আমার নাম ইয়াসিন খান আরাফ। আমি ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ি। বন্ধুরা তোমরা কি জানো, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। আমাদের চারপাশের নদী-নালা, খাল-বিল, ঘর-বাড়ি, গাছপালা ও মানুষজন নিয়ে আমাদের পরিবেশ গঠিত। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমাদের ও বিভিন্ন দেশগুলোর পরিবেশ রক্ষার্থে এ দিবসে বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন কারণে পরিবেশ আজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। আমাদের পরিবেশের অন্যতম উপাদান হচ্ছে গাছপালা। অথচ কারণে-অকারণে গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। তাই বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া বায়ুতে কলকারখানার ধোঁয়া, ইট ভাটার ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, যত্রতত্র খোলা ডাস্টবিনের আবর্জনার দুর্গন্ধসহ নানান বিষাক্ত ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে।

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমাদের বাঁচা সম্ভব না। সেই জীবন রক্ষাকারী পানি আমাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নদীর পানি বিভিন্নভাবে দূষিত হচ্ছে। বাসায় ট্যাপের পানির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আবর্জনা আসছে। পানি খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার বদলে আমরা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি। গাছ কেটে ফেলায় সহজে বৃষ্টিও হয় না। তাই বিশুদ্ধ পানির উৎস হিসেবে মানুষ বৃষ্টির পানি পান করতে পারছে না। তাছাড়া গ্রামে গভীর নলকূপের সাহায্যে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর দিনে দিনে নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই গ্রামের মানুষ সেখান থেকেও পানির উৎস খুঁজে পাচ্ছে না। এভাবে পানি দূষণ হচ্ছে এবং দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট।

পৃথিবীতে মানুষের বসবাস করা জায়গার তুলনায় দ্বিগুণ মানুষ বসবাস করছে। ফলে মাটিতে চাপ এবং অতিরিক্ত আবর্জনা সৃষ্টি হচ্ছে। তা মাটিতে পঁচা সম্ভব হচ্ছে না। মাটির ওপর জমে থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া মাটির উর্বরতাকেও নষ্ট করছে।

এভাবে উপরের তিনটি পরিবেশের উপাদান বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হচ্ছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসহ পরিবেশের আশেপাশে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যই হচ্ছে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করা। এসো বন্ধুরা, অন্য সবার মতো আমরাও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সাধ্যমতো চেষ্টা করি।

 

চতুর্থ শ্রেণী, রাজধানী আইডিয়াল স্কুল, রামপুরা, ঢাকা


Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright c All Rights Reserved.



আমি স্বাধীনতা দেখিনি। স্বাধীনতার অনেক গল্প আমি শুনেছি। ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় গৌরবান্বিত দিন। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এ দিনটি চির উজ্জ্বল ও চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। আমাদের এ স্বাধীনতা মাত্র নয় মাসের যুদ্ধের ফলশ্রুতিই নয়, এতে রয়েছে এক সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস। অসংখ্য শহীদের রক্তে রঞ্জিত এ স্বাধীনতা। আমরা অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে ২৬ মার্চ পালন করে থাকি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার দামাল ছেলেরা পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। এ স্বাধীনতা আনতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রিতে পাক বাহিনী বাংলাদেশে আক্রমণ চালায়। সারাদেশের ওপর চলতে থাকে নির্মম অত্যাচার।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। জন্ম নেয় দুটি রাষ্ট্র--পাকিস্তান আর ভারত। পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান। দুই অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল ১ হাজার মাইল। পাকিস্তানের পাঞ্জাবি স্বার্থান্বেষীরা বাংলাদেশকে তাদের উপনিবেশ বানাতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেয়ে বড় সম্পদ পৃথিবীতে আর কিছুই নেই বলে মনে হয়। এছাড়া আর কোনো সম্পদ ভোগ করার অধিকার থাকে না। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো জাতীয় জীবন চলে না। জাতীয় জীবন তখন অর্থহীন মনে হয়। পরাধীন মানুষেরা কখনো মুক্তির স্বাদ পায় না। নিজের সাধ ও ইচ্ছা প্রতিমুহূর্তে তাকে জলাঞ্জলি দিতে হয়। তাই স্বাধীনতা লাভ করার জন্য ব্যক্তি তথা জাতি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে জীবনও তুচ্ছ জ্ঞান করতে পিছপা হয় না। পরাধীন জাতির জীবনে উন্নতির সব দ্বার রুদ্ধ করে দেয়া হয় পরাধীন মানুষকে। পশুর ন্যায় জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। তাই মানুষ স্বাধীনতার জন্য উদগ্রীব না হয়ে পারে না। বাংলাদেশ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কবি যথার্থই বলেছেনঃ

 

স্বাধীনতা, হে আমার স্বাধীনতা,

আমার প্রতিটি রক্তকনায়

এক উজ্জ্বল অনুভূতি।

 

শ্রেণী: ৮ম, কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright c All Rights Reserved.






এই ছোট জনবহুল বাংলাদেশটাকে নিয়ে অনেকের মনেই অনেক কল্পনা এবং ভাবনা রয়েছে। আমার মনেও এ দেশটাকে নিয়ে কিছু ভাবনা জেগে ওঠে। আর আমার ভাবনাগুলো বেশিরভাগই জড়িত এ দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ এ দেশের শিশু-কিশোরদের নিয়ে।
বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হওয়ার কারণে এ দেশের সকল শিশু-কিশোর সব সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পায় না। ফলে সৃষ্টি হয় অনেক শিশু শ্রমিকের এবং সৃষ্টি হয় অনেক কিশোর অপরাধীর। অকালে ঝরে পড়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিশু-কিশোর। স্কুল-কলেজে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে দেখা  যায়  অনেক শিশু বইখাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার বদলে হাতে একটা জীর্ণ ব্যাগ নিয়ে ময়লা কাগজ, পলিথিন প্রভৃতি কুড়াচ্ছে। আবার অনেক কিশোর রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে বেড়াচ্ছে, কেউ জুতা পালিশ করছে, কেউ  রাস্তায় ক্লান্তহয়ে ডাস্টবিনের এক কোণায় ঘুমিয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেক কিশোর অপরাধে  লিপ্ত হচ্ছে। কারণ কথায় বলে অভাবে  স্বভাব নষ্ট হয়। অভাবের তাড়নায় আজ তাদের  স্বভাব নষ্ট হয়েছে। এভাবে আমাদের দেশের শিশু-কিশোর নামক সম্পদগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তারা হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।  পর্যাপ্ত  সুযোগ-সুবিধা এবং সাহায্যের অভাবে আজ তারা কষ্টকর জীবনযাপন করছে। তারা যদি সকল সুযোগ-সুবিধা পেত তাহলে তারাও হয়ত আজ আর দশটা ছেলেমেয়ের মতো স্কুলে যেত, কলেজে যেত। তারা তাদের মনের মণিকোঠায় অংকিত  স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন  করতে  পারত। হয়ত এমন অনেক শিশু-কিশোর ঝরে গেছে যারা হতে পারত বাংলাদেশের গর্ব। যারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারত অনেক দূর।

তবে আজ আমরা যারা সব সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারছি। আমদের প্রত্যেকের সচেতন হতে হবে নিজের দায়িত্ব পালনে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করলে হয়ত শিশু কিশোরদের একটা নতুন জীবন দিতে পারব। তাদের দেশকে নিয়ে   স্বপ্নদেখতে সাহায্য করতে পারব। আমরা যারা সুবিধাবঞ্চিত নই আমরা সবাই মিলে পরিশ্রমের মাধ্যমে, নিজেদের শিক্ষা ও জ্ঞান ও বুদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বল নক্ষত্র করে  তুলতে পারব। আমরা শিশু-কিশোররা হাতে হাত রেখে এগিয়ে গেলে উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে অবশ্যই আগামীকাল উন্নত ভবিষ্যৎ বলে পরিচিত করতে পারব।

এই হচেছ আমার সোনার বাংলাদেশকে নিয়ে আমার ভাবনা।

 

শাহীনুর ইসলাম রুম্মান ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যায়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী

 

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright c All Rights Reserved.
home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com