেষ পরীক্ষার পর কোথায় যাবেন? কি করবেন? ডাক্তারি পাশ করার পর কিভাবে জীবিকা
অর্জন করবেন? ইত্যাদি দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। ১৮৭১ সালে ঐ তরুণ ডাক্তার কাম ছাত্রটি
যে বিষয়গুলো পড়েছিলেন সেসবের সাহায্যেই তিনি হয়েছিলেন তাঁর কালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক।
তিনি আমেরিকায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত জনহোপকিন্স স্কুল অব মেডিসিন এর প্রথম অধ্যাপক
ছিলেন। তিনি অক্সফোর্ডের রেজিয়াস প্রফেসর নিযুক্ত হয়েছিলেন। এটা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে
কোন শিক্ষাবিদকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ সম্মান। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডের রাজা তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতেও ভূষিত করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর জীবনী সহস্রাধিক
পৃষ্ঠার অধিক গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। এই চিকিৎসক ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত প্রতিভাধর
স্যার ইউলিয়াম অসলার (১৮৪৯-১৯১৯)। ১৮৭১ সালের কোন এক বসন্তকালে যে বিষয়গুলো তিনি পড়েছিলেন
সেগুলোর রচয়িতা ছিলেন টমাস কার্লাইল (১৭৯৫-১৮৮১)। ৪২ বছর পর এক নাশিতোষ্ণ বসন্তের রাতে
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউলিপ ফোটা আঙ্গিনায় স্যার অসলার ছাত্রদের সামনে বলেন, তাঁর
মতো একজন মানুষ যিনি ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, জনপ্রিয় গ্রন্থ লিখেছিলেন। আমি বলতে
চাই, আমাদের সব যন্ত্রপাতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে দৈনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত
হওয়া যায় এবং যাতে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করা যায়। আর একটা লোহার গেটকে বোতাম টিপে
বন্ধ করে দাও যা আসলে লালিত ভবিষ্যৎ। অতীতকেও রুদ্ধ দাও। অতীতের কথা ভেবে আমার জানামতে
অনেক মুর্খই মরেছে। ভবিষ্যত সে অনেক বড় বোঝা। ভবিষ্যতকেও অতীতের মতো বন্ধ করে দাও।
আমি মনে করি ভবিষ্যৎ হলো আজ --আগামীকাল বলে কোনকিছু নেই। মানুষের মুক্তির দিন হলো আজ,
মানুষ ভবিষ্যতের কথা ভেবে শক্তিহীনতা, মানসিক দুশ্চিন্তা আর স্নায়ুর দুর্বলতায় ভোগে।
অতএব অতীত আর ভবিষ্যতকে অনর্গল রুদ্ধ করে রোজকার জীবন নিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করো। উপরোক্ত কথাগুলোকে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে
নেবেন। আমি নিয়েছি আমার মতো করে। আমি স্যার অসলারের সঙ্গে একমত। আমার মনে পড়ছে, মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান এ্যাডমিরাল আর্নেস্ট জে কিং একবার বলেছিলেন, যুদ্ধের
সময় আমাদের সামরিক নেতারা ভবিষ্যতের জন্য অনেক পরিকল্পনা করেন। আমি আমাদের সেনাদেরকে
সব সেরা জিনিসপত্র দিয়েছি। সঙ্গে দিয়েছি সবচেয়ে ভালো কাজের দায়িত্ব। এর বেশি আর কিছু
করা নিয়মবিরুদ্ধ। এ্যাডমিরাল কিং আরও বলেছিলেন, একটা যুদ্ধ জাহাজ ডুবে গেলে তাকে সহজে
তুলে আনা যায় না। জাহাজ ডুবতে আরম্ভ করলে কারো শক্তি নেই তাকে ভাসিয়ে রাখতে। এর সঙ্গে
তুলনা করে বলা যায়, গতকালের কথা না ভেবে আজকের সমস্যা নিয়েই ভাবা ভালো। আজকের সমস্যা
আগামীকাল আরও বড় ও জটিল হয়ে পড়বে। যুদ্ধ বা শান্তির সময় আর যাইহোক ভালো আর মন্দ চিন্তার
তফাৎ হলো ভালো চিন্তার ফলে সঠিক যুক্তিসহকারে সঠিকভাবে পরিকল্পনা নেওয়া যায়। যুদ্ধচিন্তা
বেশির ভাগ সময়ই উদ্বেগ আর স্নায়ুবিক দুর্বলতা জাগায়। একবার কোন একটা প্রবন্ধ পড়ার পর আমি হতাশা
ভুলে বাঁচার সাহস পেয়েছিলাম। প্রবন্ধের একটা কথার জন্য আমি চিরঋণী হয়ে রইলাম। কথাটি
এই, বুদ্ধিমান মানুষের কাছে প্রতিটি দিনই নতুন জীবন। এই কথাটি বড় আকারে টাইপ করে আমার
কক্ষের দেয়ালে লাগিয়ে রেখেছি। রুম থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিতিন একবার করে নজর দিয়ে
কাজের উদ্দেশে যাই। আমি ভেবে দেখলাম প্রতিদিন বেঁচে থাকা কঠিন কিছু নয়। আমি গতকাল আর
আগামীকালের কথা ভুলে গিয়ে তার কৌশল আয়ত্ব করতে লাগলাম। প্রতিদিন সকালে নিজেকে বলতাম,
আজ এক নতুন জীবন আমার শুরু হতে যাচ্ছে। আমি একাকীত্বের আর অভাবের ভয় কাটিয়ে উঠতে
আরম্ভ করলাম। আজ আমি সুখী আর বেশ সফল। জীবন সম্পর্কে আমার নতুন আগ্রহ মনের মধ্যে সাড়া
দিয়েছে। আমি জানি আর কখনোই আমি ভয় পাব না। জীবনে যে সমস্যাই আসুক না কেন আমি জানি ভবিষ্যৎকে
ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি জানি এখন প্রতিদিনের জন্য বাঁচতে পারি। আর প্রতিটি দিনই যেন
ব্যক্তির কাছে এক নতুন জীবন। মানবচরিত্র সম্পর্কে আমার সবচেয়ে দুঃখজনক
যে কথা জানা আছে তা হলো: আমরা সকলেই জীবনযুদ্ধ এড়িয়ে চলতে চাই। আমরা সবাই দিগন্ত পারের
কোন মায়া গোলাপের স্বপ্নে আচ্ছন্ন। কিন্তু জানালার পাশে যে অসংখ্য গোলাপ ফুটে রয়েছে
তা আমরা দেখি না। আমরা এরকম বোকামির কাজ করি কেন? আজকের জীবনই সবকিছু। এতে রয়েছে জীবনের
পরিপূর্ণতা। কারণ গতকাল তো শুধু স্বপ্ন আর আগামীকাল সে তো কল্পনা। শুধু আজকের মধ্যে
রয়েছে বেঁচে থাকার আনন্দ। আজ ভালো করে বেঁচে থাকলেই গতকালই সুখস্বপ্ন হয়ে ওঠে আর আগামীকাল
হয় আশায় ভরপুর। তাই আজকের দিনকেই সানন্দভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। আজকের দিনটাকেই পরিপূর্ণভাবে
উপভোগ করা দরকার। অতএব দুশ্চিন্তা সম্পর্কে যা জানবেন আর
তাকে জীবন থেকে সরিয়ে রাখতে যা করবেন তা হলো: এই অতীত আর ভবিষ্যৎকে লোহার কপাটে আবদ্ধ
করে রাখুন। শুধু আজকের জন্য জীবনযাপন করুন। সবার নিকট আমার এই কামনা। আশা করি পাঠকগণ
আমার এই লেখা পড়ে বুঝতে পারবেন আমার আপন ভাবনার কথা। লেখক: জাপান প্রবাসী
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিককর্মী ও কিশোরচিত্র'র সহ-সম্পাদক ![]() Editor : Probir Bikash Sarker probirsrkr06@gmail.com ![]() |