জন্মগতভাবেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আমরা সবাই এ পৃথিবীর ভৌগোলিক পরিচয়, ইতিহাস সম্পর্কে কিছু না কিছু জানি। কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ তাদের এ জানাকে সামান্য মনে করে। বর্তমানে তারা পৃথিবীর বাইরের ইতিহাস ও পরিচয় জানতে চায়। আমরা যতই এ রহস্যময় জগতের মধ্যে এগুতে থাকি ততই নতুন নতুন বৈচিত্র্য আর অবাক করা বিষয় আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। আমরা জানতে চাই, আবিষ্কার করতে চাই, প্রশ্ন করতে চাই, শুনতে চাই, দেখতে চাই অবিরাম। মানুষ সর্বদাই খুঁজছে নতুন নতুন বিষয় অথবা তথ্য। আর এই খোঁজা ও পাওয়ার মাঝে যে সম্পর্ক বিদ্যমান তাই হল বিজ্ঞান।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তার এই স্বপ্ন আমাদের সকলের স্বপ্ন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর অনেক অবদান রাখছে। প্রতি বছর বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা বয়সের শিশুরা এখানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। প্রতি বছরের মতো এ বছর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হল ৩২তম বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০১১। এ মেলায় যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন আমি তাদের মধ্যে একজন। প্রথমেই রংপুর জেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান মেলা। আমি আমাদের বিদ্যালয় পুলিশ লাইন্স সায়েন্স ক্লাব থেকে একটি প্রজেক্ট তৈরি করি তিন বন্ধু মিলে। আমার প্রজেক্টের নাম ছিল রিমোট কন্ট্রোল রসবিউসিপ/ব্যাটলসিপ দ্য টাইগার অফ ব্যাঙ্গল। রংপুর জেলার মধ্যে প্রথম পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে আমাদের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের প্রদর্শনীর সুযোগ মেলে। এখানে তিন দিন প্রদর্শনী হয় এবং প্রতিদিন আমাদের জন্য ছিল শিক্ষা সফরের সুব্যবস্থা। এখান থেকে জাদুঘরের নিজস্ব বাসে করে আমাদের নেয়া হয় ব্যান্সডক ক্লাবে। এখানে একটি আলোচনা সভায় ব্যান্সডকের কার্যক্রম বোঝানো হয়। এখানকার মূলবিষয় হল মিনিস্ট্রি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি। এখানে লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। এরপর আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় বিসিসি অর্থাৎ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে। এখানে একইভাবে আলোচনা সভার মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় বিসিসি বাংলাদেশকে ডিজিটাল হিসেবে কিভাবে গড়ে তুলবে। এখানকার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটারে শিক্ষার প্রসার ঘটানো। এরপর দ্বিতীয় দিন আমাদেরকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের পুরো ভবনটি ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আমি কখনো যা আশাও করিনি। তা নিজের চোখে দেখেছি। এখানকার সবচেয়ে ভালো লাগা জিনিসগুলোর মধ্যে তিমি মাছের কঙ্কাল, সবচেয়ে পুরনো কম্পিউটার, ছাপাখানা, জেট প্লেনের ইঞ্জিন, মহাকাশের কম্পিউটার, স্পেস শ্যুটস, বিভিন্ন সূত্রের বাস্তব প্রমাণসমূহ অন্যতম।

আমাদের এই বিজ্ঞান মেলায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের নিজস্ব প্রজেক্ট এনেছিল এবং উপস্থাপন করেছিল। আমি এসব প্রজেক্ট খুব মনোযোগ সহকারে দেখি এবং মনে মনে ভাবি বাংলাদেশ ডিজিটাল হতে হয়ত আর বেশি দেরি নেই।

তৃতীয় দিন পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার সমাপ্তি ঘটে। আমাদের প্রজেক্টটি জাতীয়ভাবে সপ্তম হয়। পুরস্কার হিসেবে বই ও সার্টিফিকেট পেয়ে আমরা আরো অনেক বেশি উৎসাহবোধ করছি।

 

১০ শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর

Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.
home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com