
![]() [কিশোরচিত্র
প্রতিবেদক] জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১২তম জন্মবার্ষিকী নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায়
পরিণত হয় পুরাতন নজরুল পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণে। শিশু-কিশোর
যুব উন্নয়ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সংলাপ’ কবিস্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ (২৫ মে, ২০১১) তারিখে।
অনুষ্ঠানটি ছিল চারটি ভাগে বিভক্ত যথাক্রমে, সকাল ৮:৩০ মিনিটে ‘চেতনায় নজরুল’ শীর্ষক স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন; ৮:৪৫ মিনিটে
বর্ণাঢ্য সঙ্গীত-র্যালী; ৯টায় আলোচনা সভা এবং ৯:৩০ মিনিটে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আলোচনা
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার প্রবীণতম ভাষাসৈনিক ও প্রাক্তন রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুভক্ত
আলী তাহের মজুমদার। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের
প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমির আলী চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সরকারি কলেজের
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ একেএম আছাদুজ্জামান। প্রথম
বক্তা গুলবাগিচা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাফিজ ভুঁইয়া
তাঁর বক্তব্যে শিশু-কিশোরদেরকে কবি নজরুলের গ্রন্থ পাঠ করার জন্য আহবান জানান। রোটারিয়ান
জাকির হোসেন বলেন, কবি নজরুল ও কুমিল্লা সম্পর্ক আমাদের জন্য বিশেষভাবে গৌরবের বিষয়।
রবীন্দ্র গবেষক ও মাসিক কিশোরচিত্র সম্পাদক প্রবীর বিকাশ সরকার বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের মতো কবি নজরুল ইসলামও আন্তর্জাতিক কবি। জাপানিরাও তাঁকে নিয়ে গবেষণা এবং গ্রন্থ
প্রকাশ করছেন। অধ্যাপক আমির আলী বলেন, আমার দাদা জানে আলম চৌধুরী তথা জানুমিয়া সাহেবের
সঙ্গে কবি নজরুলের গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তিনি আমাদের বাসায় প্রায়শ আসতেন, দাদার কাছে
তবলার বোল শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁর ব্যবহৃত তবলাটি আমরা জাতীয় নজরুল ইনস্টিটিউটে দান
করেছি। সম্ভবত বাংলাদেশে নজরুল ব্যবহৃত এটিই একমাত্র স্মৃতি। নজরুল-কুমিল্লা সম্পর্ক
নিয়ে গবেষণা হলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে যা আজও অজানা। অধ্যাপক আছাদুজ্জামান বলেন, নজরুল
ছিলেন সত্যিকার অর্থেই প্রেমের কবি। এই প্রেম শুধু নারীকে ঘিরেই নয়, প্রকৃত অর্থে মানবপ্রেমের
জন্য কাঙাল ছিলেন তিনি। তাছাড়া রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই শুধু তিনি বিদ্রোহী ছিলেন না, সামাজিক
বৈষম্য, ধর্মীয় বৈষম্য, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য প্রধানত তাকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। এই
বৈষম্যের অন্তরালে ছিল রাজনীতি। উপস্থিত বিশিষ্ট শিক্ষক, গবেষক ও সাহিত্য কাগজ ‘অলক্ত’
সম্পাদক তিতাশ চৌধুরী বলেন, নজরুল-কুমিল্লা সম্পর্কটিকে আরও উজ্জ্বল করার জন্য স্মৃতিফলকগুলোকে
যথার্থভাবে সংস্কার করতে হবে। নজররুলকে জানতে হলে তাঁর সম্পর্কিত গবেষণামূলক গ্রন্থাদি
পাঠ করতে হবে। এ বছর প্রকাশিত আমার গবেষণাকৃত মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের অবদান শীর্ষক গ্রন্থটি
সকলকে পাঠ করে দেখার অনুরোধ জানাই। সভাপতির
বক্তব্যে ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার বলেন, বঙ্গবিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন কবিকে
স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। গ্রামের মানুষ তাঁর রক্তজাগানিয়া কবিতা ও গানের জন্য
তাঁবে ‘কবিরাজ’ বলত। বৃটিশ-ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করার
জন্য কবিকে কুমিল্লার মানুষ ধরে রেখে দিয়েছিল। মুক্তিপাগল কবিও তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে
কুমিল্লাবাসীর সঙ্গে স্বদেশী আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিলেন। ফলস্বরূপ কুমিল্লায় দুজন নারীর
প্রেমে পড়েছেন, বিয়েও করেছেন। এই ইতিহাস আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। গুণীজনদের
মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর এনাম। সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান শুরু হয় শিশু বাচনশিল্পী ডেইজির কন্ঠে কবির ‘খুকু ও কাঠবিড়ালী’ ছড়া-আবৃত্তির
মধ্য দিয়ে। এরপর নৃত্য পরিবেশ করে শিশুশিল্পী ডেইজি, রিয়া, পূজা ও পূর্বা। দুটি গান
গেয়ে শোনান বিশিষ্ট নজরুলসঙ্গীত গুরুদাস ভট্টাচার্য। নাচ পরিবেশন করে বৃন্দা। পুনরায়
দ্বৈতনাচ বৃন্দা ও অন্নি। ‘কারার ওই লৌহ কপাট,
ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট.....’ নজরুলসঙ্গীতের সঙ্গে
নৃত্য করেন শিশির। নজরুলের ‘মানুষ’ কবিতা অবলম্বনে
সংলাপ-সদস্যরা পরিবেশ করে কোরিয়োগ্রাফি এবং পরে সমবেত সঙ্গীত ‘দুর্গমগিরি
কান্তার মরু।’ কবিতা আবৃত্তি করেন চাঁদপুর থেকে আগত বিশিষ্ট বাচনশিল্পী অভিজিৎ আচার্যী।
বিশেষ
আয়োজন ছিল স্থানীয় ‘গীতিকুঞ্জ সঙ্গীত একাডেমী’র নজরুল
সঙ্গীতানুষ্ঠান। বিশিষ্ট শিল্পী বাবুল বিশ্বাসের পরিচালনায় গান গেয়ে শোনান শিশুশিল্পী
প্রমিলা, শিমুল ভৌমিক, পুষ্পরঞ্জন সরকার, বাবুল বিশ্বাস এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শিউলি
রায়। যন্ত্রবাদনে ছিলেন তবলা ইমরান, তানপুরা সত্যজিৎ, বাঁশি ও সরোদ বাবুল বিশ্বাস,
বেহালা পুষ্পরঞ্জন সরকার, মন্দিরা ও দোতরা কৃষ্ণ ভৌমিক। সবশেষে
ছিল কিশোরী নৃত্যশিল্পী রুমির একটি নাচ ‘লাল টুকটুকে বৌ যায়
গো।’ সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রচুর দর্শকের সমাগম ঘটে। প্রচন্ড রৌদ্রদগ্ধতার
মধ্যেও নজরুলভক্তরা আগাগোড়া প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। অনবদ্য এই স্মরণোৎসবটি
পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্র শিল্পী, নাট্যকার এবং সংলাপ
সংগঠনের পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী। Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved. ![]() অত্যন্ত
আনন্দ ও উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হল বর্ষবরণ উৎসব। নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা রাজারামপুরের
ঐতিহাসিক রথমেলা মাঠের বটতলায় মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন কচি-কাঁচার
মেলার শাখা নবাবগঞ্জ পল্লবী কচি-কাঁচার মেলা। ভোরের
সূর্য পূর্ব আকাশে উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনুষ্ঠানের মধ্য থেকে বেজে ওঠে--'এসো হে
বৈশাখ এসো এসো....' চিরকালের গান। ক্ষুদে শিল্পীদের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায়
বটতলায় এক মহামিলনমেলার অবতারণা হয়। অনুষ্ঠানে
আগত প্রধান অতিথি পি কে বি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম চৌধুরী সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা
জ্ঞাপন করেন। এ আয়োজনটি আগামী দিনের ছায়ানটের মতো ব্যাপক আয়োজন করায় কচি-কাঁচার মেলাকে
ধন্যবাদ জানান। সভাপতির ভাষণে মেলার উপদেষ্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের
পৃষ্ঠপোষকতায় উপস্থিত সকলকে পান্তা ইলিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের
মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পুরাতন বান্দুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক নাসির উদ্দিন, বাবু সুমন সরকার প্রমুখ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করে আনন্দধারা
ললিতকলা একাডেমী নবাবগঞ্জ। পরিচালনা করেন ওহারা আক্তার। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় করেন
মেলার যুগ্ম সংগঠক শুভাশিস গোস্বামী। এছাড়া
মেলার উপদেষ্টা মিস রিনা সুলতানা এবং সাথী ভাই আসলাম মিয়া ও সুমন অধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের অনুষ্ঠানের পর সারা নবাবগঞ্জে বর্ষবরণ ও পান্তা ইলিশের আয়োজন ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠান
যারা আয়োজন করেন তাদের মধ্যে হরে কৃষ্ণ কুসুম কলি উচ্চ বিদ্যালয়, কলাকোপা স্পোর্টিং
ক্লাব ও তরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ এবং
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত্ম যেন এক উৎসবের উপজেলায়
পরিণত হয় সমগ্র নবাবগঞ্জ। মনোজ্ঞ
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেসব শিশু-কিশোর-কিশোরীরা অংশ নেয় তারা হল, সারোয়ার হোসেন শান্ত,
চাদমনি, মিথিলা, জ্যানী, ফুল, রজনী, সজীব, সাব্বির। বাংলা
নববর্ষ ১৪১৮ উদযাপন উপলক্ষে কলাকোপা কোকিল প্যারী উচ্চ বিদ্যালয়ও আয়োজন করে বর্ষবরণশীর্ষক
এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। দশম
শ্রেণী, হরিকৃষ্ণ কুসুমকলি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ, ঢাকা Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.
গত ১৮ জুন শুক্রবার ছায়ানটের আয়োজনে শুরু
হয় দুই দিনব্যাপী নজরুল উৎসব। শুক্র ও শনিবার এ দুদিন ছায়ানট সংস্কৃতি মিলনায়তনে এ
উৎসব চলে। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের
পাঁচমেশালী আয়োজন ছিল এ উৎসবে। দুই দিনব্যাপী এই বৈচিত্র্যময় উৎসবে সাহায্য করেছে ব্রাক
ব্যাংক। রাজধানী ঢাকার শংকরে অবস্থিত ছায়ানট সংস্কৃতি
মিলনায়তনে ১৮ জুন সকালে উদ্বোধন করা হয় এই উৎসবের। নজরুল উৎসবের উদ্বোধন করেন নজরুল
গবেষক আসাদুল হক। তবে মূল সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে। কাটায় কাটায়
ঘড়িতে ছয়টা ত্রিশ বাজতেই ছায়ানট ভবনের অডিটরিয়ামে একটি কোরাস গানের মাধ্যমে শুরু হয়
এই অনুষ্ঠানের ২য় অধিবেশন। ছায়ানটের সংগীত বিভাগের শিশু শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি’ এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের
পরিবেশনায় ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি অনুষ্ঠানের সূচনায়
সৃষ্টি করে বৈচিত্র্য। এরপর বক্তৃতা করেন নজরুল গবেষক ও অধ্যাপক খোন্দকার সিরাজুল ইসলাম।
তাঁর সুদীর্ঘ এবং প্রজ্ঞাময় বক্তৃতা পর ছায়ানটে সংগীত বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রাক্তণ
শিক্ষার্থীদের কিছু সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন। পরদিন শনিবার আগের দিনের মতই সন্ধ্যায়
শুরু হয় নজরুল উৎসবের তৃতীয় অধিবেশন। শুক্রবারের মত শনিবারও ছায়ানট ভবনের অডিটোরিয়ামে
দেখা মেলে ভিন্ন আঙ্গিকের কিছু পরিবেশনার। এই উৎসবে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পাশাপাশি রাজধানীর
বরেণ্য শিল্পীরাও অংশ নেন। সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখের উপস্থিতি ছাড়াও রাজধানীর
নানা বয়স ও শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে
এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের
সৃষ্টিকে বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করার জন্য
ছায়ানটের এ আয়োজন করা হয়েছে বলা হয় ছায়ানট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। উৎসবের
জন্য বেছে নেয়া হয়েছে নজরুলের ভাব-দর্শনের একান্ত অনুরাগী কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিনকে।
এই উৎসব উপলক্ষে ছায়ানট ভবনকে সাজান হয় ভিন্ন এক রূপে। প্রবেশের মূল ফটকের সামনে শ্রদ্ধেয়
কবি নজরুলের ছবিও ফুল দিয়ে সাজানো হয়। ভবনের ভেতরের সাজসজ্জাও ছিল যথেষ্ট আকর্ষণীয়।
ছায়ানট সংস্কৃতি মিলনায়তন আয়োজিত যে কোন
অনুষ্ঠানই বৈচিত্র্যময়। ছায়ানট ভবন সংলগ্ন অডিটোরিয়ামে নজরুল উৎসবের সাজসজ্জা অন্য
যেকোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চেয়ে ছিল আলাদা,ভীষণ আকর্ষণীয়। প্রদীপের আলোয় সাজানো অডিটোরিয়ামে
প্রবেশ করা মাত্রই যেন উৎসবের এক আমেজ পাওয়া যায়। তবে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের জন্য এর
ফটকের সামনে জুতা খুলে এবং তা ছায়ানট প্রদত্ত একটা কাগজের ব্যাগে ভরে নিজ দায়িত্বে
রাখার ব্যবস্থা ছিল। জুতা পায়ে অডিটোরিয়ামে
প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। দর্শনাথীদের আধিক্যের সম্ভাবনায় অডিটোরিয়ামের বাইরে মূল ভবনে সেট
করা হয় একটি স্ক্রিন যেখানে পুরো অনুষ্ঠানটিই সম্প্রচার করা হচ্ছিল। বিরাটাকৃতির স্ক্রিনের
সামনে বসেও দর্শক উপভোগ করতে পেরেছেন এ উৎসব। তাই বলা যায় দর্শনার্থীদের যাতে অনুষ্ঠান
উপভোগ কোন অসুবিধা না হয় সে লক্ষ্যে ছায়ানট কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা ছিল যথাযথ ও যথেষ্ট।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথমদিন ছায়ানট
ভবনে প্রবেশ করা মাত্রই দেখা মেলে অসংখ্য কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণীর। কিশোর বয়সের
এক ঝাঁক মেয়েকে দল বেঁধে এই অনুষ্ঠানের দর্শক সারিতে দেখা যায়। সব বন্ধুরা মিলে একসাথে
এই উৎসবে আড্ডা মারতে আসলেও তারা প্রত্যেকেই উৎসবের প্রত্যেকটি আয়োজন ভীষণভাবে উপভোগ
করে। দেখা যায় কিছু শিশুকেও। কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি।
ছায়ানট আয়োজিত এই উৎসবের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি ও প্রাচীন বাংলার
উৎসবের ধারা। আজকালকার কিশোর-কিশোরীরা তো নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে বেশ অসচেতন। ছায়ানটের
এই উৎসবের ফলে অনুষ্ঠান দেখতে আসা এসব কিশোর-কিশোরী নিজেদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে কিছুটা
হলেও জানতে পারছে। বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি সচেতন হতে শিখছে। ছায়ানটের উদ্যোগে এরকম
প্রতিটি অনুষ্ঠানই ছোট বড় সকলের সামনে তুলে ধরছে বাঙালির মূল ধারাকে। নজরুল উৎসবের
মত ছায়ানট আয়োজিত অন্য আরও সকল অনুষ্ঠান প্রতিনিয়ত তার দর্শনার্থীদের মাঝে বাঙালি সংস্কৃতিকে
তুলে ধরছে। উৎসব দেখতে আসা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও জাগ্রত করছে দেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের। Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved. ![]() গত ৬ই জুন বাংলাদেশ সাংবাদিক-লেখক ফোরাম
জাপান প্রবাসী ছড়াকার বদরুল বোরহান রচিত ‘বিশুদার কান্ড’কিশোর গল্পগ্রন্থের একটি প্রকাশনা
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টোকিওর আকাবানে বিভিও হলে সন্ধ্যেবেলা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির
বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট কবি, লেখক
ও সাংবাদিক সজল বড়–য়া। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মাশিয়াল কাউন্সেলর
সাহিত্যপ্রেমী আবুল মনসুর ফয়জল্লাহ। উপস্থাপনা করেন লেখক ও ঔপন্যাসিক বাকের মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে গন্থের মোড়ক উন্মোচন
করেন যথাক্রমে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষক মনজুরুল হক এবং আবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ। এরপর
লেখককে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দিত করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মিউকি বড়–য়া। গ্রন্থের মূল আলোচক মনজুরুল হক বলেন,বদরুল
বোরহান দীর্ঘবছর ধরে শিশুসাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত। জাপান থেকে যে দুজন নিয়মিত লিখছেন
প্রবীর বিকাশ সরকারের পর বদরুল বোরহানের নামই বলতে হয়। তিনি নিজগুণে অনেকে আগেই পাঠকমনে
একটি পাকাপোক্ত স্থান করে নিয়েছেন। আমরা তাকে ছড়াকার হিসেবেই জানি। এবার তিনি বইমেলা
উপলক্ষে যে নতুন একটি গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন সেটি গল্পগ্রন্থ,বিশুদার কান্ড। ছড়াকার
থেকে এবার তার গল্পকারে উত্তরণ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক ঘটনা। কেননা কিশোরগল্প রচনার
দিকটি বরারবই অবহেলিত সেখানে তিনি নতুন আলো ফেলেছেন তার এই প্রথম গল্পগ্রন্থের মধ্য
দিয়ে। অধিকাংশ গল্পতে তিনি বাংলাদেশের শহরেগঞ্জে পরিলক্ষিত হয় এমন দরিদ্র শিশু-কিশোরদের
দৈনন্দিন কষ্টসহিষ্ণু জীবনযাপনের চিত্র গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে এঁকেছেন। সেইসঙ্গে তার
গ্রন্থের কয়েকটি গল্পে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার কথা এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের
সময় তিনি বালকবয়সী ছিলেন তথাপি ছোট্ট পরিসরের গল্পেও মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপকারে ছায়া ফেলেছে।
বিশেষ করে তার ‘স্বাধীনতা’গল্পটি একটি উঁচুমানের গল্প
বলে আমি মনে করি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি যখন গল্পের নায়ক পরাজিত মুক্তিযোদ্ধার
মুখ দিয়ে বলেন ‘মানুষের স্বাধীনতা এখনো আসেনি’তখন আমাদের
বুঝতে বাকি থাকা না যে,দেশের আপামর মানুষ সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ এখনো পায়নি,
মানুষের আশাআকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে শিশুরাও যে ঐ কারণেই চরম অবহেলিত এটাও স্পষ্টতর
হয়ে পড়ে। তিনি যে কতখানি সংবেদনশীল লেখক সেই শক্তিমত্তার পরিচয় আমরা পেয়ে যাই। মনজুরুল হক লেখককে অভিনন্দিত করে তার
উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। মাকসুদুল আলম বলেন,ইন্টারনেটের যুগে আমরা
দ্রুত গ্রন্থাদি পাঠে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। তাই বলে যে গ্রন্থ প্রকাশনা হারিয়ে যাবে তা
কিন্তু নয়। গল্পকার বদরুল বোরহান শিক্ষণীয় একটি কিশোর গল্পগ্রন্থ লিখে আমাদেরকে কৃতজ্ঞতাপাশে
আবদ্ধ করলেন। প্রকৌশলী ও সাহিত্যপ্রিয় ব্যক্তিত্ব তাপস
বড়ুয়া মন্তব্য করেন,লেখকের তো বটেই,যিনি পাঠক-পাঠিকা তাদের মনেও রচনা পাঠ করে আনন্দ-বেদনা,হাসি-কান্না;স্বপ্ন-কল্পনা
ইত্যাদি অনুভূতি জন্ম গ্রহণ করে। যা আসলে একজন ভালো লেখকেরই অবদান। গল্পকার বদরুল বোরহান
আরও গল্প লিখবেন এটা আশা রাখি, নতুন গল্পকার হিসেবে তিনি ভালোভাবেই উৎরে গেছেন বলতে
হবে কেননা গল্পগুলোতে সত্যিই ভালোলাগা ও ভাবনার অনেক উপাদান আছে। দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এবং সাহিত্যানুরাগী
মাসুদুর রহমান বলেন,প্রবাসে এত ব্যস্ততার মধ্যেও ছড়াকার বদরুল বোরহান প্রথম কিশোর গল্পগ্রন্থ
লিখে যেভাবে সকল বয়সী মানুষকে নাড়া দিয়েছেন এটা তার বিরাট দক্ষতার পরিচয়কে নির্দেশ
করে। ঢাকাকেন্দ্রিক দরিদ্র শিশু-কিশোরদের কষ্টসাধ্য জীবনের কথা তিনি যেভাবে তীক্ষ্ণ
সমাজ সচেতনতা দিয়ে এঁকেছেন তা অপূর্ব।এবং স্বাধীনতা বিষয়ে যে সকল গল্প তিনি বলে গেছেন
এগুলোও আমাদের মূল্যবান সম্পদ বলে মনে করি। শিশু-কিশোর পাঠকমনকে নিঃসন্দেহে নাড়া দেবে।
‘বিশুদার কান্ড’সত্যি খুব সার্থক নামকরণ।
সাংস্কৃতিক কর্মী হোসাইন মুনীর বলেন,বিশুদার
কান্ড গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই আমাদের সমাজ ও স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি। গল্পের ভাষা
অত্যন্ত গতিশীল এবং সাবলীল। প্রত্যেকটি গল্পই সার্থক গল্প বলে আমার মনে হয়েছে। চিত্রশিল্পী সলিমুল্লাহ কাজল বলেন, বদরুল
বোরহানের ছড়ার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য না হলেও তার প্রথম কিশোর গল্পগ্রন্থটি পাঠ
করে খুব ভালো লেগেছে। সহজভাষায় লিখিত এবং গল্পগুলোর থিমও বোধগম্য হবে শিশু-কিশোরদের
কাছে। দরিদ্র শিশু-কিশোরদের কষ্টকর যে জীবনকে তিনি তুলে এনেছেন তা সত্যি বেদনাদায়ক,
আমাদের উচিত অনতিবিলম্বে তাদেরকে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য হাত বাড়িয়ে
দেয়া। শত ব্যস্ততার মধ্যেও বদরুল বোরহান যেভাবে সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন তার গতি যেন
না থামে সেই প্রার্থনা করি। দ্বিমাসিক পরবাস সম্পাদক ও লেখক কাজী
ইনসান বলেন,স্বাধীনতা গল্পটি পড়ে সত্যি অশ্রুসিক্ত হয়েছি। আমি ছড়াকার বললে কেবল বদরুল
বোরহানের কথাই জানি কেননা তার প্রচুর ছড়া এখানে সেখানে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে বলে। এবার
তিনি গল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এটা আশাব্যঞ্জক। ছড়ার মতো তিনি শক্তিশালী গল্পকার
হিসেবেও বৃহত্তর শিশুমহলে আসন করে নেবেন এটা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব এবং একদা
ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র নাজমুল হুদা বলেন, যতই ইন্টারনেট সুবিধাজনক হোক না কেন, বই
এর বিকল্প বই। বইয়ের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই সভ্যতার নতুন আলোতে প্রবেশ করতে পারি।
আমাদের বাংলা সাহিত্যজগত নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ। তবুও এর মধ্যে শিশু-কিশোর সাহিত্যচর্চার
সীমাবদ্ধতা আছে। বইও লেখা হয় খুবই কম। এদিকে প্রবাসী লেখক বদরুল বোরহান অবশ্যই ব্যতিক্রম
এবং ধন্যবাদার্হ। তার বিশুদার কান্ড গল্পগ্রন্থে সরল হাস্যরসাত্মক থেকে শুরু করে গুরুগম্ভীর
বিষয় পর্যন্ত উপস্থিত হয়েছে। তিনি বাস্তব সমাজের সক্রিয় মানুষ তাই এই গল্পগুলোর মধ্য
দিয়ে তিনি সার্থক গল্পকার হয়ে উঠেছেন বলে আমি মনে করি। ফোটোগ্রাফার খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন,লেখকের
বইটি লেখা ও আঁকা দিয়ে শিশু-কিশোর এবং বড়দেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ছড়াকার,লেখক এবং মাসিক দশদিক ম্যাগাজিনের
নির্বাহী সম্পাদক প্রবীর বিকাশ সরকার বলেন,সদ্য আত্মপ্রকাশিত গল্পকার বদরুল বোরহান
বিশুদার কান্ড গল্পগ্রন্থে মোট ১২টি গল্প অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রতিটি গল্পই সুলিখিত।
ভাষা সাবলীল,পটভূমি শিশু-কিশোরদেরকে সমাজসচেতন করার জন্য সুভাবিত এবং বড়দেরকে ধাক্কা
দেবার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। তার গল্পের নায়করা অধিকাংশই ঢাকার বস্তি ও দরিদ্র অঞ্চলের
চরম অবহেলিত শিশু-কিশোর যারা রিক্সা চালায়, গাড়ি ঠেলে কিংবা ইটভাঙ্গে শুধুমাত্র বেঁচে
থাকার নিমিত্তে। তাদের সঙ্গে অসংখ্য পথশিশুর কোন পার্থক্য নেই। এটা স্বাধীন বাংলাদেশের
লজ্জা। এই লজ্জা থেকে কবে বেরিয়ে আসবে জাতি বলা মুশকিল। তার কয়েকটি গল্পে মহান মুক্তিযুদ্ধ
ও স্বাধীনতার কথাও বীরদর্পে এসেছে। বিশুদা নিজেই পরাজিত,নোংরা সমাজের শিকার একজন মুক্তিযোদ্ধা
যিনি বাবা-মা সবাইকে হারিয়ে এতিম হয়েছেন,মূল্যায়ন তার হয়নি। তাই তিনি তার গভীর তিক্ত
অভিজ্ঞতা থেকে খেদের সঙ্গে বলেন, দেশের স্বাধীনতা এলেও মানুষের স্বাধীনতা আসেনি। ‘স্বাধীনতা’এই গল্পটি আমাদের কিশোর শিক্ষার্থীদের
জন্য পাঠ্যপুস্তকে সংযোজিত হওয়ার মতো শক্তিশালী একটি গল্প বলে আমি বিশ্বাস করি। তাকে
উষ্ণ অভিনন্দন। প্রধান অতিথি আবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ বলেন,ছড়াকার
থেকে গল্পকারে যার যাত্রা সেই লেখক বদরুল বোরহান আমাকেও অনুপ্রাণিত করেন। তাকে জানাচ্ছি
প্রাণঢালা অভিনন্দন। তার মতো আরও প্রবাসী লেখকদের দ্বারা আমাদের বাংলাসাহিত্য ক্রমাগত
সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন মাত্রা পাবে। গল্পগুলো বাস্তবতার ভিত্তিতে লিখিত,সুখপাঠ্য এবং
শিক্ষামূলক। তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ কামনা করি। পরিশেষে বলি,বই,বই এবং বই,বই-ই হোক আমাদের
আরাধ্য। লেখকের সুস্বাস্থ্য এবং লেখনীশক্তির দীর্ঘাযু কামনা করি। লেখকের জবাবে বদরুল বোরহান বলেন,গল্পগুলো
আসলে এখনকার নয়,এগুলো আশির দশকের দিকে লিখিত যখন আমি ডিগ্রী কলেজের ছাত্র। তারপরও বলব,এত
বছরের মধ্যেও পরিবেশ,পরিস্থিতির আদৌ বদল ঘটেনি বলেই গল্পগুলো এখন তুলে ধরা যাতে করে
আমাদের দৃষ্টি সেখানে পড়ে।গল্পগুলো আপনাদের ভালোলেগেছে জেনে লেখক হিসেবে অত্যন্ত আনন্দিত
এবং অনুপ্রাণিতবোধ করছি। ভবিষ্যতে আরও ভালো লেখার চেষ্টা করব। আপনাদের সকলকে জানাই
আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। সভাপতি সজল বড়ুয়া উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদজ্ঞাপন
করে বলেন,ছড়াকার ও সদ্য আত্মপ্রকাশিত কিশোর-গল্পকার বদরুল বোরহানের বিশুদার কান্ড গ্রন্থটির
প্রকাশনা অনুষ্ঠান করতে পেরে বাংলাদেশ সাংবাদিক-লেখক ফোরাম অত্যন্ত আনন্দিত। অদূর ভবিষ্যতে
আমরা প্রবাসী শিশু-কিশোর প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে সাহিত্যচর্চা ও প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান
করার পরিকল্পনা করছি। উল্লেখ্য যে,অনুষ্ঠানের মাঝখানে একটু
ভিন্নস্বাদ আনার লক্ষ্যে অবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ স্বরচিত একটি কবিতা ও ছড়া পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে হালকা জলখাবারেরও ব্যবস্থা ছিল। অনুষ্ঠানটি সফল করার পেছনে বিশিষ্ট সাংবাদিক
ও সাংস্কৃতিক কর্মী রাহমান মনি এবং তরুণ প্রযুক্তিবিদ রাজীব বড়ুয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা
ছিল অনস্বীকার্য। Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.
নন্দন-১
প্রেক্ষাগ্রহে ৮ই মার্চ উৎসবের আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্যে তিনি ছোটদের স্বপ্নরাজ্যের চাবিকাঠি খুলে দেওয়ার
জন্য আহবান জানান। ছোটদের আরও বেশি করে এই ধরনের অনুষ্ঠান ও তথ্যসমৃদ্ধ জ্ঞানভান্ডারের
আলোকে উজ্জীবিত করার পরামর্শ দেন। উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে ২০০৮ সালের বিদ্যসাগর পুরস্কার প্রদান করা হয় বিশিষ্ট কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে।
২০০৮ সালের উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুরস্কার প্রদান করা হয় কবি বলরাম বসাককে। সংবর্ধনা
জ্ঞাপন করা হয় মিহির সেন ও শংকর চক্রবর্তীকে। সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় ছোটদের পত্রিকা
কিশোর ভারতী ও ঝিনুককে। উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শৈলেশ ঘোষ সহ-সভাপতি শিশু-কিশোর আকাদেমি, অধ্যাপক পবিত্র সরকার,
ড.সুরেশকুমার দাস প্রধান সচিব তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ ছাড়াও শিশু-কিশোর আকাদেমির সভাপতি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুপ মতিলাল সংস্কৃতি
অধিকর্তা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, সঞ্চালনায় ছিলেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। শিশু-কিশোর
আকাদেমির সচিব তপন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিবেদনে জানান, সঙ্গীত, নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য
কিংবা অঙ্কন শিল্পে শুধু শহর নয়, গ্রাম-গ্রামান্তরের প্রতিভাকে একত্রিত করার প্রয়াস
হল এই শিশু-কিশোর উৎসব। উৎসব দুটি পর্যায়ে অর্থাৎ ৮-১২ মার্চ শিশুসাহিত্য উৎসব ও ১২-১৯
মার্চ শিশু-কিশোর উৎসবে ভাগ করে মোট ১২ দিনের উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম
পর্যায়ে বাংলা শিশু সাহিত্যিক ও বাচিক শিল্পীদের অংশগ্রহণ ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নৃত্য,
সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, পুতুল নাচ, চলচ্চিত্র, আবৃত্তি শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উৎসব উপলক্ষে সবুজপাতা-২ নামক স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। উৎসবে অংশগ্রহণ করেন
মুকাভিনেতা, ম্যাজিশিয়ান ছাড়াও পাপেট থিয়েটারের শিল্পীরা। উৎসবে
অনেক প্রান্তিক শিশুও অংশগ্রহণ করে। দ্রুতগামী স্যাটেলাইট যুগে এই ধরনের সাংস্কৃতিক
মেলবন্ধন শিশু-কিশোরদের নতুন করে উৎসাহিত করবে বলে উৎসবে অংশগ্রহণকারী সকলের অভিমত।
শিশু-কিশোর আকাদেমির এই প্রয়াস যাতে দীর্ঘায়ু হয় সে জন্য সবার এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মত
প্রকাশ করেন উপস্থিত অভিভাবকবৃন্দ। Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved. ![]() গত ১৮ই এপ্রিল, ২০১০,
রবিবার বিপুল সমারোহে জাপানের রাজধানী টোকিওর ইকেবুকুরো নিশিগুচি উদ্যান শহীদমিনার
চত্বরে বাংলা নববর্ষ ১৪১৭ উদযাপন উপলক্ষে একাদশ বৈশাখী মেলা ও কারি ভেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত
হল। সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মেলা দশ হাজারের বেশি বাংলাদেশী ও বিদেশি উপভোগ করেন।
স্বাগত সঙ্গীত এসো হে বৈশাখ এসো এসো দিয়ে মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ
থেকে আগত নাসিমুল আলম চৌধুরী এমপি। এবারের মেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ
সিদ্দিকী, এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী, সিইও মোঃ নূরুল
আমিন এবং ব্যাংক নির্বাহ কমিটির চেয়ারম্যান এসএম আবু মোহসিন। উল্লেখ্য যে তাঁরা বিশেস
কার্যোপলক্ষে জাপান এসেছিলেন। এবারের মেলাতে ৪০টিরও
বেশি বিভিন্ন স্টলের সমাবেশের মধ্যে বাংলাদেশী মুখরোচক খাবারের প্রতি ছিল সকলেরই আলাদা
দৃষ্টি। বিশেষ করে জাপানি ও অন্যান্য দেশের অতিথিরা বাংলাখাবারের বৈচিত্রময় স্বাদে-গন্ধে
মুগ্ধ হন। মেলা উপলক্ষে মঞ্চে
বড়দের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল ছোটদেরও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি যেমন ছড়া আবৃত্তি,
নাচ, গান এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। তাছাড়া
শিশুদের বৈশাখী ফ্যাশন শো ছিল অত্যন্ত চমৎকার। একইসঙ্গে জাপানিদের নাচ ও গান ছিল উপভোগ্য।
জাপানস্থ প্রবাসীদের দুটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্র“প এবং স্বরলিপি একাডেমীর শিল্পীরা প্রতিবারের মতো এবারও দর্শক-শ্রোতাদেরকে
প্রচুর আনন্দ দেন বিচিত্রময় গান গেয়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল
বাংলাদেশ থেকে আগত উঠতি কন্ঠশিল্পী কিশোর ও সালমা। তারা অনেকগুলো জনপ্রিয় গান গেয়ে
দর্শককে মাতিয়ে দিয়ে যান। Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.
|