
|
প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নত জাপানি সমাজে
মোবাইল ফোন এখন শিশু-কিশোর এবং সত্তুরোর্ধ বয়সী মানুষের হস্তগত হওয়া খুবই স্বাভাবিক
ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। জাপান একটি বুদ্ধিমান এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সমাজ ব্যবস্থা
গড়ার লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। অবশ্য এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের জীবনজীবিকার
উন্নয়ন এবং প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণেও জাপান বহুদূর অগ্রগ্রামী একটি দেশ। সেই দেশের শিশু-কিশোর প্রজন্মকে আলোকিত
ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আরও এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রযুক্তির
ব্যবহার গত এক দশকে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। বিশেষ করে হাইস্কুলগুলোতে কম্পিউটার
ব্যবহার করে নিজস্ব ব্লগ তৈরি, ছবিআঁকা, মানগা বা কমিক্স, অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র তৈরি
করার তাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা বললে অত্যুক্তি হবে না। তবে এর অন্যদিকটিও রয়েছে। যেমন এই অতিরিক্ত
প্রযুক্তিপ্রীতি শিশু-কিশোরদের পাঠ্যপু¯Íকের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ার অভ্যেসকে
ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। মোজি বানারে ওয়াকামোনো--বলে একটি কথা সাম্প্রতিককালে বেশ আলোড়ন
তুলেছে সেটি হল: অক্ষরবিমুখ তরুণ প্রজন্ম। অর্থাৎ মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটারের প্রতি
প্রচন্ড আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে গ্রন্থজগৎ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে বলা যায়। জাপানি
ভাষায় কানজি অক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা তরুণ প্রজন্ম লিখতে ভুল করছে, অনেক ক্ষেত্রে
লিখতেও পারছে না। এই নিয়ে অনেক অভিভাবক এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের মাথাব্যথার কারণ
হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু অভিভাবকই মনে করছেন, শিশু-কিশোর তথা
তরুণ প্রজন্ম বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে সেটা ঠিক আছে কিন্তু অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা
তাদেরকে মানবিক গুণাগুণ বিকাশ এবং প্রকৃত জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে দুর্বল করে তুলতে বাধ্য
করবে। এই আশঙ্কাকে আরও গভীর করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন জনেক হাইস্কুল শিক্ষক, তিনি
জানালেন, শিশুকালে কাগজে মুদ্রিত বইয়ের সঙ্গে শিশুদের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে যার অন্তরালে
ক্রিয়াশীল থাকে প্রকৃতির সঙ্গে স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার। কেননা মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকের
অস্তিত্ব তাদের মনে বিদ্যাশিক্ষা সম্পর্কে একটি ভক্তিমূলক প্রণোদনার সৃষ্টি করে। ঐতিহ্য
অনুযায়ী বইপড়া এবং কাগজে লেখালেখি, আঁকাঝোঁকার প্রবণতা মানবজীবনে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ
সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করে এসেছে শতাধিক বছর ধরেই। সেই ঐহিহ্যে মেশিন এসে বিরূপ প্রভাব
সৃষ্টি করছে। অন্ততপক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত মুদ্রিত গ্রন্থাদির সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের
সম্পর্কটা যাতে বেশি প্রাধান্য পায় সেটাই সঠিক এবং কল্যাণকর বলেই আমি মনে করি। শিশুকালেই
অতিরিক্ত মেশিনের ব্যবহার ভবিষ্যতে তাদের মেসিন করেই তুলবে এটা খুবই সুস্পষ্ট। মানুষ
যদি মেশিন হয়ে যায় তাহলে তাহলে মানবিক সম্পর্কে অবক্ষয় নামতে বাধ্য। বিশ্ব এখন সম্পূর্ণ অন্যরকম। বিশ্ব এখন
বদলে গেছে। যে যতই দুভার্বনা করুক না কেন প্রযুক্তির বিকাশ এবং বাণিজ্যচিন্তা বিশ্বে
যে মহাপরিবর্তনের বিপ্লব সাধন করে চলেছে তার বলয়ে শিশুপ্রজন্মও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাচ্ছে।
পাঠ্যপুস্তকসহ সকল ধরনের গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল
প্রকাশনার কারণে। জাপানও তার ব্যতিক্রম নয়। কিছুদিন পূর্বে আত্মপ্রকাশিত আলোড়ন সৃষ্টিকারী
১০০ ডলার কম্পিউটার প্রকল্প জাপানে মোটেই প্রভাব ফেলেনি। ওয়ান লেপটপ পার চাইল্ড (OLPC)
প্রকল্পটি যদিওবা ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে। এবার বাজারে আসছে সিএম ওয়ান পিসি অর্থাৎ Classmate
pc 1. কম্পিউটারের সিপিইউ (Central Processing Unit)
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেল (Intel)
বাজারে নিয়ে এসেছে শিশু-কিশোর প্রজন্মের জন্য নতুন এই কম্পিউটার। ট্যাবলয়েড সাইজ কনভার্টেবল
পার্সোনাল কম্পিউটার হিসেবে শিশুমহলে বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানি
প্রতিষ্ঠান তোশিবা কর্পোরেশন ইনটেলের সঙ্গে যৌথভাবে জাপানে সিএম ১ তৈরির চুক্তি সম্পাদন
করেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলে স্কুলে এই কম্পিউটার দেবার জন্য সরকারও পরিকল্পনা
গ্রহণ করেছে ব্যাপকভাবে ICT=Information and communication technology এই প্রকল্পের
মাধ্যমে। ১৬০ জিবি=গিগাবাইট, ২জিবি র্যামযুক্ত
১০.১ ইঞ্চি সাইজ এবং ১,৩৬৬x৭৬৮ পিক্সেলের টাচস্ক্রীণ কম্পিউটারটি ৩.৯৭ পাউন্ড মাত্র
ওজন। তোশিবা এটি জাপানে উৎপাদন করবে। আগস্ট মাস থেকে এটি বিক্রিও হবে খোলা বাজারে।
এই কম্পিউটার সম্পূর্ণভাবেই শিক্ষাসংক্রান্ত
বলে ইনটেল দাবি করেছে। এর মাধ্যমে উচ্চতর শিক্ষা পদ্ধতি, সমস্যার সমাধান ইত্যাদি বিষয়ে
শিক্ষকদেরকেও বিশেষভাবে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। ওঈঞ-কে স্কুল পর্যায়ে প্রয়োগ করে আধুনিক
শিক্ষা ও জ্ঞানাহরণের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে করার লক্ষ্যে তোশিবা ডিজিটাল ক্রিয়েটর স্কুল
নামক একটি কর্মসূচীও চালু করবে তোশিবা বিজ্ঞান জাদুঘরে যার মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীরা
কস্পিউটারকে কিভাবে শিক্ষাবিষয়ক প্রোগ্রামিং এবং ভবিষ্যতের জীবনযাপনে ব্যবহারিক করে
তোলা যাবে সেই সম্পর্কে নির্দেশনা অর্জন করতে পারবে, তোশিবার জনৈক মুখপাত্র সাংবাদিক
সম্মেলনে এই কথাই উল্লেখ করলেন ১লা জুলাই।
Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved ![]() Editor : Probir Bikash Sarker probirsrkr06@gmail.com ![]() |