
![]() এই ছোট জনবহুল বাংলাদেশটাকে নিয়ে অনেকের মনেই অনেক কল্পনা এবং ভাবনা
রয়েছে। আমার মনেও এ দেশটাকে নিয়ে কিছু ভাবনা জেগে ওঠে। আর আমার ভাবনাগুলো বেশিরভাগই
জড়িত এ দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ এ দেশের শিশু-কিশোরদের নিয়ে। তবে আজ আমরা যারা সব সুযোগ-সুবিধাগুলো
ভোগ করতে পারছি। আমদের প্রত্যেকের সচেতন হতে হবে নিজের দায়িত্ব পালনে। আমরা আমাদের
সাধ্যমতো চেষ্টা করলে হয়ত শিশু কিশোরদের একটা নতুন জীবন দিতে পারব। তাদের দেশকে নিয়ে স্বপ্নদেখতে সাহায্য করতে পারব। আমরা যারা সুবিধাবঞ্চিত
নই আমরা সবাই মিলে পরিশ্রমের মাধ্যমে, নিজেদের শিক্ষা ও জ্ঞান ও বুদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে
পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বল নক্ষত্র করে তুলতে পারব।
আমরা শিশু-কিশোররা হাতে হাত রেখে এগিয়ে গেলে উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে অবশ্যই আগামীকাল
উন্নত ভবিষ্যৎ বলে পরিচিত করতে পারব। এই হচেছ আমার সোনার বাংলাদেশকে নিয়ে আমার
ভাবনা। শাহীনুর
ইসলাম রুম্মান ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যায়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী
প্রত্যেকের
কাছেই তার দেশ অত্যন্ত প্রিয়। মাতৃস্নেহের সাথে যেমন অন্য স্নেহের তুলনা হয় না, তেমনি
পৃথিবীর সকল রমণীয় সৌন্দর্যের সাথে স্বদেশের কোন তুলনা হয় না। জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপি
গরীয়সী। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ও অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এদেশের উন্নয়নের জন্য প্রত্যেককেই তার অবস্থান থেকে
কাজ করে যেতে হবে। নেতৃত্বাধীন সরকারকে প্রণয়ন করতে হবে সঠিক নীতিমালা যাতে আমরা অর্থনৈতিক
মুক্তিসহ সার্বিক উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারি। তাহলেই আমরা বিশ্বের বুকে সগৌরবের সাথে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব।
প্রস্তাবনা
দেশকে
উন্নয়নের পথে চালিত করার জন্য কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো: ১।
কাঠামোগত উন্নয়নের নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ২।PRSP’র (Proverty Reduction Strategy
Paper)
সফল বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩।
বৈদেশিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে অত্যধিক সুদে বিদেশি প্রতিষ্ঠান (IMF, WORLD BANK ) ইত্যাদি
থেকে ঋণ নেয়া বন্ধ করতে হবে। ৪।
নারীর মতায়ন ও উন্নয়নের নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ৫।
নগরায়ণের পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। ৬।
রাজনৈতিক দলগুলোকে ধ্বংসাত্মকমূলক মনোভাব পরিহার করতে হবে। ৭।
নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ৮।
দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৯।
দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ১০।
সরকারকে তার কাজের জন্য জনগণের নিকট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা করতে হবে। ১১।
দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের উপর কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। ১২।
এছাড়াও সঠিক দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করতে হবে। ১৩।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে দেশের উন্নয়নের কথা ভাবতে গেলে শিল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
ও প্রসার ব্যতিরেখে কখনোই সম্ভব নয়। দেশের দ্রুত উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে
শিল্প ও প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। ১৪।
স্বদেশের উন্নয়নের জন্য সবার জন্য সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। জনগণ শিক্ষিত হলে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে পারবে। ১৫।
দুর্নীতিমুক্ত স্বদেশ গড়ে তুলতে হবে। কারণ দুর্নীতি একটি দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
ব্যক্তি জীবনে দুর্নীতি সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্য দিলেও এর পরিমাণ বড় ভয়াবহ। এজন্য সবাইকে
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
১৬।
আমাদের দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত সম্পদ দেশের উন্নয়নের
জন্য সহায়ক। আর এজন্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ১৭।
বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক
সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। পণ্যের অবাধ প্রবাহের সুযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেসুবিধার
কথা ভাবতে হবে। স্বদেশকে
উন্নত করার পন্থা স্বদেশের
উন্নয়নের জন্য শুধু চিন্তা ভাবনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলে চলবে না। উন্নয়নের জন্য যেসব
পন্থা রয়েছে সেগুলোকে কার্যকরী ও ফলপ্রসূ করে তুলতে হবে। নিম্নে স্বদেশের উন্নয়নের
পন্থাগুলো আলোচনা করা হলো: সুশাসন:
স্বদেশকে উন্নত করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন বিচার
বিভাগ, আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণের অধিকার
ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদপত্র ও বিভিন্ন মিডিয়াকে প্রভাবমুক্ত
রাখতে হবে। আর এভাবে সুশাসন রতি হলে দেশের অনেকাংশ অনায়াসে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।
দেশপ্রেম:
একটি দেশের উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম অপরিহার্য। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আমরা যেমন দেশকে
স্বাধীন করেছি, ঠিক তেমনি দেশের উন্নয়নের ব্রত নিয়ে আমরা যদি গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাই
তাহলে অবশ্যই উন্নয়ন সম্ভব। সরকারিদল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বীয় স্বার্থ পরিহার
করে দেশের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। সঠিক
পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: দেশকে উন্নত করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
জরুরি। আমাদের দেশে দেখা যায়, মতাশীল দল তাদের মত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করে যেগুলো সত্যিকার
অর্থে দেশের উন্নয়ন তথা জনগণের ভাগ্য বদল করতে পারে না। আবার কিছু পরিকল্পনা বাস্তবাস্তবায়নের
মুখ দেখে না। ক্ষমতার পালাবদলে নতুন সরকার
এসে তাদের সুবিধামতো নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তাই বলা যায় সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন
ও বাস্তবায়নে শুধু শুধু সরকারবিরোধী না হয়ে সহিষ্ণু হতে হবে, সবাইকে সহযোগিতামূলক মনোভাব
নিয়ে কাজ করতে হবে। অনিক কুমার বৈরাগী বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর
রউফ রাইফেলস কলেজ, ঢাকায় একাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান
‘গ’ শাখার ছাত্র ![]() বাংলা আমার মায়ের নাম, আমার জাতির পরিচয়। আমার প্রথম ভালোবাসা, এই বাংলাতেই
মেলে আমার অন্তরের সকল চাওয়া-পাওয়া। রাতে যখন ঘুমুতে যাই তখন মনে পড়ে এই বাংলাকে জয়
করার জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা কত ত্যাগ করেছেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাঁরা যুদ্ধ
করেছেন। তাঁদের কাছে হয়ত অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল না কিন্তু তাঁদের কাছে ছিল দেশপ্রেম,
যেই অস্ত্র দেখা বা ধরা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। একথা অনস্বীকার্য যে, মুক্তিযুদ্ধের
সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভূমিকা প্রশ্নের উর্ধ্বে। তাঁর যোগ্য পথবন্ধু
ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বাংলার সংকটপূর্ণ মুহূর্তে বাংলার সকল সন্তান অস্ত্র হাতে
এদেশের শত্রুদের প্রতিহত করেছেন। তাঁদের
মধ্যে যেন এক অলৌকিক বন্ধন, শক্তি ও ভালোবাসা ছিল। এসব কিছুর কোনোটাই আমি
দেখিনি। মা, বাবা, শিক্ষকের কাছ থেকে এবং বই পড়ে জেনেছি। তবুও যখনই একথাগুলো আপন মনে
চিন্তা করি, সমস্ত শরীর শিউরে উঠে! নিজেকে
অভাগা মনে হয় এই ভেবে যে, কেন তখন জন্মালাম না! অথচ আজ যখন দেশকে দেখি, দেশের মানুষগুলোকে
দেখি স্বাধীন দেশের স্বাধীন সরকারকে দেখি তখন মনে হয় যদি বইয়ের পাতায় ঢুকে যেতে পারতাম।
দেশ হয়তো স্বাধীন হয়েছে পাক হানাদারদের ছোবল থেকে, কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে তৎকালীন সময়ে
মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন দান করেছেন তার কিছুই যে বাস্তবায়ন হয়নি। এর দায়ভার কার?
অবশ্যই আমার, আমার সহপাঠী, আমার মা-বাবা, প্রতিবেশী সকলের। যে বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্ববাসীর
মাঝে ছিল বিস্ময় সেই বাংলাদেশকে এখন দেখা হয় তিরস্কারভরা চোখে। টানা তিনবার দুর্নীতিতে
চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব (!) অর্জন করে গতবার খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য রানার্সআপ হয়েছে।
মাঝে মাঝে মনে হয় মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধারা যদি আমার শার্টের কলার ধরে বলেন, “আমাদের
দেশের এ অবস্থা কেন?” তখন আমি কি জবাব দেব? শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য,
আমদানি-রপ্তানি সকল ক্ষেত্রেযেন দুর্নীতি নিয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। প্রতিবার সরকার পরিবর্তন
হচ্ছে আর প্রত্যেক সরকার যেন চোখে কালো কাপড় বেঁধে রেখেছে। তারা একজন আরেক জনকে দোষারূপ
করছেন, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মজার (!) খেলায় মেতে রয়েছেন। বিলাসবহুল গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ
এবং বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ সাহায্য (!) আনা আজকাল ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় ছিল বাংলা মায়ের
মাটিতে সোনা ফলত। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও
আজ আর তা হচ্ছে না। কৃষকেরা কৃষি কাজ ছেড়ে
দিয়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কেননা সরকার কর্তকর্তৃক তাঁরা বহুকাল ধরে অগ্রাহ্য হয়ে আসছেন। তাঁরা যথাসময়ে জমিতে পানি দিতে পারছেন না, সার পাচ্ছেন
না, কীটনাশক-ঔষধ পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ এর অভাবে সেচ দিতে পারছেন না, এমনকি সেচ কাজে চালাতে মেশিনের জন্য তেল ব্যবহার
করা হয় তাও পাচ্ছেন না। অথচ এদেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা একেকজন সত্তর-আশি লক্ষ টাকা
দামের গাড়ি চালান এবং গাড়ির ইঞ্জিন ভালো রাখার জন্য পেট্রোল ব্যবহার করেন। হায়রে আমার
দেশ! আমার সরকার! একদা নদীমাতৃক সুজলাসুফলা
অঞ্চল বাংলার নদীগুলো যেন এখন মরা খাল। সরকার বোধহয় আশঙ্কা করছে এ নদীপথে না আবার বৃটিশরা
এদেশ দখল করতে আসে তাই নদীপথ যখন বন্ধ হয়েই যাচ্ছে তখন এদেশ নিরাপদ থাকবে! দেশ এখন
কতগুলা বুড়ো গাধার (!) হাতে জিম্মি যাদের জীবন ব্যর্থতার মালায় গাঁথা। তারা জোঁকের
মত এদেশের মানুষের রক্ত শোষণ করেই যাচ্ছে। আর নয়, আমাদেরকে এই জোঁকের গায়ে লবণ দিয়ে
রক্তচোষাদের ছাড়াতে হবে। তারপর আমাদের জীবনকে
উৎসর্গ করতে হবে এদেশের ঋণ শোধ করতে। তবেই তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আবার কোনো বইয়ে পড়ে আমাদের
কথা পড়ে শিউরে শিউরে উঠবে! নতুন করে দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। লেখক: ঢাকা কলেজের একাদশ
শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার ছাত্র font download Editor : Probir Bikash Sarker |