আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ আমার মা। আমার মা আমাকে অনেক আদর করেন। আমার মা একজন গৃহিনী। তিনি খুব ভদ্র ও বুদ্ধিমতী। আমার মা আমাকে সব সময় ভালো খাবার খেতে দেন। তিনি সব সময় বাড়ি-ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। তিনি আমার শিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। তিনি চান আমি জীবনে সুশিক্ষা লাভ করে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত নাগরিক হই। তিনি আমাকে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে বলেন। কারো মনে দুঃখ না দেওয়ার জন্য সাবধান করে দেন। গরীব দুঃখীদের সেবা ও ভালোবাসতে বলেন। আমি আমার মাকে আমার নিজের জীবনের চাইতেও খুব বেশি ভালোবাসি। আমি চোখের আড়াল হলেই আমার মায়ের মনে নানা চিন্তার উদ্রেক হয়। কিসে আমার মঙ্গল হবে, কিসে আমার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং কিসে আমার জীবন সুখময় হবে--আমার মা সর্বদা সে চিন্তাই করেন। মা নিজের সুখ-দুঃখের কথা মনে করেন না। শুধু আমায় নিয়ে চিন্তা করেন। মা আমার সব। আমার মা আমার জন্য অনেক কষ্ট করছে এবং আরো করছে। আমি বড় হয়ে আমার মায়ের মনের আশা পূর্ণ করব।

 

ষষ্ঠ শ্রেণী, বাকাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সুহিলপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া


Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.




বিদ্যালয়ে যখন আমি ছিলাম একা

তানভির দিল বন্ধু হিসেবে দেখা।

বিদ্যালয়ে যেদিন আমি যেতে নাহি পারি,

বন্ধু আমার পড়া নিয়ে চলে আসে বাড়ি।

বন্ধু আমার এত ভ

ালো হিংসা মনে নাই

তাই তো তার কাছে এত উপকার পাই।



Powerd by Manchitro Publishers, 2011 Copyright © All Rights Reserved.



গড়াই,  কুমার, নবগঙ্গা বিধৌত মাগুরা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এ জেলায় রয়েছে চারটি উপজেলা। সেগুলো হলো (১) মাগুরা সদর (২) মোহাম্মদপুর (৩) শ্রীপুর ও (৪) শালিখা।  এ জেলার বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেয়া গেল:

মোহাম্মদপুর উপজেলা

১। ধুলজুড়ী দেবালয়: মোহাম্মদপুরের নিকটে ধুলজোড়া গ্রামে বাস করতেন রাজা সীতারামের উকিল মুনিরা রায়। সেখানে তিনি একটি দেবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এতে একটি শ্লোক আছে শূণ্যচন্দ্র রস ইন্দ্রে কৃষ্ণচন্দ্রস্য মন্দিরং ইদং কৃতি মনিরামে রামভদ্রস্যনন্দন। এটি ১৬১০ শতকে বা ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। এটি সীতারামের রাজত্ব পাওয়ার পূর্বে নির্মিত।

২। দশভুজার মন্দির: সীতারামের প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের মধ্যে দশভুজার মন্দির অন্যতম। এর গায়ে একটি লিপিতে উৎকীর্ণ আছে, মহী-ভুজ-ক্ষোণী-শানে দশভুজালয়। মন্দিরটি ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। তার নির্মিত মন্দিরের মধ্যে এটি সর্বপ্রথম। কয়েকবার মন্দিরটি সংস্কার করা হয়েছে। মন্দিরের গায়ে পালকিতে একজন রাজার ছবি অঙ্কিত ছিল। ধারণা করা হয় তিনিই সীতারাম।

৩। কৃষ্ণ সাগর ও রাম সাগর: রাজা সীতারাম রায় যদুপতি নগরে কৃষ্ণসাগর নামে একটি দিঘি খনন করেন। এর আয়তন ১০০০-৩৫০ ফুট। এর জল পরিস্কার এবং ইষৎ কৃষ্ণাভ। এসই জন্যে Í নাম কৃষ্ণসাগর। এছাড়া এর পাশে তিনি ১৬০০ হাত দীর্ঘ এবং ৬০০ হাত প্রস্থ রামসাগর নামে একটি বিরাট দিঘি খনন  করেন। এর আয়তন ২০০ বিঘা।

৪। লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির: রাজা সীতারামের পিতা উদয় নারায়ণ মোহাম্মদপুর দিয়ে যাওয়ার সময় তার ঘোড়ার পা একটি লক্ষ্মীনারায়ণ শিলায় বেঁধে যায়। এটিকে তিনি ভাগ্যদেবতা হিসেবে স্থির করেন। পরবর্তীতে রাজা সীতারাম রায় ১৭০৪ খ্রি: লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির নির্মাণ করেন।

৫। পঞ্চরত্ন কৃষ্ণজী মন্দির: রাজা সীতারাম রায়ের নির্মিত মন্দির সমূহের মধ্যে পঞ্চরত্ন সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও উঁচু। এটি বহু চিত্রকলা সম্বলিত একটি মন্দির। মন্দিরের গায়ে একটি সংস্কৃত লিপি আছে, যার বাংলা অর্থ: সূর্যের মতো যিনি বিশ্বাস-ঘাস-কুল কমলাক্ষ প্রস্ফুটিত করেছিলেন সেই ভক্তিমান শ্রী সীতারাম রায় স্বীয় গুরুদের কৃষ্ণবল্লবের তুষ্টির নিমিত্তে মদুপতি নগরে সমুজ্জল শিলারাজির সমন্বিত সুরুচিসম্পন্ন বিচিত্র হরে কৃষ্ণ মন্দির উৎসর্গ করেন। এটি ১৭০৩ খ্রি. নির্মিত।

৬। খাস বাসগৃহ, দোলমঞ্চ, রামচন্দ্র মন্দির ও বিগ্রহ: দুধ সাগরের পশ্চিমে একটি দ্বিতল ভবনে রাজা বাস করতেন। এটি তার বাসগৃহ। দুধ সাগরের পূর্বে খোলা প্রান্তরে সীমারামের ত্রিস্তরবিশিষ্ট দোলমঞ্চ আছে। এটি প্রায় ৩০-৩৫ ফুট উঁচু। তার পামে রামচন্দ্র বিগ্রহবাটী অবস্থিত। এটি দোলমঞ্চের দক্ষিণে অবস্থিত দ্বিতল ভবন। মোহাম্মদপুরের সবচেয়ে বড় প্রাচীন স্থাপত্য সীতারামের মৃত্যুর পর এটি কাচারী বাড়ি হয়েছিল।

৭। দুধসাগর, পদ্মপুকুর, চুনাপুকুর: সীতারামের খননকৃত জলাশয়ের মাঝে দুধসাগর অন্যতম। এটি তার ধনাগার হিসেবে ব্যবহৃত হত। এর তলদেশ পর্যন্ত এখনও পাকা আছে। দুর্গ এলাকায় প্রবেশের ঠিক আগে দুটি পুকুর দেখা যায়। উত্তরেরটি চুনাপুকুর। এতে সীতারাম বাড়ি তৈরির জন্য চুন তৈরি করতেন। দক্ষিণেরটি পদ্মপুকুর। এর পাড়ে মোহাম্মদ আলীর আস্তানা ছিল। যার নামে মোহাম্মদপুর নামকরণ করা হয়।

মাগুরা সদর উপজেলা

১। বাতভিটা: বাতভিটা মাগুরা শহর থেকে ১৬ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০০৩-০৪ সালে খনন করে এটি আবিষ্কার করেন।  এতে মোট ৯টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি একটি গুপ্ত যুগের বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসস্তুপ। ধারণা করা হয় রাজা ২য় চন্দ্রগুপ্ত ৪র্থ শতকের শেষার্ধে  বা ৫ম শতকের শুরুতে এটি নির্মাণ করেন।

২। নান্দুয়ালি শিবমন্দির: মাগুরা শহর থেকে ১ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে নবগঙ্গা নদীর তীরে নান্দুয়ালি গ্রামে অবস্থিত। এটি নির্মাণ করেন শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র দাস। তিনি নলডাঙ্গার রাজা রামদেবের মিত্র ছিলেন। তিনি রামদেবের রাজ্য রক্ষা করেন এবং  পুরস্কারস্বরূপ মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থ পান। পরবর্তীতে ১৭৩৮ খ্রি. তিনি এই মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরটি ২৭-৩০ ফুট উঁচু। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১২ ফুট ৩ ইঞ্চি ও ১২ ফুট ৬ ইঞ্চি। এর গায়ে ফুল-পাতা-দেবদেবীর ছবি আঁকা আছে। মন্দিরের পশ্চিমে একটি ইস্টক লিপি আছে।

৩। মাগুরা কালীবাড়ি: মাগুরা শহরের নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত। এর নির্মাতা নলডাঙ্গার রাজা। এর নির্মাণ সন ১৩২৯ বঙ্গাব্দ (১৯২২ খ্রি.)। এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন মাগুরা মহকুমার সুযোগ্য মুন্সেফ শ্রীআশুতোষ গোস্বামী। এটি নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। পরবর্তীতে পুরাতন মন্দির ভেঙে নতুন মন্দির তৈরি করা হয়। নতুন মন্দিরের উদ্বোধন করেন মাগুরার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব শফিউল আলম।

৪। সিদ্বেশ্বরী মঠ: মাগুরা শহর থেকে ৩ কি.মি. উত্তরে অক্ষখাদায় অবস্থিত। কথিত আছে অতি প্রাচীনকাল থেকে এই স্থানে সিদ্ধেশ্বরী মাতার মন্ত্র অঙ্কিত শিলাখন্ড ও কালীমূর্তি ছিল। সেই সময় ব্রহ্মগড় গিরি নলডাঙ্গার রাজা শ্রীমন্ত রায় ও রণবীরকে দীক্ষিত করেন। সেই সময় তিনি ঐ মঠে এসে বসবাস করেন এবং অনেক পরে রঙ্গমাচার্য নামে চট্টগ্রামের এক সন্ন্যাসী এখানে মঠ স্বামী ছিলেন।

৫। মদন মোহন মন্দির: মাগুরার শক্রজিৎপুরে অবস্থিত। রাজা শক্রজিৎ সিংহ ১৬৩৬ সালে শক্রজিৎপুরে তার রাজধানী স্থাপন করেন। তার পৌত্রের পৌত্র আনুমানিক ১৬২০ শকে (১৬৯৮ খ্রি.) মদন মোহন মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের গায়ে সুন্দর কারুকার্য ছিল। ১৮৯৩ খ্রি. এটি একবার সংস্কার  করা হয়। প্রবাদ আছে এর চূড়া নহাট থেকে দেখা যেত। আরো জানা যায় শক্রজিৎপুর রাজবাড়িতে সিংহদ্বার ও জোড়বাংলা মন্দির ছিল। বর্তমানে তার কিছুই নেই।

৬। শ্রীপুর রাজবাড়ি: মাগুরার ঐতিহ্যবাহী জনপথ কুমার গড়াই বিধৌত শ্রীপুর উপজেলা।  শ্রীপুর ছিল রাজা বিরাট রায়ের রাজধানী। ১১৩০-৪০ সালে যখন পাল সাম্রাজ্যের অবণতি শুরু হয় তখন রাজা বিরাট রায় শ্রীপুরে তার রাজত্ব শুরু করেন। পরবর্তীতে সেনদের নিকট পরাজিত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে সপ্তদশ শতকের শুরুতে এখানে সারদা পাল তথা পাল, চৌধুরীরা রাজত্ব শুরু করেন।  শোনা যায় যে রাজা প্রতাপাদিত্যের ছেলে উদয়াদিত্যের বিয়ে এই বাড়িতে হয়েছিল। এখনও কালের সাক্ষী হয়ে একটি উঁচু তোরণ দাঁড়িয়ে আছে।

৭। গরীবশাহ্ মাজার: মহান আল্লাহ্র বাণী প্রচার ও প্রসারের জন্য এ বাংলায় যে কয়েকজন সুফী সাধকের আগমন ঘটেছিল তার মধ্যে গরীবশাহ্ দেওয়ান অন্যতম। তিনি ১৭৫৩ সালে শ্রীপুরের নহাটা বকুলতলায় এক গৃহস্থ ফকির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কুতুবউদ্দিন শাহ। জনশ্রতি আছে যে, তিনি বিভিন্ন রোগ নিরাময় করতে পারতেন। তিনি ১৮২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বাড়িতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

৮। রায়নগর মঠ: মাগুরা থেকে ৭/৮ মাইল উত্তর-পূর্বে গড়াই নদীর তীরে নাকোলে অবস্থিত এ মঠ। মঠটির পূর্ব ও দক্ষিণের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে। বাইরের মাপ ২২-৩ ও ২২-৪, ভিতরের মাপ ১৩-৫। ভেতরে উচ্চতা ২৫। এখানে একটি ইস্টকলিপি আছে। বাইরের মঠটি (১৫৮৮ খ্রি.) নির্মিত। রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্বকালে বিশ্বনাথ নামক স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তির পুত্র কর্তৃক এটি নির্মিত হয়।

৯। কাজী কাদের নেওয়াজ বাসভবন: শ্রীপুরের মুজিয়াদি গ্রামে কুমার নদীর তীরে কবি কাজী কাদের নেওয়াজের বাসভবন অবস্থিত। কবি দেশ বিভাগের পর মুর্শিদাবাদ থেকে এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। এটি গোবিন্দ জোয়ার্দ্দার নামক এক ব্যক্তি ১৩০১ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬ খ্রি.) নির্মাণ করেন। এর পাশেই কবির কবর রয়েছে।

শালিখা উপজেলা

১। তালখড়ি জমিদার বাড়ি: মাগুরা থেকে ১৯ কি. মি দক্ষিণ-পশ্চিমে তালখড়িতে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি। এই বাড়ির নির্মাতা শ্রীসম্ভুনাথ ভট্টাচার্য্য। তিনি শ্রীলোকনাথ গোস্বামীর বংশধর। এই বাড়ি ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে নির্মিত। এই বাড়ির সামনেই লোকনাথ গোস্বামীর জন্মপিঠ। এর পাশেই রয়েছে অন্য একটি জমিদার বাড়ি। যার নির্মাতা জমিদার দুর্গাচরণ। এটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে নির্মিত।

২। তালখড়ি লোকনাথ আশ্রম: হিন্দু ধর্মের অন্যতম মহাপুরুষ লোকনাথ গোস্বামী তালখড়িতে আনুমানিক ১৪৮৩ -৮৪ খ্রি. জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম পদ্মনাভ। শ্রীগৌরঙ্গ লোকনাথের বাড়িতে এসেছিলেন। রাজশাহীর জমিদার পুত্র নরোত্তম বিলাশের সমাধি তালখড়িতে রয়েছে। 

কাজী অরুনিম সাম্য মাগুরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের  ১০ম শ্রেণী ও মাগুরা জেলা ক্রিকেট একাডেমির ছাত্র।

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.


বিদ্যালয়, কথাটা শুনলেই মনে যেন একটা পবিত্রতা এসে যায়, কারণ বিদ্যালয় সেই পবিত্র স্থান যে জায়গা থেকে সৃষ্টি হয় একটি দেশের সুনাগরিকেরা। যেখান থেকে পৃথিবীর বহু জ্ঞানীগুণী মানুষ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় সেই স্থান যেখান থেকে মানুষ নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে। সে জানতে শিখে তার আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে এবং পৃথিবী সম্পর্কে। আমার শিক্ষালাভের হাতেখড়ি হয়েছে আমার প্রিয় অগ্রণী থেকে। আমার স্কুলটির সম্পূর্ণ নাম অগ্রণী স্কুল ও কলেজ এবং এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত। ১৯৫৭ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়, আর যে মহীয়সী নারী আমাদের স্কুলের প্রতিষ্ঠাত্রী তার নাম বেগম আনোয়ারা মনসুর।

আমি এ স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম ক্লাস ওয়ানে। আর ভর্তি পরীক্ষায় আমি অনেক পরীক্ষার্থীর মধ্যে সপ্তম হয়েছিলাম। যেদিন আমি প্রথম ভর্তি  পরীক্ষা দিতে গিয়েছি অগ্রণীতে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম অত বড় স্কুলটি দেখে! আমার মনে হচ্ছিল পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে।

অগ্রণী আমার খুব প্রিয় স্কুল। আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। এর কিছু কারণও আছে। অগ্রণীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোরম। এখানে দুটি বড় বড় চারতলা স্কুল ভবন রয়েছে। আর একটা অনেক বড় মাঠ এবং একটা ছোট মাঠও রয়েছে। অগ্রণী স্কুল ও কলেজে দুটো ল্যাবরেটরী, দুটো কম্পিউটার রুম, কমনরুম, লাইব্রেরি--প্রত্যেক তলায় একটি করে টিচারস রুম এবং নিচতলায় অফিস রুম, প্রধান শিক্ষকের রুম রয়েছে। অগ্রণীতে আমি দশ বছর লেখাপড়া করেছি, দশ বছরের এই সফরে আমি পরিচিত হয়েছি এখানকার অনেক ভালো শিক্ষকের সাথে। আমি পরিচিত হয়েছি অগ্রণীর অনেক কার্যক্রমের সাথে। আমার জানামতে এই স্কুলের কয়েকজন ভালো শিক্ষক হচ্ছেন ননী গোপাল কর্মকার, মাকছুদুর রহমান, মিসেস আফরোজা খানম, শাহিনখান মজলিশ। যদিও তাদের অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। তবুও আমি বলবো তাঁরাই অগ্রণীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বিশেষ করে ননী গোপাল স্যার, মাকছুদ স্যাস এবং আফরোজা খানম (মীনা আপা)। অগ্রণীতে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্যার ননী গোপাল স্যার। অগ্রণীতে বিশেষ কিছু উপলক্ষে কিছু বিশেষ কার্যক্রম হয়ে থাকে। যেমন বাৎসরিক মিলাদ-মাহফিল, ছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান, নবীনবরণ, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রভৃতি। অগ্রণীর মেয়েরা নাচ, গান, আবৃত্তি, বিতর্ক ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। অগ্রণীর অনেক মেয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। আমার অনেক বান্ধবীরাও এর সদস্য।

আমি অগ্রণীতে দশ বছরের সফরে অনেক কিছু পেয়েছি। অগ্রণী আমাকে শিক্ষা দিয়েছে, প্রিয় শিক্ষক দিয়েছে, প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে সেইসঙ্গে অপার আনন্দে শামিল হওয়ার সুযোগ। আর এ সব কিছুর মধ্যে যে সবচেয়ে মূল্যমান উপহার আমি অগ্রণী থেকে পেয়েছি সেটা হচ্ছে আমার বান্ধবীরা। আমি এই অগ্রণীতে এমন সব বান্ধবী পেয়েছি যারা আমাকে খুব ভালোবাসে এবং আমিও তাদেরকে খুবই ভালোবাসি। আমার বান্ধবীদের নাম হচ্ছে প্রিয়া, মিতু, সারা। এই অগ্রণীতে আমরা আমাদের সকল সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছি। কখনো উল্লাসে ফেটে পড়েছি আবার কোনদিন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছি। আমি অগ্রণীকে আমার মনের গভীর থেকে সালাম জানাই যে, সে আমাকে শিক্ষা প্রদান করেছে। হাজার-কোটি ধন্যবাদ জানাই যে, সে আমাকে এত ভালো বান্ধবী দিয়েছে। আমি আমার মনের গভীর থেকে অগ্রণীকে বলতে চাই: অগ্রণী তুমি চিরস্থায়ী হয়ে এই বাংলার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকো। তোমার মধ্যে থেকে যেন আবিষ্কৃত হতে পারে দেশের সবচেয়ে ভালো এবং মেধাবী ছাত্রী। যারা কারো সম্পত্তি নয় যারা পরিবার, সমাজ, জাতি, বাংলার এবং সারা পৃথিবীর সম্পদ বলে অভিহিত হবে। আমরা তোমাকে অনেক ভালবাসি অগ্রণী।

শাহীনুর ইসলাম (রুম্মান), লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়, একাদশ শ্রেণী

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.







আমি দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ি। আমার কলেজের নাম সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় । গত ২০০৯ সালের ৬ জুলাই হতে আমি সেখানে কাস শুরু  করি।

প্রথম দিন কলেজে গিয়ে নিজেকে বড় একা একা লাগছিল। কিন্তু এরপরে অনেক বন্ধু হয়েছে। কলেজের প্রথম দিনে আমাদের অধ্য ব্রাদার লিও পেরিয়া, সিএসসি, আমাদের উদ্দেশে অনেক কথা বলেন। কলেজের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তিনি কথা বলেন। এরপর আমাদের শিকমন্ডলী আমাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। এভাবেই শুরু  হয়ে যায় আমাদের কার্যক্রম। সেন্ট যোসেফে কলেজে ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৩০০। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪টি শাখা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য একটি করে শাখা রয়েছে।

আমাদের কলেজে সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হলো এখানে কোনো ক খ গ শাখা নেই। এখানে শাখা গুলোর নাম কাস III থেকে ও পর্যI বিভিন্ন ধরনের পশু, পাখি, পর্বত এবং গ্রহ নিয়ে। ক্লাসএকাদশে রয়েছে ভেনাস, মার্কারী, জুপিটার, মার্স, স্যাটার্ন এবং ভলকান। এ শাখাগুলোতে কলেজের ছাত্ররা ক্লাসকরে এবং এই ছাত্ররা দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠে  ক্লাস করে  প্লুটো, ফোবোস, ইউরেনাস, আর্থ, নেপচুন এবং ডিবোসে। এই সম্পর্কে আমাদের অধ্যক্ষবলেন যে, এখানে যাতে কেউ কাউকে খারাপ ছাত্র না ভাবতে পারে এর জন্য শাখাগুলোর নাম এরকম।

সেন্ট যোসেফের কলেজ থেকে স্কুলের সুনাম বেশি। প্রায় প্রতি বছরই  ক্লাস III তে ভর্তি পরীক্ষার  মাধ্যমে ১২০ জনকে চান্স দেয়া হয়। এখানে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়াটা অনেকটা কঠিন। স্কুলের রেজাল্ট খুব ভালো। ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ১০৪ জন পরীক্ষা  দিয়ে  ১০৪ জন, ২০০৯ সালে ১২১ জন পরীক্ষা দিয়ে ১১৫ জন এবং ২০১০ সালে ১৫২ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৪৭ জন জিপিএ ৫ পায়। এবার ঢাকা বোর্ডে সেন্ট যোসেফ ষষ্ঠ হয়। কলেজে শতকরা পাশের হার বেশি। প্রতিবছরই সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে প্রায় ২৫০ জন পরীক্ষা  দেয়। প্রায় প্রতিবছরই পাশের হার থাকে শতকরা ৯৭-১০০ পর্যন্ত।

এখানকার শিকমন্ডলী অতি সযত্নে ছাত্রদের শেখান। তাঁদের স্নেহসুলভ আচরণে অনেকেই ভালো রেজাল্ট করে। আমাদের সার্বণিক সহযোগিতায় তাঁরা আমাদের পাশে থাকেন। এখানে ব্যবহারিক বিষয়ে খুবই কড়াকড়ি। সবাইকে ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয় এবং সবাই  প্রত্যেক ব্যবহারিক ক্লাসে তাদের ফেয়ার খাতা জমা দিতে হয়। এখানে  প্রত্যেক   বিষয়ের উপর ২০০ মার্কের পরীক্ষা  হয়। প্রত্যেক বিষয় প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র দুটো মিলিয়ে পড়ানো হয়। প্রতিটি বিষয় এর উপর ১০০ মার্কের ক্লাস টেস্ট হয়। সপ্তাহে দুই দিন রবিবার এবং মঙ্গলবার ক্লাস টেস্ট হয়। প্রত্যেক সিটির নম্বর থাকে ২৫ করে।  তবে ক্লাসটেস্ট এর জন্য সময় থাকে মাত্র  ৪০ মিনিট।

আরেকটা কথা  বলা হয়নি। এখানে শিক ছাত্র এবং পিয়নদের সবাইকে জোসেফাইট বলা হয়। তার মানে হচ্ছে আমরা সবাই জোসেফাইট। এখানে শিক্ষা সম্পূরক বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করানো হয়। বিশেষ করে খেলাধুলাকেন্দ্রিক। আরো রয়েছে ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলার জন্য একটি মাঠ এবং বাস্কেটবল খেলার জন্য একটি বাস্কেট বল গ্রাউন্ড। এবং টেবিল টেনিস খেলার জন্য রয়েছে ১০টি টেবিল টেনিস কোর্ট। এখানে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব যেমন, Science Club, Language Club, Business Club, Computer Club, Natyadal, Cultural forum ইত্যাদি ক্লাব রয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানে সবাই একটা শৃঙখলার  বন্ধনে বাঁধা। শিক থেকে শুরু  করে প্রায় সবাই এই শৃঙখলা ভাঙতে পারে না। একথায় বলা যায়, এই  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা   প্রতিষ্ঠান। এর যাত্রা শুরু  ১৯৫৪ সালে। পরে ১৯৯৯ সালে এটি কলেজ শাখা খোলে। আমি এই কলেজে পড়ে খবুই গর্ববোধ করি। আমি চাই ভবিষ্যতে এই  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি সাফল্য অর্জন করুক। 

অঞ্জনরঞ্জন সরকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকায় দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র



Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.

home
Editor : Probir Bikash Sarker
probirsrkr06@gmail.com

Powerd by Manchitro Publishers, 2010 Copyright © All Rights Reserved.