কিপটের বাজার

মোঃ রবিউল ইসলাম

আক্কাস আলী ভীষণ কিপটে মানুষ। একদম টাকা খরচ করতে চান না। তার স্ত্রী তাকে কত করে বলে কিপটামি ছাড়তে। কিন্তু সে কিপটামি ছাড়তে চায় না। একদিন তার বাড়িতে মেহমান এসেছে। আক্কাস আলীর স্ত্রী তার নামে মেহমানদের কত সুনাম করছে। তারপর তার স্ত্রী তাকে বলল, আইজ বাড়িতে মেহমান আইছে, আইজ বেশি কইরা বাজার আনবা। আক্কাস সাহেব বাজারে গিয়ে দেখে সব জিনিসের দাম বেশি। দাম শুনে তার বুক ধড়ফড় করে উঠল। সে বাজার থেকে আধা কেজি পুঁটিমাছ কিনল এবং অল্প কিছু চাল, ডাল ও মসলা কিনে বাড়ির ফিরল।

বাড়ি ফিরে তার স্ত্রীকে বললেন, আইজ কত্ত বাজার আনছি, দেইখা যাও। তাই শুনে তার স্ত্রী দৌড়ে এলো বাজার দেখার জন্য। বাজার দেখে তার মাথা গরম হয়ে গেল। বাড়িতে মেহমান আছে তাই তার স্ত্রী তাকে কিছু বললেন না। মেহমান চলে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হল। স্ত্রীর দাপটে স্বামী অসহায়। শেষে আক্কাস আলী বললেন, আইজ  থেইকা আমি কিপটামি ছাইড়া দিমু।

তারপর সে সত্যিই কিপটামি ছাড়ে এবং প্রতি রাতে ভাবে হায়রে আমার টাকা!

 

৯ম শ্রেণী, কমলাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,ঢাকা

সদস্য, সন্ধান লিটল থিয়েটার ঢাকা




Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.


মা ও ছেলে

সামিনা ইসলাম সামি

একদিন একটি ছেলে স্কুল থেকে বন্ধুদের একটি কলম চুরি করে এনে মাকে দিল। চুরি করার জন্য মা ছেলেকে কোনো শাসন করল না। কলমটি হাতে নিয়ে দেখে বলল বাঃ! দামি কলমই মনে হচ্ছে, যত্ন করে রাখিস। কিছুদিন পরে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ছেলেটি একটি ঘড়ি চুরি করে আনল দেখে মা বলল, বেশ ভালো ঘড়ি এনেছিস দেখছি। এখন থেকে এটি তোর পড়ার টেবিলে রাখবি। এভাবে ছোট-খাটো জিনিস চুরি করে দিনে দিনে ছেলেটি পাকা চোর হয়ে উঠল। চুরিতে হাত পাকিয়ে তার সাহসও বেড়েছে। এখন সে রাতের অন্ধকারে লোকের বাড়িতে ঢুকে দামি দামি জিনিস, টাকা-পয়সা চুরি করে। বেশ কিছুদিন এভাবে কাটল। ছেলেটি এরপর হল ডাকাত দলের সর্দার। সে এখন দলবল নিয়ে দোকানে ও বাড়িতে চুরি করে। হাসতে হাসতে মানুষ খুন করে। শেষে একদিন ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়ল পুলিশের হাতে। বিচারে ছেলেটির ফাঁসির হুকুম হল। সেই ডাকাত একদিন বিচারকের কাছে আর্জি জানাল, ফাঁসির আগে আমার মায়ের সঙ্গে দুটো কথা বলতে চাই। বিচারক তার আবেদন না মঞ্জুর করলেন।

অতঃপর সেই মা ছেলের সঙ্গে জেলখানায় দেখা করতে এলো। বন্দি ছেলেকে দেখে সে আকুল হয়ে বুক চাপড়ে কাঁদতে লাগল। ছেলে তার মাকে বলল, মা এখন কেঁদে কি হবে? যা হবার হয়েছে। আমার কাছে এগিয়ে এসো। তোমার কানে কানে দুটি কথা বলে যাই।

চোখের জল মুছে মা এগিয়ে গিয়ে কান বাড়িয়ে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে তার মায়ের কানটা কাট করে কামড়ে কেটে নিল। মা যন্ত্রনায় আর্তনাদ করে উঠল। পরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, তুই নিজের মায়ের শরীরের রক্ত ঝরালি এত বড় অন্যায় কাজ করতে তোর একটুও বাধল না হতভাগা।

ছেলে তখন হেসে বলল, মা, আজ তুমি অন্যায় কাজের জন্য আমাকে বকছ। যেদিন আমি স্কুল থেকে প্রথম বন্ধুর কলম চুরি করে এনে তোমার হাতে দিয়েছিলাম সেদিন যদি এই শাসনটুকু করতে তাহলে এখন আমাকে ফাঁসিতে মরতে হত না।

 

প্রথম শ্রেণী, উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাকরাইল, ঢাকা

সদস্য: কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা

 



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





 

আকাশ মাঝে মেঘের ভেলা

ভাসে নিরবধি,

তারই মাঝে হঠাৎ আবার

সূর্য হাসে যদি--

কাশবনে মিষ্টি বাতাস

নিবিড় ছোঁয়া দিয়ে|

হারিয়ে যায় দূর অজানায়

মিষ্টি সুবাস নিয়ে।

নদীর ধারা বয়ে যায়

রেখে নিজের ছায়া,

হারিয়ে যাবার শখ জাগে না

লাগে ভীষণ মায়া।

সবুজ কচি ঘাসের মাঠ

ভীষণ আকর্ষণ,

কোথায় যাব এসব ছেড়ে

থাকব কতক্ষণ?

 

শ্রেণী: ৯ম, শাখা: গ, মসজিদ মিশন একাডেমী, রাজশাহী

 



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.




আধুনিক বাংলা সাহিত্যাকাশে যে সমস্ত মনীষীর আবির্ভাব হয়েছে তাদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ভারতীয় মনীষী এবং বিশ্ববিখ্যাত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি সঙ্গীত ও অঙ্কন বিষয়েও পারদর্শী ছিলেন। কাব্য সাধনার ক্ষেত্রে প্রথম জীবনে অগ্রজ জ্যোতিন্দ্রনাথ এবং পত্নী কাদম্বরী দেবী বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি কম বয়সে বালক এবং ভারতী নামক দুখানা সাহিত্য পত্রিকার সুষ্ঠু সম্পাদনা করে অনেক প্রশংসা লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো দিক নেই যেদিকে তাঁর অমর লেখনী সঞ্চালিত হয়নি। এ বিস্ময়কর কবি সব কিছুই লিখতেন স্বযত্নে। তাঁর অনুপম সৌন্দর্য ও মাধুর্যমন্ডিত লেখার কারণে তিনি ছিলেন বাংলার সেক্সপিয়ার। তাঁর আধ্যাত্মিক সুর ও অমর সৃজনকর্মের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব থেকে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছিল তিনিও শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েন। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে একটি শোভাযাত্রা পরিচালনা ও রাখি উৎসব প্রচলন করেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ইংল্যান্ড কর্তৃক প্রদত্ত নাইট উপাধি ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি।

এই কালজয়ী কবি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। বার্লিনে কবির অঙ্কিত চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি তঁর সবচেয়ে ভালো লাগার বন্ধু আইনস্টাইনের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট উপাধি দেওয়ার জন্য শান্তিনিকেতনে সমাবর্তন উৎসব করেন।

রবীন্দ্রনাথের একক চেষ্টায় বাংলা ভাষার সকল দিক সমৃদ্ধ হয়ে বিশ্বের দরবারে সগৌরবে নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করে। সাহিত্যের প্রত্যেক শাখাতেই তাঁর অশেষ অবদানের জন্য তিনি উঠেছেন কালক্রমে খাতির শীর্ষ শিখরে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ, নাট্যকার এবং স্বদেশ প্রেমিক।

 

১বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা         



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.



আমার এক বান্ধবীর মায়ের গল্প। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা, ঠিক তার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

আমি রুনি। বয়স ৬ বছর। টাঙ্গাইলে পড়াশুনা করি। স্কুলের সবাই বলেন আমি নাকি খুব ভালো গান করি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মা বলেন, বাবা নাকি অনেক সুন্দর গান করতেন। আমি দেখি, প্রতিটি ২৬ মার্চে আমার মা সেই বাঙ্টি থেকে রক্তভরা একটি জামা খুলে এনে খুব কান্না করেন। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে মা আরও বেশি কাঁদেন। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে মা বলতেন, এটি রং। তবে এবার মা আমায় জানালেন এটি রং নয়। আমার শহীদ বাবার রক্ত। পরে মা আমাকে যে ঘটনাটি জানালেন তা আমি এখন সকলকে জানাতে চাই।

তখন আমার বয়স নাকি ছিল ২ মাস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি দেন। 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'

সেদিন নাকি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে আমার বাবাও রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এই সুন্দর দেশটিকে রক্ষা করার জন্য। বাবা প্রাণপণে যুদ্ধ করেন। একদিন রাতে বাবা দু'জন লোককে নিয়ে বাসায় আসেন ভাত খাবার জন্যে। সেদিন আমাদের পাশের বাসার মোস্তাক চাচা যিনি কিনা পাকিস্তানিদের দালাল ছিলেন। তিনি গিয়ে পাকিস্তানিদের জানিয়ে দেন যে দু'জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বাবা বাড়ি এসেছেন। পরে দেখা যায়, পাকিস্তানিরা আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছে। সেদিন ছিল ২৬ মার্চ। বাবা মাকে সেদিন বলেছেন, রুনির মা তাড়াতাড়ি রুনিরে নিয়া পালাও, নইলে তোমারেও মাইরা ফালাইবে। মা বাবার জোরাজুরির কারণে গোপনে পুকুর পাড়ের কচুঝোঁপের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন।

কিছুক্ষণ পর মা শুনতে পান বাবার চিৎকার। এরপর পাকিস্তানিরা চলে গেলে মা গিয়ে দেখেন, বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। এরপর মা বলেন, রুনি তুই কোনোদিন এই জামাটা হারাবি না। এটা তোর বাবার স্মৃতি। এরপর আমি প্রতিজ্ঞা করি, এ দেশটাকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলব। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করব।

 

শ্রেণী: ৬ষ্ঠ, গভ: মডেল গার্লস হাই স্কুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





স্বাধীনতা মোর স্বাধীনতা

খোদার সেরা দান।

জীবনটাও রাখব বাজি

রাখতে তার মান।

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে

পেয়েছি স্বাধীন দেশ,

সবুজে শ্যামলে অপরূপ

রূপের নেইকো শেষ।

এই দেশেতে জন্ম নিয়ে

ধন্য হলাম আমি

বুঝলাম তাই স্বাধীনতা

কতটা যে দামি।

 

নবম শ্রেণী, বাকাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সুহিলপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





মুস্কান তাবাস্সুম : আপনার পরিচয়।

মোঃ ওয়াদুদ খান রিয়েল : আমি মোঃ ওয়াদুদ খান রিয়েল, এডভোকেট, জজকোট, ঢাকা।

শিশুকাল কেমন কাটিয়েছেন?

লেখাপড়া, খেলাধূলা আর দুষ্টুমি তো কিছু ছিলই--সবমিলিয়ে ভালো।

ছাত্রজীবনে কি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? হতে পেরেছেন কি?

ছাত্রজীবনেই আইনজীবী হওয়ারই স্বপ্ন দেখতাম। হতে পেরেছি ইনশাল্লাহ্।

একটা কথা জানতে চাইব, আপনাদের পোশাকের রং কালো কেন?

প্রথমে ব্রিটিশ আদালতে আইনজীবীরা সাদা রঙের কোট ব্যবহার করতেন। কথিত আছে, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা যাওয়ার পর শোকের চিহ্ন হিসেবে কালো রঙের কোট ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীকালে এটাই প্রচলিত হয়ে যায়। সেই সময়ে যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল, সেহেতু ভারতবর্ষসহ অন্যান্য দেশেও ব্রিটিশদের প্রচলিত পোশাকই ব্যবহার হতে থাকে।

কিন্তু ব্রিটিশ শাসন তো এখন আর নেই? তাহলে পোশাকের রং পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?

আইনজীবীদের পোশাক পরিবর্তন করে ঋতুবান্ধব পোশাকের কথা বারবার আসছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কালো পোশাক এখনো আছে আর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এসব কারণেই হয়ত পোশাকের রং পরিবর্তন করা হয়নি। তবে যতই দিন যাচ্ছে পোশাকের রংসহ পোশাক পরিবর্তনের কথা উঠছে বারবার। আশা করি এটা পরিবর্তন হবে।

ছোটবেলায় কি কি খেলা পছন্দ করতেন?

কাবাডি, দাবা, ব্যাডমিন্টন বেশি পছন্দ করতাম।

পশুপাখিদের মধ্যে কি পছন্দ করতেন?

পশুর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণ আর পাখির মধ্যে কবুতর ও ময়ূর আমার পছন্দ।

এখনকার শিশু-কিশোর ও আপনাদের যুগের মধ্যে কি কি পরিবর্তন ঘটেছে বলবেন কি?

এখনকার যুগের শিশুরা অনেক স্বাধীনচেতা ও মুক্তমনের অধিকারী। আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সুবিধা বৃদ্ধি তো তাদের পৃথিবীটাই বদলে দিয়েছে। যা আমাদের সময়ে ছিল না।

বাংলাদেশের শিশু প্রজন্মের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের যে পদপে রয়েছে সেগুলো কি যথার্থ বলে মনে করেন? এসবের কি আদৌ প্রতিফলন ঘটেছে বা ফলপ্রসূ হয়েছে?

বাংলাদেশের শিশু প্রজন্মের সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিক্ষা- স্বাস্থ্যসহ সার্বিকভাবে নানা পদপে গ্রহণ করেছে। দরিদ্র শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যাসহ নিরর শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা আছে। পাঠের জন্য গণগ্রন্থাগার, খেলাধূলা ও বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক আছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

এ দেশের শিশুদের মৌলিক সমস্যা যেমন--শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, খেলাধূলার ক্ষেত্রে পৌরসভা, স্থানীয় সরকার কি ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?

শিশুদের মৌলিক সমস্যার সমাধানে মারাত্মক ছয়টি রোগের টিকা প্রদানসহ ভিটামিন এ জনিত রোগ থেকে রার জন্য টিকা খাওয়ানো হয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্য রায় কমিউনিটি কিনিকের ব্যবস্থা আছে। শিক্ষা,খেলাধূলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে  পৌরসভা ও স্থানীয় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। এসবের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়েছে। শিশুরা চিন্তার বাইরে নয়। উদ্যোগহীনতা ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকাই মূল কারণ।

ছাত্রদের কি রাজনীতি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন? করলে কি ধরনের রাজনীতি করা উচিত?

ছাত্রদের অবশ্যই ছাত্ররাজনীতি করা প্রয়োজন। কারণ ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে তা হওয়া উচিত সুস্থ ধারার রাজনীতি।

আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের গড়ে তোলার জন্য কিছু ভাবছেন?

আমি ব্যক্তিগতভাবে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করতে চাই। যাতে শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। মানবেতর জীবন যাপন করতে না হয়।

সময় দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ। কিশোরচিত্রের সকল পাঠকদেরও ধন্যবাদ।



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.





কবিশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ বর্তমান বিশ্বের এক বিস্ময়। বাংলা সাহিত্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি তিনি। মানব সমাজের এমন কোনো ত্রে নেই, এমন কোনো চিন্তা নেই, এমন কোনো ভাব নেই যেখানে তিনি অবাধে বিচরণ করেননি। তিনি একাধারে মানুষের চিরন্তন সুখ-দুঃখ, মিলন-বিরহ আনন্দ-বেদনার পালাগান রচনা করেছেন। ইংরেজি সাহিত্যে যেমন শেক্সপিয়ার; ফরাসি সাহিত্যে যেমন ভিক্টর হুগো; ইতালীয় সাহিত্যে যেমন দান্তে; জার্মান সাহিত্যে যেমন মহাকবি গ্যোটে; সংস্কৃত সাহিত্যে যেমন কালিদাস, তেমনি বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ কবির কবি মহাকবি।

বাংলাদেশের শিক্ষা, শিল্প  ও সংস্কৃতির পীঠস্থান ছিল কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি। ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ইতিহাসে   এই ২৫ বৈশাখ তারিখটি সোনালি অক্ষরে  খোদিত রয়েছে। বিদ্যালয়ের রুটিনবাঁধা জীবনে তিনি অভ্যস্ত হতে পারলেন না। বাড়িতেই চলল শিক্ষা-দীক্ষা বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকগণ তাঁকে শিক্ষাদান  করতেন। বাল্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা তাঁর পে এক প্রকার নিষেধ ছিল। বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে থেকে তিনি হাঁপিয়ে উঠতেন। এই কঠোর শাসনের মধ্যে থেকে তিনি বেশির ভাগ সময়েই প্রকৃতির নীল আকাশ, তরুলতা প্রভৃতির দিকে আপনমনে তাকিয়ে থাকতেন। ভাবতেন তিনি ‘খাঁচার পাখি’ আর প্রকৃতি ‘বনের পাখি’ উভয়ে কিভাবে মিলিত হবে। এ ভাবনা ছিল তাঁর ছেলেবেলা থেকেই। ঠাকুরবাড়ির নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত গান বাজনা, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ তাঁকে আকর্ষণ করত।

রবীন্দ্রনাথ প্রধানত ছিলেন কবি। বিশ্বকবি হলেও গল্প, উপন্যাস, পত্র, সাহিত্য, রসরচনা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী অর্থাৎ সাহিত্যের সর্বত্রে ছিল তাঁর অবাধ স্বচ্ছ বিচরণ। নাট্যাভিনয় শিল্পসৃষ্টি ইত্যাদিতেও তাঁর প্রতিভা ছিল অসাধারণ। রবীন্দ্রসাহিত্য সর্বত্র বিরাজিত। সাহিত্যতত্ত্ব, সমাজনীতি, রাজনীতি, লোকসাহিত্য, দর্শন, শিল্প, সমালোচনা প্রভৃতি তাঁর কাব্য, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে স্থান পেয়েছে, গীতাঞ্জলির জন্য সাহিত্যে নোবেল জয় কবিকে বিশ্বকবির অনন্য মর্যাদায় উন্নীত করেছে।

সমগ্র মানবসমাজের প্রতি তাঁর মমতা ও শ্রদ্ধা ছিল এক এবং অপরিসীম। যা তাঁর সাহিত্যে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর জীবনেও ল করা গেছে। নোবেল পুরস্কারের সমস্ত টাকা শিলাইদহে চাষীদের দান করেছিলেন। সমবায় পদ্ধতিতে চাষ করতে চাষীদের তিনি উদ্দীপ্ত করেন। আবার হিজলি জেলে গুলি চালানোর প্রতিবাদ জানানো, বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগদান, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ‘লাইট’ উপাধি ত্যাগ এ সবই তাঁর মানবতাবাদের পরিচয়। শিক্ষাবিদ   হিসেবে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তিনি শান্তিনিকেতন সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর স্বপ্নের শিক্ষানিকেতন  যা বর্তমানে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত। তাঁর সৃষ্ট অজস্র সংগীত  রবীন্দ্রসঙ্গীত’ নামে খ্যাত। চিত্তশুদ্ধিতে, কর্ম প্রেরণা যোগাতে, দৈনন্দিন জীবনে সুখ-দুঃখ ভুলতে তার সঙ্গীত অদ্বিতীয়। তাঁর রচিত দুটি সঙ্গীত বর্তমানে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে গৃহীত হয়েছে। যা এক কথায় বিরল।

১৯৬১-তে রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবর্ষকালে সারা পশ্চিমবঙ্গে শুরু  হয়েছিল ব্যাপক উন্মাদনা। আর ২০১০ শুরু হয়েছে রবীন্দ্রনাথের দেড়শ বছর পালনের নানা অনুষ্ঠান। কেবলমাত্র এ রাজ্য নয় সারা বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে নানা রকম ক্রিয়াকর্ম। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর বহু বছর অতিবাহিত হলেও তাঁর কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গান আজও একইভাবে প্রাসঙ্গিক। শুধু সার্ধশত বর্ষ কেন, দ্বি-শতবর্ষেও তিনি সবার কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবেন।

পরিশেষে

 

মোদের রবি

 

কবিগুরু তোমায় জানাই মোদের

শত কোটি প্রণাম।

হাটে মাঠে ঘাটে শুনতে পাই

শুধুই তোমার নাম।

তোমার লেখা গল্প গানে

মন যে মোদের কেবল টানে।

সার্ধশতবর্ষ জুড়ে চলছে আয়োজন

নৃত্য, গীত আর নানা বিনোদন।

কবি গুরু, কবিগুরু

হে মোর বিশ্বকবি

স্মৃতির পটে ভেসে ওঠে

শুধুই তোমার ছবি।

যুগে যুগে ওগো কবি

তোমায় যেন পাই,

ওগো কবি, তোমারকাছে

আশীষ শুধুই চাই।

 

রামকৃষ্ণ মিশন সারদা মন্দির (সরিষা), পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

বয়স : ১৫ বছর

 



Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.



ঠিকই তো ভাষণ দিচ্ছো

এখানে ওখানে

কখনো ভেবেছ নিজেকে নিয়ে?

নিজেই চুরি করে ধনী হচ্ছো

আবার জনগণের কথা বলে বড় করে তুলেছ

নিজেকে বাহ!

লজ্জা করে না, এভাবে দুর্নীতি করতে

কেন? কেন করো?

আর কেনই বা করো গোলাগুলি

সন্ত্রাস, লুটপাট?

থেমে যাও, আর স্বার্থপরতা নয়।

এবার লেগে পড়ো দেশ গড়তে

আমরাও আসছি এগিয়ে

সামনে সুদিন......

 

নাতাশা মল্লিক, শ্রেণী: নবম (ক), রাজবাড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়


Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.


অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে এক বাঁশওয়ালা আর বাঁশওয়ালী বাস করত। তাদের কোন ছেলেমেয়ে ছিল না। বাঁশওয়ালা বনে বনে ঘুরে বাঁশ কেটে আনত আর তা দিয়ে নানান রকমের জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করতো। তাতেই কোনরকমে তাদের সংসার চলত।

এতদিন গভীর বনে বাঁশ কাটতে গিয়ে হঠাৎ বাঁশওয়ালা দেখতে পেল খুব সুন্দর একটি চক্চকে বাঁশের ভিতরে আলো ঝলমল করছে! বাঁশওয়ালা ভাবল, নিশ্চয়ই কোন অলৌকিক ব্যাপার আছে এই বাঁশের ভিতরে! আলো ঝলমল চক্চকে সেই বাঁশটি কাটতেই বাঁশওয়ালা দেখতে পেল, বাঁশের ভিতরে ফুটফুটে সুন্দর এক শিশুকন্যা। বাঁশওয়ালা তো খুশিতে আত্মহারা!

এত সুন্দর কন্যাসন্তান ঈশ্বরই আমাদের দান করেছেন। এভাবে ঈশ্বরের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁশকন্যাকে বাড়িতে নিয়ে গেল। নিঃসন্তান বাঁশওয়ালী তো বাঁশকন্যাকে পেয়ে মহাখুশি। বাঁশকন্যার নাম রাখা হলো নায়োতাকে নো কাগুইয়াহিমে।

বাঁশওয়ালা ও বাঁশওয়ালীর আদর যত্নে বড় হয়ে কাগুইয়াহিমে একদিন রাজকন্যার মতো অপূর্ব সুন্দরী রূপসীকন্যা হয়ে উঠল। কাগুইয়াহিমের রূপের কথা দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ল।

খবর পেয়ে বহুদূর-দূরান্তরের দেশ থেকে রাজপুত্ররা এলো। অনেক ধনাঢ্য লোকের পুত্ররাও এসে ভিড় করল বাঁশওয়ালার বাড়িতে। 

কেউ বলল, কাগুইয়াহিমের সাথে একবার দেখা করার ব্যবস্থা করে দিন।

কেউবা বাঁশওয়ালা-বাঁশওয়ালীর কাছে মাথা নুইয়ে অনুরোধ জানাল, কাগুইয়াহিমেকে বিয়ে করতে চাই।

কিন্তু কাগুইয়াহিমে কারো সাথেই সাক্ষাৎকার করল না। অনেক চেষ্টা করেও কাগুইয়াহিমের সাক্ষাৎ না পেয়ে রাজপুরুষেরা একে এক বাড়ি ফিরে গেল। কিন্তু পাঁচজন রাজপুত্র বাঁশওয়ালার বাড়ির দরজায় বসে রইল। তারা কাগুইয়াহিমের সাথে  সাক্ষাৎ না করে কিছুতেই ফিরে যাবে না। তারা কাগুইয়াহিমেকে বিয়ে করার জন্য দিনের পর দিন অপো করে রইল। বাঁশওয়ালা-বাঁশওয়ালীকে অনুরোধ করল এবং নানা রকম প্রলোভন দেখাল।

অবশেষে কাগুইয়াহিমে পাঁচ যুবকের সাথে  সাক্ষাতের অনুমতি দিল। যতারীতি তারা সকলেই কাগুইয়াহিমেকে বিয়ের প্রস্তাব জানাল। প্রস্তাব শুনে কাগুইয়াহিমে ঘোষণা করল, যে আমাকে আশ্চর্য জাদুকরী জিনিস এনে দিতে পারবে তাকেই আমি বিয়ে করব।

কিন্তু কী সেই আশ্চর্য জাদুকরী জিনিস?

কাগুইয়াহিমে বলল, আনতে  হবে  স্বর্গরাজ্য থেকে ভগবান বুদ্ধের ভিক্ষারপাত্র। আগুনের তৈরি ইঁদুরের পমশী চামড়া থেকে তৈরি পোশাক যা আগুনে পুড়বে না।

আনতে হবে সোনার গাছে রূপোর ফল ধরেছে থোকা থোকা সেই আশ্চর্য জাদুকরী গাছ।

গভীর সমুদ্রের তলায় বাসা করে এক ড্রাগন (সর্পদানব)। সে পাহারা দিচ্ছে এক জাদুকরী ডিম। সেটি উদ্ধার করে এনে দিতে হবে।

আর আছে একটি ৎসুবামে পাখি (তিতির, ফিঙ্গে জাতীয় পরিযায়ী পাখিবিশেষ) তার কাছে রয়েছে একটি ঝিনুক। ঝিনুকের বুকের ভিতরে আছে এক অলৌকিক মুক্তো।

কাগুইয়াহিমের এই বিবরণ শুনে সবাই অবাক হল! এমন জিনিস কেউ কোনদিন দেখেছে নামও শোনেনি কেউ। তবুও কেউ হার মানতে রাজি নয়। তারা বেরিয়ে পড়ল সেই আশ্চর্য জাদুকরী জিনিসের খোঁজে। সারা দেশ জুড়ে ঘুরে বেড়াল ভবগবান বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্র, জাদুকরী সেই বাটির খোঁজে। অবশেষে খুঁজে পেল ভাঙ্গা পুরনো একটি পাথরবাটি।

সোনার গাছে রূপোর ফল খুঁজতে খুঁজতে পেল এক পুরনো ভাঙ্গা পাথুরে গাছ। কিন্তু সেখানে সোনার ডালে রূপোর ফল কোথায়?

রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মহাশয় আর কিছু খুঁজে না পেয়ে আনল পশমী চামড়া দিয়ে তৈরি পোশাক। সে বেড়ালের পশমী চামড়া খুব যত্ন করে একটি  বাক্সেরভিতর ভরে নিয়ে এলো। কিন্তু তা আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

সাকুরামোচি (সাকুরা পাতা দিয়ে মোড়া চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি মন্ডপীঠাবিশেষ) দিয়ে থোকা থোকা রূপোর ফলে ভরা সোনার গাছ তৈরি করে আনল একজন। আরেকজন আগুনের ইঁদুরের পশমী চামড়ার পোশাক তৈরি করে আনল। আগুনে যাতে পুড়ে না যায় সেজন্য সঙ্গে আগুন নেভানোর জন্য দুজন লোকও নিয়ে এলো।

আরেক রাজপুত্র সমুদ্রে গেল সর্পদানবের খোঁজে। সর্পদানবের ডিম উদ্ধারের জন্য প্রচুর টাকা খরচ করে অনেকগুলো জাহাজ তৈরি করা হল। শত শত লোক নামিয়ে দেয়া হল সর্পদানবের খোঁজে। কিন্তু সমুদ্রের কোথাও সর্পদানবের খোঁজ পাওয়া গেল না।

জাদুকরী মুক্তে ঝিনুকের খোঁজে লোক পাঠানো হল ৎসুবামে পাখির সন্ধানে। যত উঁচু উঁচু জায়গায় ৎসুবামে পাখির বাসা ছিল সেগুলো তল­াশী করার জন্য দড়ি ও বাঁশ দিয়ে বড় বড় মই তৈরি করা হল। সেই মইয়ে চড়ে অনেক উঁচুতে একটি ৎসুবামে পাখির বাসায় হাত ঢুকিয়ে একটি শক্ত ঢেলা হাতে ঠেকল। রাজ্যের উজিরমশাই খুশিতে চিৎকার করে উঠলেন, পেয়েছি! পেয়েছি! এই তো সেই জাদুকরী ঝিনুক! খুশিতে আটখানা হয়ে উজিরমশাই চিৎকার করার সাথে সাথেই  লম্বা মই ভেঙ্গে নিচে পড়ে গেলেন। উজির মশাই মই থেকে পড়ে গিয়ে কোমড় ভেঙ্গে আতুর হয়ে ঘরে পড়ে রইলেন। জাদুকরী সেই ঝিনুক আর পাওয়া গেল না।

সম্রাটের কাছে এই খবর পৌঁছুল। তিনি বাঁশকন্যা কাগুইয়াহিমের রূপের কথা শুনে বললেন, এত সুন্দরী রূপসী কন্যাকে আমি হিরে-জহরতে সাজিয়ে সম্রাজ্ঞী করে রাখব।

বাঁশওয়ালা ও বাঁশওয়ালী সম্রাটের এই কথা শুনে মহাখুশি। তাদের কন্যা রাজরানী হবে! আর সম্রাট হল দেবতাতুল্য--মহাশক্তিমান পুরুষ। সম্রাটের সাথে বিয়ে হলে কাগুইয়াহিমে হবে জগতের সবচেয়ে বেশি সুখী। কিন্তু কাগুইয়াহিমে সম্রাটের সাথেও দেখা করল না। সে মন খারাপ করে ঘরের ভিতরে গিয়ে লুকিয়ে রইল।

কাগুইয়াহিমের এই অবস্থা দেকে বাঁশওয়ালা খুব চিন্তায় পড়ে গেল। সে ঘরের ভিতরে ঢুকে বাঁশকন্যার কী হয়েছে জানার জন্য তার কাছে গেল।

কাগুইয়াহিমে খুব কষ্টে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, আমি  স্বর্গরাজ্যেরকন্যা।  আমি যে স্বর্গরাজ্যে ফিরে যাবো। এত বছর তোমাদের আদর-ভালোবাসা পেয়ে এখন ছেড়ে যেতে বড় কষ্ট হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই  স্বর্গরাজ্যেরলোকেরা আমাকে নিতে আসবে।

কাগুইয়াহিমের কথা শুনে বাঁশওয়ালা বলল, তোমাকে আমরা কুড়িয়ে পেয়েছি, লালন-পালন করে বড় করেছি। কারো কাছ থেকে ধার করে আনিনি যে ফেরৎ দিতে হবে।  স্বর্গরাজ্য থেকে যত লোকই আসুক না কেন আমরা তোমাকে কিছুতেই নিয়ে যেতে দেব না।

বাঁশকন্যা কাগুইয়াহিমে তার পালক পিতার জেদের কথা শুনে দুঃখে কষ্টে কাতর হয়ে বলল, কোনশক্তি দিয়েই তুমি  স্বর্গরাজ্যেরলোকদের আটকাতে পারবে না।

কিন্তু বাঁশওয়ালা বাঁশকন্যার স্বর্গেফিরে যাবার কথা কিছুতেই মানতে পারল না। সে ঘরের ভিতরে, আরও ভিতরে নিয়ে গিয়ে বাঁশকন্যাকে লুকিয়ে রাখল তারপর শক্ত করে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাইরে পাহারায় বসল।

এই খবর পেয়ে সম্রাট বাঁশকন্যাকে রক্ষা করার জন্য বাড়ির চারদিকে অনেক শক্তিশালী ঘাঁটি করে সৈন্যসামন্ত দিয়ে ঘিরে রাখল।

কাগুইয়াহিমের স্বর্গে ফিরে যাবার রাত ঘনিয়ে এলো। সবাই সতর্ক প্রহরায়। স্বর্গরাজ্যের সৈন্যরা এই বুঝি এলো! চারদিকে উত্তেজনা। সৈন্যরা তীর ধনুক নিয়ে প্রস্তুত।

সেদিনের সেই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদের আলো ঝলমল করে আকাশ জুড়ে উজ্জ্বল ধোঁয়ার মতো পথ তৈরি হল। সেই ধোঁয়ার উপর দিয়ে সার বেঁধে  স্বর্গরাজ্যের  দেবদেবীরা আসছে।

আকাশের অনেক উঁচু থেকে উজ্জ্বল ধোঁয়ার কুন্ডুলীর উপর ভেসে ধীরে ধীরে যখন  স্বর্গরাজ্যের দেবদেবীরা নিচে নেমে এলো তখন জ্যোর্তিময় আলোতে আলোকিত হয়ে উঠল চারদিক। আর আলোর ঝলকানিতে সম্রাটের সমস্ত সৈন্যবাহিনী দুর্বল হয়ে হাত-পা ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ল। তখন কাগুইয়াহিমের ঘরের অতিকায় শক্তিশালী দরজা অবলীলায় খুলে গেল। অল্প কিছুক্ষণের  মধ্যেই বাঁশকন্যা কাগুইয়াহিমে অদৃশ্য হয়ে  স্বর্গরাজ্যেরচলে গেল।

যাবার সময় কাগুইয়াহিমেকে  স্বর্গীয় আচ্ছাদনে ঘিরে ধীরে ধীরে আকাশে তুলে নিয়ে গেল তারা। আকাশের ওপরে, আরও ওপরে যেতে যেতে তার পালিত পিতা-মাতা বাঁশওয়ালা ও বাঁশওয়ালীকে উদ্দেশ করে বার বার বিদায় সম্ভাসণ জানাল, ‘বিদায়!’ শুধু তার ঘরের মধ্যে পড়ে রইল ওষুধ আর একটি চিঠি। বাঁশওয়ালা সেই চিঠি পড়ল। তাতে লেখা ছিল, এটা ফুজি ফলের রস দিয়ে তৈরি অমৃত ওষুধ। এই অমৃত রস খেলে কোনদিন বুড়ো হবে না--বয়সও বাড়বে না। এই অমৃত রস পান করে তোমরা অমর হও আর তোমাদের সম্রাটকেও দিও।

কাগুইয়াহিমের এই চিঠি পড়ে বাঁশওয়ালা আর বাঁশওয়ালী সেই অমৃত রস পান করতে রাজি হল না। কারণ কাগুইয়াহিমের সাথে এই জীবনে আর কোনদিন দেখা হবে না। তাই এই অমৃত রস পান করে শুধু শুধু অমর হয়ে বেঁচে থেকে লাভ কী?

সম্রাটও সেই ফুজি ফলের রসে তৈরি অমৃত পান করতে রাজি হলেন না। কাগুইয়াহিমের সেই চিঠি আর অমৃত রস নিয়ে অনেক উঁচু পাহাড়ের ওপরে --স্বর্গরাজ্যের  কাছাকাছি রেখে বাঁশওয়ালা আর বাঁশওয়ালী কাগুইয়াহিমেকে শেষ বিদায় জানাল। বিদায় কাগুইয়াহিমে! বিদায়   স্বর্গসুন্দরী-- রূপবতী বাঁশকন্যা কাগুইয়াহিমে! বিদায়!

সম্রাটও সেই অমৃত রস ও চিঠি একসঙ্গে করে আগুনে ধরিয়ে দিল। পুড়ে ছাই হয়ে গেল। সেই আগুনের ধোঁয়া এখনো উঁচু আকাশে ভাসতে ভাসতে সেই পাহাড় হয়ে  স্বর্গরাজ্যের দিকে যায়। তাই লোকে ঐ পাহাড়কে বলে ফুজিয়ামা বা ফুজিপাহাড়। 

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com